ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া বিশ্বকাপে চোখ রাখুন কয়েকজন কোচের উপর


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩০ পিএম, ২২ মে ২০১৮, মঙ্গলবার
রাশিয়া বিশ্বকাপে চোখ রাখুন কয়েকজন কোচের উপর

ফুটবলে মাঠে খেলোয়ারেরা কিভাবে খেলাবেন, প্রতিপক্ষকে নিয়ে কিভাবে ছক কষবেন, এসবের সঙ্গে প্রত্যাশার চাপটাও সামলাতে হয় কোচকে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের কথা। সারা বছর লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো,নেইমাররা যেমন আলোচনায় থাকেন, তেমনি আলোচনায় থাকেন হোসে মোরিনহো, পেপ গার্দিওলা, জিনেদিন জিদানরা। বিশ্বকাপে তেমনই আলোচনায় থাকবেন কয়েকজন কোচ। এমন সেরা কয়েকজনকে দেখে নেওয়া যাক।

জুলেন লোপেতেগুই : (স্পেন)

২০১৬ ইউরোর পর ভিসেন্তে দেল বস্কের উত্তরসূরী হন জুলেন লোপেতেগুই। সেবার টানা তিনটি ইউরো জয়ের মিশনে ফ্রান্সে পাড়ি দিয়েছিল স্পেন। কিন্তু গ্রুপপর্বে ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালে ইউরো উপহার দিয়েও ব্যর্থতার দায়ে সরে দাঁড়ান দেল বস্ক। স্প্যানিশ ডাগ আউটে চাপটা কেমন লোপেতেগুইর জন্য দেল বস্কের উদাহরণই তো যথেষ্ট। দেল বস্কের বিদায়ের পর লোপেতেগুই স্পেনের হয়ে ২৪ মাস পার করলেন। এবার আসল পরীক্ষা এই ৫১ বছর বয়সীর।

তিতে: (ব্রাজিল)

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ভরাডুবি হলে বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক দুঙ্গাকে নতুন কোচের দায়িত্ব দেওয়া। দুই বছর পর কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল হতাশ করলে সরিয়ে দেওয়া হয় দুঙ্গাকে। নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিতে। এই কোচের সাফল্যের কথা সবার জানা। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দুর্দান্ত সময় পার করে ব্রাজিল। তিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেন বদলে যাওয়া এক দল ব্রাজিল। রাশিয়ায় যে দল পাড়ি দিচ্ছে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জয়ের দাবি নিয়ে।

দিদিয়ের দেশম: (ফ্রান্স)

ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক এই ফুটবলার ২০১২ সাল থেকে নিজ দেশের ডাগ আউট সামলাচ্ছেন। চার বছর আগে নিজ দেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবার অবশ্য তার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ একঝাঁক সম্ভাবনাময় তরুণ তারকায়। দেশমের সামনে তাই ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর প্রথম অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার বড় সুযোগ। আর তার উল্টো পিঠে চাপ তো রয়েছেই।

হোর্হে সাম্পাওলি: (আর্জেন্টিনা)

ক্লাবের হয়ে সবকিছু জেতা হলেও দেশের পক্ষে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি লিওনেল মেসির। ক্ষুদে জাদুকরের জন্য আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার এটিই শেষ সুযোগ মনে করছেন সবাই। ৫৮ বছর বয়সী সাম্পাওলিকেও তাই মরিয়া হয়ে থাকতে হবে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে। পুরো বিশ্বের চাপটা থাকবে আর্জেন্টিনার উপর। কিন্তু খুড়িয়ে খুড়িয়ে তার দল যখন মূল পর্বের টিকেট কেটেছে, তখন সেই সাহস যে পান না অনেকেই। ২০১৭ সালে আর্জেন্টাইনদের দায়িত্ব নেওয়া সাম্পাওলি কি কঠিন কাজটা করে দেখাতে পারবেন।

রবার্তো মার্তিনেজ: (বেলজিয়াম)

৪৪ বছর বয়সী স্প্যানিয়ার্ড কোচ বেলজিয়ামের দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬ সালে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থেকে বিশ্বকাপে পাড়ি দিচ্ছে বেলজিয়াম। যে দলে আবার রয়েছে বেশ ক’জন সম্ভাবনাময় তারকা, যারা আলো ছড়িয়ে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নিতে পারেন। বাছাই পর্বে মার্তিনেজের বেলজিয়াম ছিল অপরাজিত। তবে যে দলটির বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল, তাদেরকে ট্রফি উপহার দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ মার্তিনেজের জন্য।

অমৃতবাজার/সুজন