ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ জেতা হয়নি যে বিশ্বতারকাদের


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
বিশ্বকাপ জেতা হয়নি যে বিশ্বতারকাদের

ফুটবল তাদের ক্যারিয়ার ছুটে চলেছেন দুর্বার গতিতে, হয়েছেন ফুটবলের মহামানব। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে তাদের চলার পথটা স্তব্ধ করে দিয়েছে একটি ব্যর্থতা। তা হলো, কখনোই বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাদের। নিন্মে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি এমন বিশ্বতারকাদের গল্প বর্ননা করা হল:

লিওনেল মেসি: ৩২ বছর হলো কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা যে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে তা ম্যারাডোনার হাত ধরে। এরপর আর একজন ম্যারাডোনার সন্ধান পায়নি সাদা-আকাশি জার্সির দেশটি। যদিও সর্বশেষ ব্রাজিল বিশ্বকাপের চূড়ায় এসে জার্মানের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। আর সে কারণে ১১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একবারের জন্যও শিরোপায় চুমু দেয়া হয়নি মেসির।

জিকো: আর্থার আন্তুনেস কোইম্ব্রা এর ডাক নাম জিকো। ৫ ফুট সাড়ে সাত ইঞ্চি উচ্চতার এই এটাকিং মিডফিল্ডারকে পেলে পরবর্তী ব্রাজিলের ফুটবল রাজা হিসেবে গণ্য করা হত। অনেকেই তার মাঝে পেলের ছায়া দেখতে পেতেন। এজন্য তাকে ডাকা হতো ‘দ্যা হোয়াইট পেলে’। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, জিকো তিনবার দক্ষিণ আমেরিকার ‘প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’, এমনকি একবার ‘ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার’ হলেও, ব্রাজিলকে একবারও বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেননি।

রাউল: রাউল স্প্যানিশ দলের অধিনায়ক ছিলেন৷ ছিলেন বড় তারকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার দল বড় ট্রফি জিতেছে রাউল অবসর নেয়ার দু’বছর পর৷ ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন তিনি। এর ঠিক দু’বছর পর ইউরোপীয়ান কাপ জেতে স্পেন, সেটা ছিল ১৯৬৪ সালের পর প্রথম শিরোপা জয়।

ইউসেবিও: ১৯৬৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বিশ্বখ্যাতি পাওয়া মোনালিসার সেই চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির উত্তরসূরীরা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া আসরটিতে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েও পর্তুগীজ তারকা ইউসেবির কারিকুরিতে বোকা বনে যায় ফুটবলবিশ্ব। সেবার গ্রুপ-দুইয়ে থাকা পর্তুগাল সব বাধা টপকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে । আর সেমিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। যদিও ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে বিতর্ক। কথিত আছে, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ খ্যাত ইউসেবিওকে রুখতে সেবার মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে স্বাগতিকরা।

আর ওটাই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। বিদায় নেয়ার মুর্হুতে ইউসেবিও দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘আমি ছিলাম বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। দুনিয়ার সেরা গোলদাতা। আমি সব করেছি, পারিনি শুধু বিশ্বকাপটা জিততে।’

ফেরেঙ্ক পুসকাস: ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেক্সিকোর আন্তোনিও কারভাহাল খেলেছেন পাঁচটি বিশ্বকাপ। অথচ ১৭ বছর ব্যাপ্ত ফুটবলার জীবনে ফুটবল তারকা পুসকাস অংশগ্রহণ করেন মাত্র দুটি বিশ্বকাপে। তাও আবার দুটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন দুটি ভিন্ন দলের হয়ে।

মজার ব্যাপার হলো, পঞ্চাশের দশকে হাঙ্গেরির ফুটবল টিমকে বিবেচনা করা হতো অন্যতম সেরা দল হিসেবে। ফেরেঙ্ক পুসকাস তখন সেদলের মধ্যমণি৷ টানা চারবছর দলটি কিনা কোন ম্যাচ হারেনি৷ অথচ ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় হাঙ্গেরীয়রা, ফলে পুশকাসের কাছে বিশ্বকাপ অধরাই থেকে যায়।



<p style=ইয়োহান ক্রইফ: মেসির মতোই মন্দভাগ্যের অধিকারী ছিলেন ইয়োহান ক্রইফ৷ টানা ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল অবধি পৌঁছালেও শিরোপা জিততে পারেনি তার দেশ৷ অথচ ডাচ এই তারকাকে অনেকেই বিবেচনা করতেন সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। এজ্যাক্স এবং এফসি বার্সেলোনার হয়ে মাঠে অনেক সফল ছিলেন তিনি।

অমৃতবাজার/সুজন