ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২০২১ সালের মধ্যে দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে: মেহের আফরোজ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৮, সোমবার
২০২১ সালের মধ্যে দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে: মেহের আফরোজ

২০২১ সালের মধ্যে দেশে ১৫ বছরের নিচে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সোমবার সচিবালয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

গত ৭ মার্চ একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ বেড়েছে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের পরিমাণ কমেছে। বিআইডিএস (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ) এর ২০১৭ সালের জরিপে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে বাল্যবিবাহের হার ৪৭ শতাংশ (১৮ বছরের নিচে) অন্যদিকে ১৫ বছরের নিচের বয়সের মেয়েদের বিয়ের হার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের পরিমাণ কমেছে। কেউ প্রমান করতে পারবে না যে দেশে বাল্য বিবাহের সংখ্যা বেড়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ৫২ থেকে বেড়ে ৫৯ শতাংশ হয়েছে। প্রতিবেদনের সোর্স হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের কথা বলা হয়েছে। এই রিপোর্টটি আমি কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারি নাই। আমি ইউনিসেফের ঢাকা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি। তাই আমি বলবো, এই রিপোর্টটি খুবই পুরাতন ডাটার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিবিএস (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) এর ২০১৫ সালের মালটিপল ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী বাংলাদেশের বাল্যবিয়ের পরিমাণ কমেছে। এই জরিপে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে দেশে বাল্যবিয়ের পরিমাণ ছিল ৬৪.১ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২.৩ শতাংশে।

প্রান্তিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দরিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক অসচেতনতার কারণে বাল্যবিয়ে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দরিদ্র জনগোষ্ঠির ১৫ থেকে ১৮বছরের মেয়েদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ভাতা প্রদান করছে সরকার।

বাল্যবিবাহ শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রনয়নসহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউনিসেফ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এডওয়ার্ড বিগবেডার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশে আসলেই বাল্যবিয়ের হার কমেছে। তবে ওই রিপোর্টে যে তথ্যের কথা বলা হয়েছে তা হয়তো অতীতের কয়েক বছরের তথ্যের সমন্বয়ে করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগমসহ বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্টাটিস্টিকস-বিবিএস ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।-বাসস

অমৃতবাজার/শাওন