ঢাকা, রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ষকের চেহারা ও পরিচয় ভালোভাবে প্রচার করতে হবে’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ০৯ মার্চ ২০১৯, শনিবার
‘ধর্ষকের চেহারা ও পরিচয় ভালোভাবে প্রচার করতে হবে’

প্রায় শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের কথা শোনা যাচ্ছে। যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যারা এসব কাজ করছে, তারা সমাজের শত্রু। তাদের নামধাম পরিচয় ভালোভাবে প্রচার করা দরকার। নির্যাতিতা নারী নয়, যে ধর্ষক বা নির্যাতনকারী, তার চেহারা এমনভাবে প্রচার করতে হবে যেন সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। তাকে একেবারে সমাজের বাইরে করে দেয়া প্রয়োজন। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

শনিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, সমস্যাটি বিশ্বব্যাপী। উন্নত, সভ্য দেশেও এই সমস্যাটা রয়েছে। এর বিরুদ্ধে আরও জনমত সৃষ্টি করতে হবে। 

শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মের নামে নারীদের ঘরে আটকে রাখা যাবে না। প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নারী বিবি খাদিজা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন একজন নারী। তিনি হলেন বিবি খাদিজা। তিনি একজন ব্যবসায়ীও ছিলেন। তার অধীনে চাকরি করতেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.)। পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, প্রথম মুসলিম বিবি খাদিজা যদি ব্যবসা করতে পারেন তাহলে আজকের মেয়েরা কেন ব্যবসা করতে পারবেন না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে নারী-পুরুষে বৈষম্য কমে এলেও এখনো রয়েছে। শুধু আইন করলেই বৈষম্য দূর হবে না। সমাজে এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। 

তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা আজ অনেক দূর এগিয়েছে। সংসদ সদস্য, বিচারপতি, শিক্ষক, পাইলট, মেজর জেনারেল, পুলিশ, বিমান বাহিনীসহ প্রত্যেকটি স্থানে মেয়েরা কাজ করছে। এ কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, কন্যা শিশু যেন বৈষম্যের শিকার না হয় এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সমাজকে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। সমাজ ও দেশকে কল্যাণময় করতে নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। লেখাপড়ায় বাংলাদেশে আজ ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে। মেয়েরাই সব পেশায় বেশি মনোযোগী। তবে তাই বলে ছেলেদের পিছিয়ে থাকলে চলবে না। আমরা চাই ছেলেরাও এগিয়ে আসুক। 

জাতির পিতা নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

নারীর ক্ষমতায়নের অসামান্য অবদান এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দক্ষ নেতৃত্বের জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সম্মাননাই আমি পাই না কেন, সবই আমার দেশের। আমার সম্মাননা আমি আমার দেশের মা-বোনদের এবং পুরো বিশ্বের সব নির্যাতিতা নারীর নামে উৎসর্গ করছি। 

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন্নাহা। 

অমৃতবাজার/পিকে