ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গাড়ি দুর্ঘটনায় নিকোলাস পুরান, শেষ হতে চলছিলো ক্যারিয়ার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
গাড়ি দুর্ঘটনায় নিকোলাস পুরান, শেষ হতে চলছিলো ক্যারিয়ার

আমাগীকাল শুক্রবার (১৪ জুন) স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মাঠে উইন্ডিজ দল। এই দলে আছেন নিকোলাস পুরান। ২০১৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি দিয়ে। প্রায় চার বছর পার হয়েছে তার। তবে চার বছর আগেও তার দুই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোরই কথা ছিলো না, ক্রিকেট খেলা তো দূরের। ২০১৫ সালের ভয়াবহ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ জুন) স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে নিজের সে দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্নণা দিয়েছেন পুরান নিজেই।

পুরানের বর্ণনা দেওয়া সেই ঘটনা হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

পুরান লেখেন, ‘আমি অনুশীলন থেকে বাসায় ফিরছিলাম, হঠাৎ কেউ একজন আমাকে ধাক্কা দেয়। এর থেকে বেশি আমি আর কিছু মনে করতে পারি না। আমি যখন জেগে উঠি তখন আমার গারি ভেঙ্গেচুরে একাকার। এর পর অ্যাম্বুলেন্স আসে ও আমাকে সেখান থেকে বের করে। আমার প্রচণ্ড ব্যথা লাগছিলো।আমি শুধু তাদের কাছে চাইছিলাম আমাকে বের করুক।’

‘পরের দিন যখন আমি জেগে উঠি আমার দুই পা-ই অবশ হয়ে ছিলো। তারা নড়ছিলো না। আমি তাদের অনুভব করতে পারছিলাম না। ১২টা দিন আমি শুধু পেইনকিলার খেয়ে হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তার আমাকে বললো, সে সঠিক জানে না আমি আর ক্রিকেট খেলতে পারবো কিনা! সে বলতে পারেনি আমি আর কোনোদিন দৌড়াতে পারবো কিনা। আমার রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছিলো। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। আমি শুধু প্রার্থণা করেছি যা আমাকে শক্তি দিয়েছে।’

সে সময় পুরানের দুটি অস্ত্রোপচারের প্রথমটিতে তার বাম হাটুর ভাঙা প্ল্যাটিলা (বাটি) ঠিক করা হয়। দ্বিতীয়টিতে ডান পায়ের গোড়ালি ঠিক করে বসানো হয় যা একেবারেই বিচ্ছিন্ন ছিলো। বাম পাশের পুরোটাই নাড়ানো সম্ভব ছিলো না যা তাকে ছয় মাসের জন্য হুইল চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে এটা আমার জন্য ভয়ংকর ছিলো। থেরাপি নেওয়ায়ও সহজ ছিলো না। প্রথমত আমার পেশি বেশ দুর্বল ছিলো। তাই আমি আমার হাঁটু, গড়ালি কিছুতেই ভর দিতে পারছিলাম না। ফিজিও চেষ্টা করলেও আমি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতাম। তবে এই দুর্ঘটনা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো ক্রিকেটার বানিয়েছে।’

অমৃতবাজার/পিকে