ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

১০৯তম বলীখেলার আসর বুধবার


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার
১০৯তম বলীখেলার আসর বুধবার

শতবর্ষী পুরানো চট্টগ্রামের সার্বজনীন এক উৎসবের নাম। বাংলা পঞ্জিকার বৈশাখ মাসের ১২ তারিখে প্রতি বছরই ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে এই আয়োজন করা হয়। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ আর বাঙালি যুবকদের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলা এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে এই বলীখেলার আয়োজন করেছিলেন। সেই থেকে এটি জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিত।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের ১০৯তম বলীখেলার আসর বসছে বুধবার (২৫ এপ্রিল)। বলীখেলাকে ঘিরে সোমবার থেকেই সেখানে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। বলীখেলার মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি।

লালদিঘীর মাঠে এরই মধ্যে বলীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশাল রিং। রবিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন মেলা আয়োজক কমিটি।

জব্বারের বলীখেলাকে ঘিরেই প্রতিবছরের ন্যায় এবারও লালদিঘী মাঠের আশেপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আজ থেকে বসেছে গ্রামীণ লোকজ মেলা। যার পরিসর ছড়িয়ে পড়েছে আন্দরকিল্লা, কেসিদে রোড, কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত। শনিবার থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা নিয়ে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠের আশেপাশে তাদের জায়গা নির্ধারণ করে নিয়েছেন।

জব্বারের বলীখেলার ১০৯তম আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জন বলী নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শতাধিক বলী এবরাও অংশগ্রহণ করবেন। গেলো বছরও ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১০৮ তম আসরের কক্সবাজার, টেকনাফ, রামু চকরিয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক বলী অংশ নেন। ১০৮ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রামুর দিদার বলী। প্রায় ১৭ মিনিট লড়াই করে শামছু বলীকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেন তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানান, দেশের কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ মেলা। নিত্যব্যবহার্য ও গৃহস্থালি পণ্যের প্রতিবছরের চাহিদা এ মেলাতেই মেটান চট্টগ্রামের গৃহিণীরা।

জব্বারের বলী খেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী জানান, বলী খেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বলী খেলার মূল আয়োজন রিং পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেছে।

আয়োজক কমিটির সচিব শওকত আনোয়ার বাদল জানান, খেলা ও মেলার নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অমৃতবাজার/দিদারুল/সুজন