ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‌‌‌‌‘লেখা ছাড়া কিছুই দিতে পারলাম না, ভাল থেকো মামুন’


ইমাউল হক, পিপিএম

প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার
‌‌‌‌‘লেখা ছাড়া কিছুই দিতে পারলাম না, ভাল থেকো মামুন’ গাজীপুরে নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইসলাম খান (বায়ে) এবং নোয়াখালীর চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক (ডানে)

মামুন আমার ব্যাচমেট। অনেককেই হারিয়েছি। কিন্তু এভাবে কেউ হারায়নি। মামুন ইমরান খান। তিন দিন আগে হারিয়ে গেছে। নিখোঁজ। সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তিনদিন পর লাশ। লাশ তো নয় পোড়া দেহ। সেটা আবার পাওয়া গেলো জঙ্গলে। তিন দিন পার হলে পঁচে যেত। আর তিন দিন পার হলে বৃষ্টির পানিতে ভেসে তরল হতো। মানে ৯ দিন গেলেই কঠিন তরল বায়বীয়।

বাহ! কত সুন্দর একটি দেহ দিয়ে পদার্থের তিন অবস্থা বোঝা যায়। আর সেটা আবার একজন পুলিশ কর্মকর্তার দেহ দিয়ে। এর আনন্দ অশ্রু আর কি হতে পারে। সাবাস মামুন। তোমাকে পুড়িয়ে প্রমাণ করলে ইউনিফর্মের গায়ে আগুন ধরাতে তিন দিন লাগে। তোমার ইউনিফর্মের ছবি দেখে এক মিশনমেট জানতে চেয়েছে এটি কিভাবে সম্ভব।আমিও তাই বলি। তুমি তো এসবি তে। আমাকে জানতে পারতে একবার এসবি থেকে লাস্ট কল লোকেশন নিতাম।

নিজেকে বোঝাতে পারতে সর্বশেষ কোথায় তুমি নিখোঁজ। এসবি থেকে তো শত শত লোকেশন জানি কিন্তু আগুনে পোড়া বাতাসের গন্ধ তোমার লাস্ট লোকেশন দিয়ে গেল। এ লোকেশন দিয়ে কি করবো। সুরতহাল করা ছাড়া হাতে কোন আইন নেই। আর হয়তো পিএম সেটা তো কঠিন। পোড়া দেহে কি-ই বা আছে। ডোম আর কি-ই বা পাবে? আর ডিএনএ কি হবে তোমার লাশ তো সনাক্ত। তাহলে কি লাভ হল তদন্ত শিখে। যদি তিন দিন আগে জানাযেত তোমাকে দেখাতে পারতাম তোমার প্রিয় খেলা ফুটবল কিভাবে চলছে।

গাজীপুর সাক্ষী ছিল। বন্ধুর পার্টি ছিল, অপহরণ হয়েছিল বা নারী দিয়ে ফাঁদ পাতার চেষ্টা হয়েছিল। অবশেষে পোড়া লাশের বিভৎস দৃশ্য। জানি না তুমি কেমন আছো। হয়তো তোমার হত্যাকারী সনাক্ত হবে অল্প সময়ে। কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট পুলিশের বিশেষ শাখা মানেই সর্বোচ্চ শাখা। সেই হিসেবে তোমার নিখোঁজ সংবাদ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেলে হয়তো বিশেষ ভাবে উদ্ধার ও হতে পারতে। এ ব্যর্থতাকে মাফ করে দিও।

তুমি তো অনেক মেধাবী ও হাসি খুশি। কৌতুক করে কথা বলতে। সহকর্মীর দেহ আগুনে পোড়া দেখে ভাবতেও পারেনি তুমি আর তোমাকে নিয়ে লিখতে হবে। জানো লেখাও সহজ। কাগজ ও কলম লাগেনি। মোবাইল টিপলেই তোমাকে নিয়ে লেখা হয়ে গেল।

কাগজ কলমও এখন তোমার হত্যার কারণ লিখবে। কিন্তু ইউনিফর্মের পোড়া গন্ধ যে আমাকেও লজ্জিত করছে। কত অপহরণের, নিখোঁজের সন্ধান করেছি। আর তোমার সন্ধান তিনদিনেও করতে পারলাম না। এই দৈনতাকে ক্ষমা করে দিও। কারণ আমরা স্বার্থপর নই তাই তো আমরা নিজেদের জন্য পারি না বা করি না। আমরা অন্যের জন্য পারি ও করি।জানি এজন্য ক্ষমাও পাবো আর তিনদিন পর ভুলেও যাবো। ভাল থেকো মামুন। লেখা ছাড়া কিছুই দিতে পারলাম না।

লেখক: নোয়াখালীর চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান বাপ্পী