ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দুই পোলিং অফিসারের পোশাক নিয়ে তোলপাড়


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ১৭ মে ২০১৯, শুক্রবার
দুই পোলিং অফিসারের পোশাক নিয়ে তোলপাড়

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভোট চলছে। এই নির্বাচন মৌসুমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে দুই নারী পোলিং অফিসার। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টিকটক, তাদের ছবিতে সয়লাপ গোটা সামাজিক মাধ্যম। কেউ তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে চায়, কেউবা পাঠায় ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে একজনের পরনে হলুদ শিফন শাড়ি, চোখে রোদচশমা, হাতে ইভিএম! দ্বিতীয় জনের পরনে নীল শাড়ি, সঙ্গে গলায় মানানসই নেকলেস।

হলুদ শাড়ি পরা নারীর নাম রিনা দ্বিবেদী। কাজ করেন উত্তরপ্রদেশের পূর্ত দফতরের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে। অন্যজন যোগেশ্বরী গোহিতে, ভোপালের কানাড়া ব্যাঙ্কের অফিসার।

দেওরিয়ার বাসিন্দা রিনা (৩২) বিয়ে করেছেন খুব অল্প বয়সে। ছেলে এখন নবম শ্রেণিতে পড়ে। গত রোববার ভোটের ডিউটি পড়েছিল লখনউয়ে। ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময়ে এক সহকর্মী মজা করেই ছবিটি তুলেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতেই এত কাণ্ড।

এ নিয়ে রিনার বক্তব্য, ‘তাড়াতাড়ি বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু নিজের জন্য কেরিয়ারও খুব গুরুত্বপূর্ণ। লোকে আমাকে এত পছন্দ করছেন, প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। নজরে পড়তে কার না ভাল লাগে? আমি খুশি।’

যোগেশ্বরী গোহিতে

রিনা সব চেয়ে মজা পেয়েছেন ছেলের কথায়। তার ছবি ভাইরাল হওয়ার পরে ছেলে স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের জানিয়েছিল, ওই মহিলা তার মা। কিন্তু বন্ধুরা বিশ্বাস করেনি। তাই ছেলে এসে রিনাকে বলে, বন্ধুদের ভিডিয়ো কল করতে। তরুণী বলেন, ‘ছেলে এসে কাকুতি মিনতি করছে, ওর বন্ধুদের ভিডিয়ো কল করতে হবে। ওরা নাকি বিশ্বাস করছে না, হলুদ শাড়ির মহিলা ওর মা।’

এই বছরই প্রথম নয়, আগেও ভোটের ডিউটিতে গিয়েছিলেন রিনা। তবে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে এবারই প্রথম এতটা আলোচনায় এসেছেন। রিনার নিজের কেন্দ্রে এখনও ভোট হয়নি। আগামী রোববার দেওরিয়ায় ভোট হবে। সেদিন স্বামী সঞ্জয়ের সঙ্গে ভোট দিতে যাবেন। কেননা তিনি ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাস’ করেন, তাই কখনও ভোট বাদ দেন না।

রিনা দ্বিবেদীর

যোগেশ্বরী গোহিতের ছবি অবশ্য তুলেছিলেন সাংবাদিকরা। মধ্যপ্রদেশের গোবিন্দপুরার বুথে তার ডিউটি পড়েছিল। সে দিন বেশ কয়েক জন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথাও বলতে যান। এড়িয়ে গিয়েছিলেন যোগেশ্বরী। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর তার ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল। পরে বলেন, ‘রোজ যে রকম পোশাক পরি, তেমনই পরেছিলাম। কোনও ফ্যাশন রোলমডেল নেই। পোশাক দিয়ে কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। কাজের দক্ষতা দিয়েই দেখা উচিত।’

এখন ভাইরাল হওয়ার পর সবাই তার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইছে। মিনিটে মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পাচ্ছেন। যদিও এ নিয়ে খানিকটা বিরক্ত যোগেশ্বরী। ঝামেলা এড়াতে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল লক করে রাখার চিন্তা করছেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার

অমৃতবাজার/পিকে