ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আত্মপ্রত্যয়ী নারীরাই উদ্যোক্তা হিসেবে সফল


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | আপডেট: ০৪:৪৪ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার
আত্মপ্রত্যয়ী নারীরাই উদ্যোক্তা হিসেবে সফল

জীবনে যে কোন সফল হতে মানুষের দরকার আত্মপ্রত্যয়। দিনের আবর্তনে সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে আজ চাকরি থেকে শুরু করে ব্যবসা ক্ষেত্রেই এগিয়ে আসছে দেশের নারী সমাজ। কয়েক দশক আগেও বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবস্থায় একজন নারী উদ্যেক্তা হওয়া সহজ ছিল না। তখন শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীরাও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে গৃহিনী পেশাকেই সর্বোত্তম হিসেবে বেছে নিত। বড় জোর তারা শিক্ষকতা অথবা চিকিৎসা পেশায় যোগদান করত।

তবে তারপরও থেমে থাকেনি নারীরা। সেই প্রতিকূলতার মাঝেও সেলিমা আহমেদের মত আত্মপ্রত্যয়ী ও অধ্যবসায়ী নারীরা দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে উদ্যেক্তা হয়েছিলেন। বর্তমানে দিন দিন সেই পরিস্থিতির আরও উন্নতির হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারীদের জন্য চাকরি হতে ব্যবসার সকল দ্বার উন্মূক্ত করে দেন।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিওসিসিআই) সভাপতি সেলিমা আহমেদ বলেন “যদিও আমি একটি স্বম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে ব্যবসায় এসেছিলাম এবং আমার স্বামী ছিলেন ব্যবসায়ী তথাপি শুরুর দিকে আমাকে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কিন্তু আমার প্রত্যয়, প্রচেষ্টা, অধ্যাবসায় এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক জ্ঞান আমাকে একজন সফল উদ্যেক্তা করে তুলেছে। বর্তমানে আমি গর্ববোধ করি কারণ আমি অন্যান্য সফল উদ্যেক্তাদের মত দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারী উদ্যেক্তাদের প্রধান সমস্যা হ’ল সামাজিক বাঁধা, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান, ব্যবসায়ীক জ্ঞানের ঘাটতি এবং সর্বোপরি সাহস।

নিটল-নিলয় গ্রুপের সহ-সভাপতি সেলিমা বলেন, ‘যখন আমার স্বামী ও আমি বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি বিক্রয় শুরু করলাম, শুরুতে ক্রেতারা আমাকে বিক্রেতা হিসেবে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারতো না। কিন্তু ছয় বা সাত মাস পর আমি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করি এবং পুরোপুরি ব্যবসায়ি হয়ে যাই।’

তিনি জানান ‘উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনারত অবস্থায় বর্তমানে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমেদের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী নিই। মূলত আমার পরিবার বিশেষত আমার স্বামীর সহায়তায় আমি দেশের একজন সফল উদ্যেক্তা হই।’

দৃঢ় ইচ্ছা ও মানসিক শক্তি একজন নারীকে সকল বাঁধা অতিক্রম করতে সহায়তা কওে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে সেলিমা আহমেদের মতে কিভাবে ব্যবসা শুরু করতে হয়, কিভাবে তা পরিচালনা করতে হয়, অর্থের যোগান সম্পর্কে একজন নারীকে অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে। তবেই তিনি সফল হবেন।

তিনি জানান, তিনি সবসময় বিশ্ব বাণিজ্য সম্পর্কে তথ্য নেন যাতে তার ব্যবসায়ের আর্ন্তজাতিক মান ধরে রাখতে পারে। ‘আমি কখনো অতীত নিয়ে পড়ে থাকিনি, আমি সব সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি’ তিনি মন্তব্য করেন।

সেলিমা আহমেদ ব্যাংক কর্মকর্তা, সমাজ এবং অন্যান্য সকলকে নারীদের উদ্যেক্তা হিসেবে গ্রহণ করতে এবং তাদের প্রয়োজনী আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, উইমেন চেম্বার নারী উদ্যেক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে ৪৭ হাজারেরও বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে যাদের অনেকেই এখন নিজেদের ক্ষেত্রে সফল।

তিনি বলেন, আগামী জুন ২০১৮ তারিখের মধ্যে উইমেন চেম্বার আরও প্রায় নয় হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা করছে।

সেলিমা আহমেদ-এর মত নাইয়ান সেলিনাও সকল বাধাকে পিছনে পেলে এখন একজনা সফল উদ্যেক্তা। তিনি এখন কক্সবাজারে হোটেল ও মুরগীর খামারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

সেলিনা বলেন,‘আমার স্বামী প্রায় ২১ বছর আগে দু’টি ছোট শিশুকে রেখে আমার কাছ থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিতে ১৯৯৫ সালে ১৭,০০০ টাকা দিয়ে মুরগীর খামার করি। নিজের স্বর্ন বিক্রি করে এ টাকা সংগ্রহ করেছিলাম।’

ব্যবসায়ের শুরুতে আমি আর্থিক সমস্যায় পরি কারণ ব্যাংকগুলো মুরুগীর খামারে ঋণ দিতে চাইছিল না। পরবর্তীতে কর্মসংস্থান ব্যাংক আমাকে ৪৫,০০০ হাজার টাকা দেয়।।
আমি এখন পুরোপুরি একজন ব্যবসায়ি এবং অনেকের মত আমিও ভ্যাট ও টেক্স দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছি। অনেক সংগঠন আমার সফলতার স্বীকৃতি সরূপ আমাকে পুরস্কৃত করেছে।

অমৃতবাজার/মাসুদ