ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে গর্ভবতী ‘মায়েদের ব্যাংক’ প্রশসংনীয় উদ্যোগ


শাহজাহান আলী বিপাশ, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ১২:০৫ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৯, সোমবার | আপডেট: ১১:৪৬ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৯, সোমবার
ঝিনাইদহে গর্ভবতী ‘মায়েদের ব্যাংক’ প্রশসংনীয় উদ্যোগ

ঝিনাইদহে গর্ভবতী মায়েদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক চিকিৎসক জাহিদ আহমেদের তত্বাবধানে সরকারি উদ্যোগে মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গর্ভবতী মায়েদের হাতে তুলে দিচ্ছে ‘মায়েদের ব্যাংক’।

ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার গর্ভবতী মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্লাস্টিকের এই ব্যাংক। উদ্দেশ্য গর্ভবতী মা প্রসবকালীণ সময়ে মা ও শিশুর চিকিৎসার জন্য যাতে প্রতিদিন কিছু টাকা এই ব্যাংকে জমা রেখে পরবর্তীতে কাজে লাগাতে পারেন। ইতোমধ্যে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই কার্যক্রম জেলাব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

জাহিদ আহমেদ জানান, আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো দরিদ্র। একজন নারী যখন গর্ভবতী হয় তখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় প্রসবকালীণ সময়ে মায়ের অনেক টাকার দরকার হয়। অভাব অনটনের সংসারে গর্ভকালীণ টাকার দরকার হলে পরিবারের লোকজন তেমন এগিয়ে আসতে পারেন না। যার ফলে মা ও শিশু ঝুঁকিতে পড়ে যায়। প্রসবের সময় মাকে সরকারি অথবা বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে হয়। গ্রামের গরীব মা অর্থের অভাবে বাড়িতেই ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করে। সেই চেষ্টা কখনও সফল হয় আবার কখনও বিপদ ডেকে আনে। এই কথা চিন্তা করে তিনি পরিবার পরিকল্পনা অফিসের কর্মীদের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের হাতে একটি করে বড় সাইজের প্লাস্টিকের ব্যাংক তুলে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, একজন গর্ভবতী মা প্রসবকালীণ সময়ে ১০ মাসে যদি প্রতিদিন ১০ টাকা করেও রাখে তাহলে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা। আর ১০ মাসে ওই ব্যাংকে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা জমা পড়বে। সেই টাকা প্রসবকালীণ সময়ে তেনে কাজে লাগাতে পারবেন।

চিকিৎসক জাহিদ আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় ২ হাজার গর্ভবতী মায়ের মাঝে এই ব্যাংক দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অধিকাংশ মা এই ব্যাংকে টাকা রাখাও শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গর্ভকালীণ সময়ে অবশ্যই ৪ বার যেনো স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করান। গর্ভবতী মা যদি নিয়মিত এই ব্যাংকে সঞ্চয় করেন তাহলে তার অনেক কাজে লাগতে পারে।

তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে ঝিনাইদহ জেলার প্রত্যেকটি অঞ্চলে যখনই কোনো গরিব নারী গর্ভবতী হবেন তখন তাকে পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে বড় সাইজের প্লাস্টিকের এই ব্যাংক প্রদান করা হবে।

অমৃতবাজার/আরএইচ