ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘আমার নয়, আপনাদের কথা বলতে চাই, বলার সুযোগ চাই’


ইমাউল হক, পিপিএম

প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
‘আমার নয়, আপনাদের কথা বলতে চাই, বলার সুযোগ চাই’

বরাবর,

চাটখিল সমীপেষু। সালাম ও শুভেচ্ছা। পূর্ণ ভক্তি, শ্রদ্ধা, সম্মান, আনুগত্য রইলো। জানি না তোমার জন্য পুলিশ কি করছে বা করতে পারছে বা করতে পারবে। আর যাই করছি তাতে তুমি কি ভাবছো? হ্যান্ডকাপ, রশি, গুলি আর গালি দিয়ে ঝাঁঝরা করিনি। করেছি আদর, যত্ন আর লোভ ও বিনিময় ছাড়া আবেদন। জানি না তাতে খুশি না অখুশি।

পর সমাচার এই যে বেশ কিছু দিন যাবত তোমার বুকে পোশাক পড়ে, সাইরেন বাজিয়ে ঘোরাঘুরি করছি। তা তোমার কানে শোনা যাচ্ছে কিনা? অনেক দিন তো হল ঘন ঘন বকবকানি তে হয়তো তুমি বিরক্ত। মনে কিছু কর না। আর হয়তো বলা হবে না। বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় দিনই তোমার সমস্ত খিল গুলি অশ্রুতে প্রায় ভরপুর। তাই জরুরি ভেবে পত্র লিখলাম। সময় কম তাড়াতাড়ি উওর দিও।

আমার চাটখিলে চৌরাস্তা, নদনা, জয়াগ, বাংলা বাজার, হালিমা দীঘি, দশঘরিয়া, শাহপুর, মন্ত্রীপাড়া, দত্তের বাজার বর্ডার, ইয়াছিন বাজার, সুইচগেট, আবির পাড়া, ইসলামপুর, রাজ্জাকপুর, পাল্লা রোড, সুন্দরপুর, ঘাটলাবাগ, খিলপাড়ার মসজিদ রোড, দৌলতপুর, তালতলা, সিংবাহুরা, শ্রীপুর, শিবপুর, সোমপাড়াসহ অনেক মাদক স্পট চাটখিলে। এমনিতেই প্রায় অর্ধেক পুরুষ বিদেশে থাকে। বাকী অর্ধেকের কিছু ঢাকায়, কিছু ব্যবসায়। তাহলে অনেকটা মহিলা প্রধান পরিবারের এলাকা। তারমধ্যে এতগুলি মাদকস্পটে ৫ জন করে সেবী হলেও আমি তাদের বাদ দিয়ে চাটখিলের আইনশৃঙ্খলা কি ভাবে রক্ষা করবো সে চিন্তা করি। এমনিতেই বহু বছর থেকে এ থানায় পুলিশিং কাজ কঠিন। অনেক কারণ বলা যায় না। যেমন রৌদ্রুর বোঝা যায় হাত দিয়ে ধরা যায় না। বৃষ্টি আবার হাত দিয়ে ধরা যায়।
তো মাদক সেবী তো মানুষ। চাটখিলের নাগরিক। সংখ্যায় কম হলে আরো কমানো যেত। যে কারণই হোক সংখ্যায় বেশি বলে তাদের সামাজিক মূল্য আছে নাই শুধু মূল্যবোধ। তারা শুদ্ধ হলে চাটখিলকে অনেক কিছুই দিতে পারবে। তাই তাদের মাদকের কূফল কাউন্সিলিং করে বোঝানো হল চাটখিলের বোঝা কমানোর জন্য। আর লোহার হ্যান্ডকাপ না দিয়ে তুলে দিলাম ফুলের সুবাস। যে বাতাসে চৌরাস্তা হতে রামগঞ্জের হাওয়া মাদকের গন্ধ দুর করে এয়ারফ্রেস করে। আর আমি চলে গেলেও যেন সুগন্ধি পাই দুর থেকে।

তারা যেন আইনগত ব্যবস্থা শেষে ফুলের প্রতি, নতুন জীবনের প্রতি, পরিবারের প্রতি, সাধারণ সমাজের প্রতি, আকাশে র নীচে, জমিনের উপর বেঁচে থাকার জন্য, আকৃষ্ট হয়ে চাটখিলের সমাজ ও ঐতিহ্যের সাথে পূনরায় যোগ্য ও যোগ হয়ে মেজবানি খেতে পারে একই টেবিলে।

নির্মল, পরিস্কার নাগরিকদের সাথে এক কাতারে চাটখিলের উন্নতি ও উন্নয়ন করতে পারে সেজন্য একটু সেবার হাত বাড়িয়ে দিলাম।

সুপ্রিয় চাটখিলের সচেতন মানুষ পিলিজ আমাকে অন্তত এই বিষয়ে সাহায্য, সহযোগিতা, করুন। এটা আপনাদের সমাজের কলংক দূর হবে, বোঝা হালকা হবে, ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় ঝড়ে পড়া মানুষগুলো পুতির মালার মত এক সাথে যোগ হবে। স্বদেশ ও দেশের জনসম্পদ ফিরে আসবে। মাদক ব্যবসায়ী নেশাখোর বলে তাদের দূর দূর করলে তারা আসলেই দূরে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে সমাজ সংকুচিত হবে।

তাই চাটখিলের ওসি ব্যক্তি হিসেবে যত খারাপই ভাবেন তার মাদক বিরোধী এই আন্দোলন ও আকুতি যদি যুক্তিযুক্ত ও পছন্দ হয় তাহলে আর কোন কাজে না হয় এই কাজে সহযোগিতা করবেন।

অসুস্থ আত্মীয় স্বজনকে বাঁচাতে আমরা বাড়ি-গাড়ি এমন কি কিডনি বিক্রি করি। কিন্তু অসুস্থ সমাজকে বাঁচাতে কিছুই করি না। সমাজকে সুস্থ করলে আমার আপনার আত্মীয় ও সুস্থ হবে কারণ একজন দুইজন মিলেই তো সমাজ। তাই আসুন। কোন কিছু বিক্রি করা লাগবে না মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের সমাজে ফিরিয়ে আনতে শুধু আমাকে সহযোগিতা করুন। অপরাধীকে নয় অপরাধকে, পাপী কে নয় পাপকে ঘৃনা করি। মাদকাসক্তদের শুদ্ধ করি। সে উদ্দেশ্যে আমি আমার নয়, আপনাদের কথা বলতে চাই, বলার সুযোগ চাই।

লেখক: নোয়াখালীর চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান