ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালিকে মাদকমুক্ত করতে চাটখিল ওসি’র ডাক


ইমাউল হক, পিপিএম

প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার
নোয়াখালিকে মাদকমুক্ত করতে চাটখিল ওসি’র ডাক

নেশা, মাতলামি, লোভ, মদ, মোহ, কাম, ক্রোধ বিভিন্ন চাহিদায় আদিকাল থেকে হুক্কা টানতো মানুষ। গ্রাম বাংলায় পঁচা ভাত, তালের রস, চোয়ানি, বাংলা মদ, গাঁজা সেবন করে নেশা করতো। কিন্তু তাদের মাতলামি সীমাবদ্ধ ছিল। মানে মানব সমাজে তার প্রভাব সীমিত ছিল। আর হুইস্কি, বিয়ার, ওয়াইন, ভোদকা, বিদেশী মদ বা লাল পানি উচ্চ বিত্তের বা বিদেশের লোকজন পান করতো বলে জনশ্রুতি আছে। কেমিকেলের ছাত্র হওয়ায় একটু একটু বুঝি।

আমাদের দেশে হতাশ হয়ে ঘুমের বড়ি খাওয়ার প্রচলন আগে থেকেই ছিল। ফেনারগান সিরাপ, কাঁশি হলে ফেনসিডিল।সাবাস। ফেনসিডিল হয়ে উঠলো নেশার সিরাপ। প্রতিবেশী দেশে তৈরি ২০০৬ সালে ৪০ টাকা তারপর ৩০০ টাকা। খুবই দামী! পুলিশ ব্যবসায়ী ধরে খাদকরা খেতেই থাকে। সরবরাহ কম বলে দাম বাড়ে।

যশোরে চাকরির সময় ৮০০ টাকা। হাজার হাজার পিস ধরার পর ছয় ইঞ্চি সিরাপের দাম ১৮০০ টাকা। চমৎকার কোম্পানির ৬০ বছরের লাভ এক বছরে। ফেনসিডিল বন্ধ হলেই কি যা ইনকাম তা তো হয়েই গেলো। আর ঢাকায় দাম ক্ষেত্রমতে ২০০০ টাকা। লারে লাপ্পা। এ কারণে নেশাখোরদের কন্ট্রোল না করলে দেশে কোটি কোটি টাকা লস। শুধু সরবরাহ বন্ধ করলে নেশাখোর তো দেশের টাকা নিয়ে বিদেশে দিয়ে আসবে। আমার এ যুক্তি কয়জন মানে। মানলেই কি? ধরলেই তো বলে সাথে কিছু পেয়েছেন। আরে বাবা নেশাখোর, মাতাল তো স্মার্ট হয় বেশি। ইংরেজি না জেনেও বকবক করে।

ফেনসিডিল আর দুধ চা মজার। চাকরি জীবনে ১ হাজার খানিক মাতাল গ্রেফতার করেছি। আর একটু পড়াশোনা জানি। তাদের ইতিহাস থেকে জানা।

ফেনসিডিল, দুধ চা, তারপর গাঁজা। শুনেছি গাঁজা খায় রাজারা। এখন তো বস্তিতে কেজি কেজি আর বাংলা মদ, তারি, চোয়ানি তালের রস এর সাথে মিষ্টি পান। হেরোইন এবং ইয়াবা সংক্ষেপে বাবা। বাহ বা।

গোটা, লালপরি, ময়না ইত্যাদি নামে। হেরোইন এ ক্ষুধা মন্দা পেটের পীড়া দুটোতেই ঘুম কম বাবায় (ইয়াবা) আবার চোখ ছোট, ঝলশা চাহনি। যৌনতার ইচ্ছা কিন্তু যৌন ক্ষমতা লোপ।

বাবা আসে মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাজধানীর বুকের উপর দিয়ে সীমান্তবর্তী জেলায়। বাবা দিয়ে বিনিময়ে সেখান থেকে ফেনসিডিল। মুদ্রা বিনিময় বিদেশে। দেশের মধ্যে নেশাদ্রব্য বিনিময়। আর দেশের যুব সমাজ খেয়ে আত্মহত্যা, যৌনতা, ধর্ষণ, খুন ইত্যাদি। আর কিশোরদের জীবন যৌবনেই শেষ। বয়স্ক যারা করে তাদের সংসার ও পরিবার বিপন্ন।

দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা শেষ। তারপর আইনশৃঙ্খলা অবনতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ সুযোগ। কোথাকার পানি কোথায় যায়। মাদকের কত শক্তি। একদিকে ইয়াবা তিনদিকে ফেনসিডিল। ভিতরে তারি, বাংলা মদ, চোয়ানি। কোন দিকে যাবো? মাটির নীচে দিয়েও হৈ চৈ, নাটক মনে করে। আকাশে উড়ার সামর্থ্য নেই। ঘরে বিচ্ছেদ, বাহিরে ধর্ষণ ।বাজারে জঙ্গি, রাস্তায় খুন। মাদকের সব গুন।

মাদকের কারণে উপরের সব কুফল। মাদক ও মাদকশক্তির অপশক্তি যা উপরে লিখলাম তা দিয়ে জাতির এক অংশ নাই নাই অবস্থা । সে কারণেই জাতির আশার আলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময়ের সাহসী মাতা, সরকার প্রধান জাতিকে রক্ষার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তারই নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, স্মরণকালের মেধাবী পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে, সদ্য যোগদানকৃত ক্লিন ইমেজের, ইমার্জিন রেঞ্জ ডিআইজি এর তত্ত্বাবধানে শতভাগ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের পরিকল্পনায় ও সরাসরি কমান্ডে চাটখিল থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ও মাদক দমনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।স্বচ্ছতার সাথে চাটখিলকে মাদকমুক্ত থানা ঘোষণার লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে।

তার প্রথম অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই ১৮ তারিখ বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চাটখিল বাজারে ১৩টি পোস্ট পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ দিয়ে ব্লক রেড দিয়ে ‘অপারেশন ক্লিন সিটি’ পরিচালনা করেছে। ৫৩ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

আসুন এ সামাজিক আন্দোলনে যে যেভাবে পারি, যেখান থেকে পারি অংশগ্রহণ করি।

লেখক: নোয়াখালীর চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান