ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রূপকথার নেপালের ক্রিকেট বিশ্বে জাগরণ


সাদমান সাকিব অর্নব

প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার | আপডেট: ০১:২৬ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার
রূপকথার নেপালের ক্রিকেট বিশ্বে জাগরণ

রূপকথার দেশ নেপাল। হিমালয় অধ্যুষিত এই দক্ষিণ এশীয় দেশটি মূলত পর্যটন শিল্পের কারণে বিখ্যাত। তবে তারা ক্রিকেট পাগল জাতিও।
১৯৯৬ সাল থেকে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)’র সহযোগী সদস্যভূক্ত দেশ। এরপূর্বে ১৯৮৮ সাল থেকে আইসিসি’র অনুমোদনপ্রাপ্ত সদস্য দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতো। নেপাল ক্রিকেট সংস্থার মাধ্যমে নেপাল দলটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে দলের অধিনায়কত্ব করছেন পরশ খাদকা ও কোচের দায়িত্ব পালন করছেন জগৎ তামাতা।
একটি দলতো আর এমনি এমনি আর এসে পড়েনি। এই আসার পিছনেও রয়েছে এক বিরাট ইতিহাস।
রাণা রাজবংশের আমলে নেপালে ক্রিকেট খেলার সূচনা ঘটে। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে তাঁরা দেশে ফিরে ক্রিকেট খেলার ন্যায় রাজকীয় ক্রীড়ার প্রচলন ঘটায়। কেবলমাত্র অভিজাত সম্প্রদায়ের মাঝেই এ খেলা সীমাবদ্ধ রাখা হতো। ১৯৪৬ সালে নেপাল ক্রিকেট সংস্থা গঠিত হয়। ১৯৫১ সালে নেপালী জনগণ রাণা পরিবারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করলে ক্রিকেট খেলা সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬১ সালে নেপাল ক্রিকেট সংস্থা (সিএএন) জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার অংশ হয়। এর ফলে ক্রিকেটকে সমগ্র নেপালে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া হয়। কিন্তু ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত রাজধানী কাঠমান্ডু এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কাঠমান্ডুর বাইরে ১৯৮০-এর দশকে ক্রিকেট খেলাকে বিস্তৃত করা হয়। ১৯৮৮ সালে নেপাল আইসিসি’র অন্যতম অনুমোদনপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯০-এর শুরুতে আঞ্চলিক ও জেলা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে বড় ধরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়গুলোতে ক্রিকেটের প্রসারে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করা হয়।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং দলীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগের শৈথিল্যসহ আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবী জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ নেপালকে সহযোগী সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং দলীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগের শৈথিল্যসহ আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবী জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ নেপালকে সহযোগী সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
একই বছর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দল অংশগ্রহণ করে। প্রথম রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে চতুর্থ স্থান দখল করে। ব্রুনাই এবং জাপান তাদের কাছে পরাজিত হয়।
১৯৯৬ সাল থেকে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি এসিসি ট্রফি,এসিসি টুয়েন্টি২০ কাপ, ২০০১ আইসিসি ট্রফি এবং দুইটি আইসিসি আন্তঃমহাদেশীয় কাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সাম্প্রতিককালে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাই পর্বে নেপাল দলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নেপাল বর্তমানে ২০১৩ সালের আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ ডিভিশন থ্রীপ্রতিযোগিতা বিজয়ী। এরফলে তারা নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে।
২০১৪ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ যোগ্যতা নির্ধারণ প্রতিযোগিতা নভেম্বর ২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়। এই টুর্নামেন্টে ৩য় স্থান অর্জন করে ২৭ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে তারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ১৬ দলের অংশগ্রহণে অন্য দশটি পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের সাথে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এরফলে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
গ্রুপ-পর্বে নেপাল দল বাংলাদেশ, হংকং ও আফগানিস্তানের মোকাবেলা করে। এর মধ্যে আফগান আর হংকংকে হারাতে পারলেও তারা নেট রান রেটের কারনে তারা সুপার টেনে কোয়ালিফাই করে নাই।
২০১৬র জন্য হওয়া ২০১৫’র বাছাইপর্বে নেপাল কোয়ালিফাই করে নাই।
একটু দেখে নেই নেপালের কিছু টুর্নামেন্টের ফলাফল সমূহ:
World Cup Qualifier
1979 to 1986 inclusive: Not eligible – Not an ICC member
1990: Not eligible – ICC affiliate member
1994: Not eligible – ICC affiliate member
1997: Did not participate
2001: First round
2005: Did not qualify
2009: Not eligible – In Division Five
2014: 9th place
ICC World Twenty20 Qualifier
2012: 7th place
2013: 3rd place (Qualified for 2014 ICC World Twenty20)
2015: 7th
World Cricket League
2008 Division Five: 3rd place
2010 Division Five: Champions
2010 Division Four: 3rd place
2012 Division Four: Champions
2013 Division Three: Champions
2014 World Cup Qualifier: 9th place
2014 Division Three: Champions
2015 Division Two: 4th place
2015–17 Championship: Qualified
ICC Intercontinental Cup
2004: First round
2005: First round
2006–07: Did not qualify
2007–08: Did not participate
2009–10: Not eligible – In Division Five
2011–13: Not eligible – In Division Four
2015–17: Did not qualify
ACC Championship
2014: Called-off
ACC Fast Track Countries Tournament
2004: 3rd place
2005: Runners-up
2006: Winners
ACC Premier League
2014: 3rd place
ACC Trophy
1996: First round
1998: First round
2000: Semi-finals
2002: Runners up
2004: 5th place
2006: 4th place
2008: 4th place
2010: Runners-up
2012: Winners (Shared trophy with UAE)
ACC Twenty20 Cup
2007: Group stage
2009: 5th place
2011: 4th place
2013: Runners-up
2015: Did not participate
Asian Games
2010: Quarter-finals
2014: Quarter-finals

টি২০তে নেপালের সর্বোচ্চ রান করা প্লেয়ারদের লিস্ট:
-পরাস খাদকা:২৩৬
-শরদ বিশ্বাসকর:১৯৯
-গৈয়ান্দ্র মালা:১৬৩
-সুবাস খাকুরেল:১১২
-সাগর পুন:৯০
.
টি-২০তে নেপালের সর্বোচ্চ উইকেট টেকার প্লেয়ারদের লিষ্ট:
-বসন্ত রেজমি:১৫
-সৌম্যপাল কামি:১২
-শক্তি গৌচান:৮
-সাগর পুন:৬
-জিতেন্দ্র মুখ্য:৪
নেপাল এখন পর্যন্ত ১১টি টি২০ খেলেছে। যার মধ্যে ৩টি জয় ও ৮টি হার রয়েছে।
নেপাল এখনও কোনো টেস্ট প্লেয়িং নেশনকে হারাতে পারে নাই। এখন পর্যন্ত ৩টা দলকে হারিয়েছে। নেদারল্যান্ডস, হংকং, আফগানস্তান।
নেপালের সফল কয়েকটি জয়ের মধ্যে একটি হলো আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ২০১৪তে আফগানদের হারানো।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নেপালের ওপেনিং উইকেট কিপার সুবাস খাকুরেল ৫৬ (৫৩) রানের ইনিংসের ওপর ভর করে নেপাল আফগানদের বিপক্ষে ১৪২ রানের টার্গেট তোলে জবাবে আসগর স্টানিকজাইয়ের ৪৯ রানের ইনিংসকেও ম্লান করে দেয় জিতেন্দ্র মূখ্যের ১৯ রানে ৩ উইকেটের ম্যাচ জেতানো ফিগারটি। এই ম্যাচটি সম্ভাবনা জাগালেও নেট রান রেটে কোয়ালিফাই করে বাংলাদেশ।
স্কোরকার্ড
নেপাল :১৪১/৫
সুবাস খাকুরেল ৫৬ (৫৩)
শাপুর জাদরান ২/১৯ (৪ ওভার)

আফগানিস্তান :১৩২/৮ (২০ ওভার)
আসগর স্তানিকজাই ৪৯ (৩৬)
জীতেন্দ্র মুখ্য ৩/১৮ (৪ ওভার)
ফলাফল: নেপাল ৯ রানে জয়ী
বর্তমানে নেপালের ক্রিকেটের ভিত্তিটা অনেকটাই স্ট্রং। রয়েছে দারুন ফ্যানবেজ। কিছুদিন আগে সেখানে আয়োজন করা হয়েছিলো এপিএল নামক একটা লীগ যার দর্শক সমাগম ছিলো দেখার মতন। বিশ্ব একাদশও পাঠানো হয়েছে সেখানে।
হয়তবা এসিসির নেক্সট টার্গেট নেপাল। এসিসি চাইবে নেপালকে ঠুকে ঠুকে ১৩/১৪তম দেশ হিসাবে ঢুকাতে। নেপালকে ব্যাকআপ দিচ্ছে বিসিসিআই।
এখন আমাদের দেখার বিষয় আদৌ রূপকথার দেশটি এগিয়ে যাবে ক্রিকেটের এক নতুন মন্ঞ্চে।
শুভকামনা রইল নেপালের জন্য।

অমৃতবাজার/অর্নব/মাসুদ

Loading...