ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

টেকসই উন্নয়নের জন্য লিঙ্গ সমতা আবশ্যক


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১২ মে ২০১৭, শুক্রবার
টেকসই উন্নয়নের জন্য লিঙ্গ সমতা আবশ্যক পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে নারী ‌শ্রমিকরা

কৃষি থেকে রাজনীতি, সকল ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নসহ জাতীয় ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

উন্নয়ন কর্মকান্ডে মূলধারায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমান অধিকার অপরিহার্য। কেননা, নারীর ক্ষমতায়ন হলো লিঙ্গ সমতার প্রতিফলন, যা দেশের অগ্রগতি, মধ্যম আয়ের অবস্থা এবং উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার অগ্রদূত।

বাংলাদেশে এখন নারীরা সব ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে করছে। কেউ ব্যাংকার, কেউ তৈরি পোশাক শ্রমিক, কেউবা শিক্ষীকা, চিকিৎসক, এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলা কিন্তু দেশকে আরও অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সাউথ ইস্ট ব্যাংকের সিনিয়র সহকারী সহ-সভাপতি মাহমুদা বেগম, যিনি তার শাখায় ৮ জন মহিলা কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচালনা করেন। তারা ১ হাজার ২৮০ জন গ্রাহকের সাথে দৈনন্দিন লেনদেনসহ অন্যান্য কাজ করছেন। নারীর ক্ষমতায়নের পথে এটি একটি উদাহরণ।

বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে ব্যাংকের ধানমন্ডি মহিলা শাখার ব্যবস্থাপক মাহমুদা বেগম বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন আমি সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ট্রেইনি সহকারী অফিসার হিসেবে যোগদান করি, তখন দেখলাম দীর্ঘ সময় অফিস করার কারণে মাত্র কিছু সংখ্যক নারী ব্যাংকের চাকরিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

তিনি বলেন, ‘আমার পিতা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আমাকে এই পেশাটি গ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন এবং এখন আমি একজন ব্যাংকার হিসেবে গর্ববোধ করি।’মাহমুদা বেগমের মতো, স্বামী পরিত্যক্ত নারী সেলিনা একজন উদ্যোক্তা হয়ে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেন ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর যথোপযুক্তভাবে প্রদান করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দু’সন্তানের জননী সেলিনা এখন সৈকত শহর কক্সবাজারে একটি হোটেল এবং পোলট্রির ব্যবসা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অলংকার ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে ১৯৯৫ সালে একটি ছোট পোল্ট্রি খামারের ব্যবসা শুরু করি এবং আমার জীবন-যুদ্ধের সংগ্রাম শুরু এখানেই।’ তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে ও দু’সন্তানকে রেখে ২১ বছর আগে পালিয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি শুরুতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। এরমধ্যে প্রধান সমস্যা ছিল অর্থ সংকট। পোল্ট্রি ফার্মের জন্য ব্যাংকগুলো আমাকে টাকা ধার দিতে সম্মত ছিল না। শেষমেষ, আমার ব্যবসা সম্প্রসারণে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি যা আমার জীবনের সন্ধিক্ষণ।

অন্যান্য অনেক মেয়েদের মতো সুলতানা পপিকেও সামাজিক সমালোচনা ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে রংধনু একাডেমী, একটি ব্লক এবং বুটিক ট্রেনিং সেন্টার চালু করেছেন, যেখানে মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে শুধুমাত্র ৩৪ শতাংশ নারী শ্রমশক্তি অবদান রাখছে। তিনি বলেন, যদি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ বৃদ্ধি হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
ব্যাংকিং সেক্টরে আনিস এ খান বলেন, নারী ব্যাংকারদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কারণ তারা তাদের চাকরির প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক এবং তারা অফিসের সময়সূচি সঠিকভাবে মেনে চলেন। ‘এমনকি হরতালের দিনেও (অবরোধ) মহিলা ব্যাংকাররা অফিসে আসেন।’

যুব উন্নয়র অধিদফতরের (ডিওয়াইডি) মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম বলেন, তার বিভাগ যুবদের বিশেষ করে নারীদের স্বনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ডিওয়াইডি’ ইতোমধ্যে জুলাই ২০১৬ পর্যন্ত ৪৮ লাখ যুবদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের মধ্যে ২০ লাখ যুবক আত্মনির্ভরশীল হয়েছে।’

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডিাস্ট্রিজ (বিডব্লিউসিসিআই)-এর সভাপতি সেলিমা আহম্মদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া বাংলাদেশ এসডিজি অর্জন করতে পারে না। কারণ লিঙ্গ সমতা ১৭টি লক্ষ্যের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব পরিবেশ অবশ্যই প্রয়োজন।তিনি বলেন ‘বিডব্লিসিসিআই’ নারী উদোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে
যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে এই চেম্বার সারাদেশের ১শ’২০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নারীকে প্রশিক্ষন দিয়েছে এবং আরো ৯ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দিবে। এদের অনেকেই নিজ নিজ পেশায় সাফল্য অর্জন করেছে। বাসস

অমৃতবাজার/সাইফুল

Loading...