ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকাকে হারালো রংপুর


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:২১ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকাকে হারালো রংপুর

১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ওভারে ১০ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার। পোলার্ড তৃতীয় বলে ছক্কা মারলেন ঠিকই। কিন্তু শেষ করে আসতে পারলেন না। শেষ ৩ বলে প্রয়োজন ৪ রান। প্রথম বলটি করার আগে অনেকক্ষণ সময় নিলেন বোলার থিসারা পেরেরা। অধিনায়ক মাশরাফি এসে বুদ্ধি-পরামর্শ দিলেন। ফিল্ডিং সেট করলেন। এরই ফাঁকে বল পরিবর্তন করা হলো। টান টান উত্তেজনা।

পরের দলটিও ফুলটস দিলেন পেরেরা। নিচু হয়ে এসেছিল বলটি। ইয়র্কার দেয়ার চেষ্টা। বল ব্যাটে আসলো। কিন্তু ছক্কা হলো না। ডিপ মিড উইকেটে বল চলে গেলো। নিশ্চিত সিঙ্গেল নেয়ার মত। পোলার্ড অপর প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ আমিরকে থামতে ইশারা করলেন। রান নিলেন না। তার ইচ্ছা, কোনো একটি বিগ শট খেলে দলকে জিতিয়ে দেবেন।

ওভারের পঞ্চম বলটি ফুল লেন্থের ইয়র্কার। পোলার্ড তখন বড় শট খেলতে মরিয়া। নিচু হয় আসা বলটি ব্যাট ফাঁকি দিয়ে গিয়ে মিডল স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিল। ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের আশা তখনই শেষ।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসলেন আবু হায়দার রনি। ১ বলে দরকার ৪ রান। আরও একটি ইয়র্কার দিলেন পেরেরা। মাত্র ৩ রানের অসাধারণ এক জয় পেয়ে গেলো রংপুর রাইডার্স। নিশ্চিত হারতে থাকা ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলো মাশরাফির রংপুর।

টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাককালাম-গেইলদের ব্যাটিংয়ে পাঠান সাকিব। গত ম্যাচে প্রথম রানের জন্য ১২ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ক্রিস গেইলকে। মঙ্গলবার প্রথম বলেই পেয়ে যান ২ রান। ধারণা করা যাচ্ছিল, আজ ক্রিস গেইল আরো বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেবেন। কথা রাখেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব।

২৮ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন গেইল। গেইল একপ্রান্তে খেলে গেলেও অন্যপ্রান্তে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। গেইল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান রংপুরের হয়ে লড়াই করতে পারেননি। দৃষ্টিকটু ছিল স্থানীয় ক্রিকেটারদের ব্যাটিং! মোসাদ্দেকের বলে গেইল আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত রংপুরের রান ছিল ৭ ওভারে ৭১, রান রেট ১০.১৪। সেখানে গেইল আউট হওয়ার পর বাকি ১৩ ওভারে রংপুর স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে মাত্র ৭১। রানরেট ১০.১৪ থেকে এক লাফে নেমে যায় ৭.১৫-এ।

গেইল কথা রাখলেও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ছিলেন নিষ্প্রভ। আফ্রিদির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮ বলে করেন ৬ রান। গেইলের তাণ্ডবের পর জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ মিঠুন ও শাহরিয়ার নাফীস। কিন্তু তাদের ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, এটা ২০ ওভারের ম্যাচ! পাঁচ উইকেট পাওয়া সাকিবের প্রথম শিকারে পরিণত হওয়ার আগে শাহরিয়ার ৯ বলে করেন ৯ রান। ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ওপরে তুলে আনেন মাশরাফি। কিন্তু ১ চার ও ১ ছয়ে আটকা অধিনায়কের ইনিংস। ১১ বলে ১৫ রান করে মাশরাফি আউট হন আফ্রিদির বলে। মিঠুন রান করলেও ছিল না কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। ২৬ বলে ২২ রান করে সাকিবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। এরপর থিসারা পেরেরা (১৫) ও রবি বোপারা (১২) বাদে কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। দীর্ঘদেহী জিয়াউর রহমান ৯ বল খেলে করেন ৪ রান।

সাকিব তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৫ উইকেটের স্বাদ পান। শেষ ওভারেই নেন ৩ উইকেট। রংপুরের লেজটা গুঁড়িয়ে দিতে সাকিবের অনবদ্য বোলিংয়ের খুব প্রয়োজন ছিল। ১৬ রানে ৫ উইকেট নেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান

Loading...