ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কে এই প্রিয়া সাহা?


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার
কে এই প্রিয়া সাহা?

 

ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৭ জন নারী-পুরুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে এক নারী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তার নাম প্রিয়া সাহা।

তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কে এই প্রিয়া সাহা? জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এ প্রিয়া সাহা।

এছাড়াও তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত।

তার গ্রামের বাড়ী পিরোজপুর জেলার চরবানিরীর মাটিভাঙ্গা নাজিরপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রিয়া। রোকেয়া হলে থাকতেন তিনি।

সে সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ‘মহিলা ঐক্য পরিষদ’এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য গতবছর তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে ‘শারি’ এনিজিও সংস্থার মাধ্যমে প্রিয়া নিজ এলাকার দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করেন।

তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক। কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে বসবাস করছেন। কিছুদিন পূর্বে সেখানে যান প্রিয়া সাহা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন।

এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ গুম হয়ে গেছে। দয়া করে, আমাদের বাংলাদেশিদের সাহায্য করেন! আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষজন আছে। আমার অনুরোধ, প্লিজ আমাদের সাহায্য করেন, আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে চাই না। আমাদের শুধু ওখানে যেন থাকতে পারি সে সাহায্য করেন! আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি।’

এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘এটা কোন জায়গা? বাড়িটা কোন জায়গায়?’

উত্তরে ওই মহিলা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে, তারা রাজনৈতিক শেল্টার পাচ্ছে, সবসময়।

মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সেই সাক্ষাতকারের ভিডিও প্রকাশ করে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেটি। যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশিরা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রিয়া সাহার নালিশকে চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রিয়া সাহার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেলে হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সঙ্গে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে ফোন রেখে দেন।

তবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা তার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখা দিতে পারবেন।’

প্রিয়া সাহা কিভাবে হোয়াইট হাউজের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন,‘প্রিয়া সংগঠনের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজন। তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেখানে পাঠানো হয়নি। ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কিভাবে সাক্ষাত করেছেন তা আমি জানি না।’

প্রিয়া সাহার বেসরকারি সংস্থা সংস্থা ‘শারি’-এর কার্যালয়ের অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।

এই প্রিয়া সাহাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশ বিষয়ে এমন বক্তব্যকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তার বিচার চাইছেন নেটিজেনরা।

অনেকেই বলছেন, ওই নারী এমন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। অনেকেই বলছেন, এমন মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বললেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটা দেখি ঘষেটি বেগম। অপর একজন লিখেছেন, এটা কাদের চাল হতে পারে বুঝলাম না। আবার অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের করুণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতেই তিনি বাংলাদেশ বিষয়ে  এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রতীক এজাজ তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, প্রিয়া সাহা, নিতান্তই ব্যক্তিস্বার্থের জন্য আপনার উচিত হয়নি দেশকে হেয় করা। দেশ ও দেশের মানুষকে এমনভাবে ছোট করা উচিত হয়নি আপনার। আপনি মিথ্যা বলেছেন। সম্পুর্ণ মিথ্যা। আপনাদের জন্য অমাদের অর্জন শেষবেলায় এসে নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের এগোতে কষ্ট হয়।

বিশিষ্ট ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট মাহমুদল হাসান তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, এই হিন্দু মহিলার অভিযোগ শুনেন! বাংলাদেশে নাকি ৩৭ মিলিয়ন, মানে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে আছে!!! কিভাবে মিথ্যা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিচার দিচ্ছে সবাই দেখেন। এটা খুবই খারাপ কাজ করছে। আমি এই মহিলার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করছি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই অভিযোগের জবাব দেয়া দরকার প্রয়োজন মনে করছি।

অমৃতবাজার/এএস