ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আগে নকলের প্রবণতা ছিল, এধরণের দেখা-দেখির মহামারী ছিল না


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩১ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:০৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
আগে নকলের প্রবণতা ছিল, এধরণের দেখা-দেখির মহামারী ছিল না ছবি- প্রতিকী

চলমান এস.এস.সি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একজন শিক্ষিকা তার ফেসবুক টাইম লাইনে পোস্ট করেছেন। পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

এই বছরের এস.এস.সি পরীক্ষার ডিউটি দিচ্ছি। খুব হতাশ হয়ে আজকে লিখতে ইচ্ছে হলো। আমি শিক্ষকতা করি, এই ব্যাপারটায় আমি আনন্দ পাই আর গর্ব বোধ করি। ছেলেদের পড়াতে, কোন কিছু বোঝাতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে। কিন্তু যখনই এ ধরণের এক্সাম হলগুলোতে ডিউটির জন্য যাই আমি অসহায় বোধ করি। ছেলেমেয়েরা এতটাই নির্বিকার চিত্তে দেখা দেখি করে লেখে যেন মনে হচ্ছে এটাই নিয়ম!!! সত্যি!!

পাশে থাকা আমার শিক্ষক বললেন, `আগে নকলের প্রবণতা ছিল ঠিক কিন্তু এ ধরণের দেখা দেখির মহামারী ছিল না।`

আমরা ৫০ জনের হলে দু`জন শিক্ষক। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা থাকে সকলেই জানেন। আমরা পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই চলে যাই হলে আর চেষ্টা করি পরীক্ষার আগেই সেগুলো শেষ করে ফেলতে যাতে ছেলে/মেয়েদের পরীক্ষার মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়। প্রশ্ন দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় কথা বলার প্রতিযোগিতা। যথাসাধ্য চেষ্টা করে ক্লাস ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি আমরা শিক্ষকরা। মনে হয় যেন, আরেকজনের খাতা দেখে লেখা আমাদের ছেলেদের অধিকার। আমরা শিক্ষকরা সেই অধিকার থেকে ছেলেদের বঞ্চিত করছি। ছেলে/মেয়েরা বোর্ড পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে তাই!! আমাদের কিছু শিক্ষকদের দেখেও তাই মনে হয় আর ছাত্রদের কথা তো বাদই দিলাম।

ওই পোস্টে ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক মীর আরিফ মন্তব্য করেন- দুই বছর এইচএসসির ডিউটি দিয়ে ইস্তফা দিয়েছি। এখন প্রিন্সিপাল রিকোয়েস্ট করলেও যাই না।

মো. ফেরদৌস নামের একজন মন্তব্য করেন- নকল করা আর দেখে লেখা বোথ আর ইকুয়্যাল। কারণ দুইটাই কোনো না কোনো জায়গা থেকে দেখে লিখছে। এটা হলো আধুনিক নকল।

আরেকটি স্কুলের আইডি থেকে মন্তব্যে লেখা হয়- শিক্ষা যখন রাজনীতির বিষয় এবং বিনিময় পণ্য হয়ে যায় তখন এর বাহিরে গিয়ে চিন্তা করলে আপনি বর্তমানের জন্য বেমানান। অনিয়মই যে বর্তমানে নিয়ম।

(লেখাটি নাঈমা ফেরদৌস করিম,  বেসরকারি হাইস্কুল শিক্ষিকার ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া হয়েছে।)

অমৃতবাজার/এমআর