ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক থেকে শতাব্দীর সেরা বোলার আব্বাস


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার
শ্রমিক থেকে শতাব্দীর সেরা বোলার আব্বাস

সীমিত গতি আর সুইংয়ে আব্বাস লাল বলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই টেস্টে ১৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে শেষ টেস্ট দুই ইনিংসে নিয়েছেন ১০ উইকেট। তার ওই ১০ উইকেটে দারুণ কিছু রেকর্ডের মালিক হয়ে গেছেন তিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শতাব্দির সেরা বোলারে হয়ে গেছেন মোহাম্মদ আব্বাস।

গেল বছরের ২১ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হয় আব্বাসের। এরপর থেকেই এ ফরম্যাটে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলেছেন এ ডানহাতি পেসার। ১৫.৬৪ গড়ে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট।

এক পঞ্জিকাবর্ষে গেল ১০০ বছরে সবচেয়ে কম গড়ে ৫০ উইকেট নেয়া প্রথম বোলার আব্বাস। সবসময়ের বিবেচনায় চতুর্থ সেরা। এ কীর্তি গড়তে ১৯ ইনিংসে ২২৪৪টি বৈধ ডেলিভারি লেগেছে তার। সেই পথে খরচ করেছেন ৯২৩ রান। ১৭.৯৭ বোলিং গড় নিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার বার্ট আয়রনমঙ্গার। ইংল্যান্ড কিংবদন্তি পেসার ফ্রাঙ্ক টাইসন ১৮.৫৬ গড় নিয়ে তৃতীয়।

টেস্ট আঙিনায় এ কদিনের পথচলায় আরো দুটি কীর্তি গড়েছেন আব্বাস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে তার শিকার ১৭ উইকেট। কোনো সিরিজে কমপক্ষে ১৫ উইকেট নেয়া পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে তার গড়ই সবচেয়ে ভালো-১০.৫৮। এছাড়া গেল ১০০ বছরে অজিদের বিপক্ষে সিরিজে কোনো পেসারের সেরা বোলিং গড়ও এটি।

যিনি এত কাণ্ড ঘটিয়েছেন তার উঠে আসার পথটা মোটেও মসৃণ নয়। মায়াপুরীর গল্প লিখেই উঠে এসেছেন আব্বাস। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝাটকি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেই ছোট্টবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার টান ছিল অসীম। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে ছেলে হওয়ায় কৈশোরেই নেমে পড়তে হয় কাজে। ঢালাইকর হিসেবে চামড়ার কারখানায় কাজ করেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, এরপর ভূমি অধিদপ্তরের অধীনে আদালতে জমি নিবন্ধন কার্যালয়ে অফিস বয়ের কাজও করেন আব্বাস। এই কাজে থাকতে নিজ জেলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পান তিনি। সেই টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরেকটি বাধার সম্মুখীন হন সুইং মাস্টার। ম্যাচে খেলার জন্য দলকে বেছে নিতে হতো সচিবের ছেলে অথবা তাকে। শেষ পর্যন্ত টস করে সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়। তাতে জিতে যান ১৯ বছরের বিস্ময়। সেই ম্যাচে ৫ উইকেট নেন পাঞ্জাবের তরুণ। গোটা টুর্নামেন্টে বিস্ময় উপহার দিয়ে সুযোগ পেয়ে যান আঞ্চলিক দলে। আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে।

অমৃতবাজার/সুজন