ঢাকা, বুধবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ | ১১ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

দেশের রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা


বাসস

প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৪৬ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার
দেশের রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা

নারীর ক্ষমতায়ন একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরুষের তুলনায় নারীদের সার্বিক অংশগ্রহণ কম হলেও এ সংখ্যা দিন-দিন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিষয়টি পরিস্কার ভাবে প্রতিয়মান হয়েছে।

সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪২ জন, জাতীয় পার্টির ছয়জন এবং জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে দুই জন। এর বাইরে চলতি সংসদে ২২ জন নারী-এমপি রয়েছেন, যারা নির্বাচিত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, জাতীয় পার্টির তিনজন ও জাসদের একজন।

এছাড়াও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ সকল ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে। এখন অনেক মন্ত্রণালয়ের সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন জোট ও দলের মোট ৫৫ জন নারী সরাসরি ভোট যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয় লাভ করেছেন ১৯ জন। নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ সংসদ উপনেতা, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী সবাই নারী ছিলেন।

বেশ কিছু দেশে সরকার প্রধান কিংবা প্রধান বিরোধী দলের প্রধান নারী। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র দেশ যেখানে সরকারি ও বিরোধী দু’দলের প্রধান এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী।

২০০৮ সালে দেশের সব রাজনৈতিক দলের মত নিয়ে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর সে অনুযায়ী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ২০০৮ জারি হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারীকে রাখা হবে। আদেশ জারির পর গত ৮ বছরে দলগুলোর নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির হার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ।

এবছর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৫ জন স্থান পেয়েছেন। এর আগে ২০১২ সালের গঠিত কমিটিতে ৭৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিসহ ১১ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবলির সদস্যপদ-এর (৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ক্রমান্বয়ে পূরণের লক্ষ্যে বাংরাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদসহ দলের সকল স্তরের কমিটিতে নূন্যতম ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে। ’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দ্রিরা বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় নারী নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। গত কয়েকটি কমিটিতে নারী নেতৃত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের নারী বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আশা করছি ২০২০ সালের আগেই সব কমিটিতেই ৩৩ শতাংশ নারী থাকবে।

এদিকে বিএনপির ৫০২ সদস্যের কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মাত্র ৭৪টি পদে নারী নেত্রীদের রাখা হয়েছে। শতকরা হিসেবে এটা মাত্র ১২ শতাংশ।

এর আগে ৩৮৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে বেগম সারোয়ারী রহমানই একমাত্র নারী ছিলেন। ১৮ সদস্যের ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন রাবেয়া চৌধুরী ও সেলিমা রহমান। ১২১ সদস্যের কর্মকর্তার মধ্যে সম্পাদক পদে ছিলেন ৫ জন। ২৬৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটির সদস্যপদে গুটিকয় নারী প্রতিনিধি রয়েছেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ‘২০২০ সালের মধ্যে সকল কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা শতকরা ৩৩ ভাগে উন্নীত করতে হবে।
বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নূর-এ-আরা সাফা বলেন, আস্তে-আস্তে বিএনপির সব কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ সালের আগে বিএনপির সব কমিটিতে ৩৩ শাতাংশ নারীরা পদ পাবেন।

জাতীয় পার্টির ২৯৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ৪১ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মধ্যে চারজন এবং নির্বাহী কমিটির ৯৯ সদস্যর মধ্যে ছয়জন নারী। নারী সদস্যের হার ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য হতে বলা যায় নব্বয়ের দশকে নারী প্রার্থীতার সংখ্যা আশির দশকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ এর নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, জুন ১৯৯৬ এর নির্বাচনে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশে। অক্টোবর ২০০১ সালে এর অনুপাত প্রায় একই অর্থাৎ ২ শতাংশে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৫ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।বাসস।

অমৃতবাজার/আরএস