ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সত্যি বিচিত্র আমাদের আইন ব্যবস্থা


সেজান মাহমুদ

প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
সত্যি বিচিত্র আমাদের আইন ব্যবস্থা

একজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন পড়তে ভুল হওয়ার কারণে নাকি কয়েক হাজার রোগী মারা গেছে বাংলাদেশে। এজন্যে আইন করতে হচ্ছে হাতের লেখা পঠন উপযোগী করার। সত্যি বিচিত্র আমাদের আইন ব্যবস্থা।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ৭০% প্রেস্কাইবার এন্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে কোন ডায়াগনোসিস নিশ্চিত না হয়ে দেয়া হয় বলা হয়েছে, ৫০% ভাগ শুধু জ্বর বা সর্দি কাশির জন্যে দেয়া হয়। যেখানে ডাক্তারের দরকার নেই। রোগীরা নিজেই ফার্মেসী থেকে কিনে নেন ওষুধ। বাংলাদেশে কখনো "এট্রিবিউটেবল কজ" নিয়ে গবেষণা হয় কি? এর মানে হলো কে কোন কারণের জন্যে মরে বা কোন রোগে আক্রান্ত হন তা নির্ধারণ করা। হয় না।

কিছুদিন আগেই লিখেছিলাম দেশের একটা অন্যতম ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কালা জ্বরের ওষুধের মধ্যে কোন একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট না দিয়েই (সোজা বাংলায় আটার গুড়া দিয়ে) এন্টিবায়োটিক বানিয়ে উত্তর বঙ্গে মানুষ মেরেছে। দালালেরা লাফিয়ে আসবে কতজন মরেছে? কোথায় প্রমাণ? বাংলাদেশে কোন কিছুর দলিলপত্র রাখা হয়না বলে রক্ষা। তার ওপরে টাকা দিয়ে ঢাকা হয় অনেক প্রমাণ। এর সঙ্গে আরও আছে ভুয়া কোম্পানির ভুয়া ওষুধ। এগুলো থেকে বছরে কতো হাজার রোগী মারা যায় কোন গবেষণা আছে?

পলি ফার্মেসি বলে একটা কথা আছে। ইচ্ছা মতো যখন তখন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই একসঙ্গে নানান ওষুধ খেয়ে ড্রাগ ইন্টার‌্যাকশনে মারা যায় কতজন? হিসাব আছে? সেগুলো নিয়ে কোন আইন হতে বা তা প্রয়োগ হতে তো দেখি না।

আমি নিজে ডাক্তারি বিদ্যার সঙ্গে জড়িত বলেই ডাক্তারদের সমালোচনা সবচেয়ে বেশি করি; তারপরও বলবো, বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা টিকে আছে জান-অন্ত-প্রাণ খেটে খাওয়া ইন্টার্ন, কিছু রাজনৈতিক প্রতিপত্তিহীন ভাল ডাক্তার আর ঈশ্বরের অদৃশ্য হাতের জন্যে।

মূল কারণগুলোকে বন্ধ না করে, এইসব খেটে-খাওয়া ডাক্তারদের জন্যে প্রতিরক্ষামূলক আইন না করে, ফার্মাসিস্টদের বা সহযোগী ফার্মাসিস্টদের ভাল প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স ধারী না বানিয়ে উল্টা হাতের লেখার জন্য আইন করাকে এক কোথায় "ঘ্যাগের ওপরে তারাবাতি জ্বালানো"র সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই বুদ্ধিহীন আইন প্রনয়নকারীদের, পলিসি মেকারদের নিয়ে কী আর বলা যায়? ডাক্তাদের হাতের লেখা নিয়ে যে জোকটি (ছবি) তা আর জোক থাকে না; বরং এই আইনই একটি জোক হয়ে যায়।

সেজান মাহমুদের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

অমৃতবাজার/আরএস

Loading...