ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তামিম-পেরেরার নৈপুণ্যে ঢাকার প্রথম জয়


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৬ এএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
তামিম-পেরেরার নৈপুণ্যে ঢাকার প্রথম জয়

 

নিজেকে ফিরে পাওয়ার ম্যাচে ফিফটি তুলে নেন তামিম। কিন্তু ব্যাটে-বলে রীতিমত আগুন ঝরিয়ে টাইগার ওপেনারকে ছাপিয়ে আলোচনায় শ্রীলঙ্কান রিক্রুট থিসারা পেরেরা। লঙ্কান অলরাউণ্ডারের অনবদ্য পারফরম্যান্সে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে জয়ের দেখা পেল ঢাকা প্লাটুন।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে তামিমের ফিফটি আর পেরেরার ঝড়ে কুমিল্লাকে ১৮১ রানের লক্ষ্য দেয় ঢাকা। জয়ের জন্য ব্যাট করতে নেমে সেই পেরেরার বোলিং তোপের মুখে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান তুলতে পারে কুমিল্লা। ফলে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া ওয়ারিয়র্সরা হারে ২০ রানের ব্যবধানে।

ঢাকার জয়ে ফেরার দিনে গ্যালারী বেশ তৃপ্তই ছিল- তা বলা বাহুল্য। বিপিএলের অনাগ্রহ কাটিয়ে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বেশ ভালোই দর্শক সমাগম হয়। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি দিন বলেই হয়তো। মাঠে আসা বেশ কয়েক হাজার দর্শককে হতাশ হতে হয়নি আজ। গ্যালারীতে বসে চার-ছক্কা দেখার যে প্রত্যাশা সেটা ভালোভাবেই মিটিয়েছেন তামিম ইকবাল, থিসারা পেরেরা।

পরে বল হাতেও গ্যালারী মাতিয়েছেন লঙ্কান অলরাউন্ডার। কুমিল্লা ১৮১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নামলে ৩০ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পেরেরা। তাকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা। যাতে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের বেশি তুলতে পারেনি কুমিল্লা।

দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার ডেভিড মালান। ৪০ রান করেছেন প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যান। এছাড়া ২৭ বলে ১ চার ২ ছয়ে ৩৭ রান করেছেন তরুণ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং সৌম্যের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান।

এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। পেরেরার তাণ্ডবে শেষ ৬ ওভারে আসে ৮৫ রান। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুতে অবশ্য আভাসটা ছিল অন্য রকম। ম্যাচের প্রথম বলেই এনামুল হককে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুজিব উর রহমান। প্রথম ৬ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ঢাকা তোলে মাত্র ২৮ রান।

পাওয়ার প্লেতে ১৫ বলে ৭ রান করা তামিম এরপর হয়ে ওঠেন আক্রমণাত্মক। এরমধ্যে সৌম্য সরকার ক্যাচ না ছাড়লে অবশ্য বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ৪ রানেই। পরে একাদশ ওভারে সানজামুল ইসলামকে হাঁকান চার-ছক্কা।

পরে জীবন পান আরও একবার। ত্রয়োদশ ওভারে ডেভিড মালান বাউন্ডারিতে তার ক্যাচ নিলেও শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারেননি, পা লেগে যায় বাউণ্ডারিতে। যাতে সেই ওভারেই ৪০ বলে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন দেশ সেরা ওপেনার। 

তৃতীয় উইকেটে লরি ইভান্সের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন তামিম। আক্রমণে এসে পঞ্চদশ ওভারে ইভান্সকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শানাকা। ২ চারে ২৪ বলে ২৩ রান করে আউট হন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

ইভান্স আউট হলেও ওই ওভার থেকে মোট ১৫ রান তুলে নেয় ঢাকা। আবু হায়দারের করা পরের ওভারটা ছিল আরও খরুচে। নিজের প্রথম ওভারেই রনির ওপর চড়াও হন পেরেরা। বাঁহাতি পেসারকে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান এই শ্রীলঙ্কান।

এরপর নিজের শেষ ওভারে এসে তামিমকে ফেরান শানাকা। ৫৩ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৪ রান করেন তামিম। ১৭ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে যান পেরেরা। সাতটি চারের সঙ্গে তার ইনিংসে আছে ১টি ছক্কা।

৩৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে কুমিল্লার সেরা বোলার সৌম্য। ২ উইকেট পান অধিনায়ক শানাকাও। তবে তাকে গুণতে হয়েছে ৪৮ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ঢাকা প্লাটুন: ২০ ওভারে ১৮০/৭ (এনামুল ০, তামিম ৭৪, মেহেদি ১২, ইভান্স ২৩, থিসারা ৪২*, আফ্রিদি ৪, ওয়াহাব ০, মাশরাফি ৯, হাসান; মুজিব ৪-০-১৫-১, আল আমিন ৪-০-২৯-০, আবু হায়দার ৩-০-২৯-১, শানাকা ৪-০-৪৮-২, সৌম্য ৪-০-৩৯-২, সানজামুল ১-০-১৫-০)।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১৬০/৯ (রাজাপাকসে ২৯, ইয়াসির ৩, সৌম্য ৩৫, মালান ৪০, সাব্বির ৪, শানাকা ০, মাহিদুল ৩৭, আবু হায়দার ০, সানজামুল ১, মুজিব ৪*, আল আমিন ২*; মাশরাফি ৩-০-২৭-১, মেহেদি ৪-০-২৮-১, শুভাগত ১-০-১৪-০, হাসান ২-০-১৭-০, ওয়াহাব ৩-০-১৬-২, আফ্রিদি ৩-০-২৪-০, থিসারা ৪-০-৩০-৫ )।

ফল: ঢাকা প্লাটুন ২০ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: থিসারা পেরেরা

অমৃতবাজার/এএস