ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিচারহীনতার খরাটুকু এবার কাটা উচিৎ: কুবি শিক্ষক


কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:০৮ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার | আপডেট: ০১:০৯ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার
বিচারহীনতার খরাটুকু এবার কাটা উচিৎ: কুবি শিক্ষক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দীর্ঘদিন ধরে চলমান যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়েছে সেই খরা এবার কাটা উচিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ‘Comilla University’-তে একটি পোস্ট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী পিএইচডি গবেষক আসাদুজ্জামান (আসাদ আজিম)।

তাঁর লেখাটি ইতোমধ্যেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সারা ফেলেছে।

তিনি লিখেছেন- ‘দূর থেকে বর্তমান উপাচার্য স্যারের যতটুকু ভুমিকা দেখছি, তাতে তিনি সবার মনে আশার বীজ সঞ্চার করেছেন। সবাই আশা দেখছে ভালো কিছু হবে এবার। কিন্তু এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির চলমান ধারা বইতে থাকলে নষ্টদের আধিপত্যে বিনষ্ট হবে সকল ভালো কিছুর।’

শিক্ষক আসাদুজ্জামানের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘এমনিতেই ফেনীর নুসরাতের ঘটনায় মনটা খারাপ হয়ে আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন আমার নিজের ছাত্রের এ সংবাদ দেখলাম তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই মন মর্জি আরো খারাপ হলো। শরীফ আমার সরাসরি ছাত্র। যতগুলো অনলাইন পোর্টাল দেখলাম, সেই তথ্যের প্রেক্ষিতে মন খারাপই হবার কথা। একদিকে নুসরাতের ঘটনায় সারা দেশের মানুষ যখন ঐ যৌন উত্যক্তকারী অধ্যক্ষের বিচার কামনা করছে, তখন শরীফ ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করে মার খাচ্ছে। তাও আবার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেখান থেকে এসব স্পর্শকাতর বিষয়ের সংস্কার শুরু হওয়ার কথা, সেখানে উত্যক্তকারীদের আধিপত্য। কুুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার হীনতার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। তৎকালীন ভিসি স্যার শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিষ্কার আদেশ তুলে নেন একক ক্ষমতা বলে। আবার বহিস্কার আদেশ তুলে নেয়ার পর সেই শিক্ষার্থী ‘V’ চিহ্ন দেখিয়ে বুঝিয়ে দেয় এমন পুরস্কার পাবার জন্যই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। অবশ্য শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী এই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে নৈপূণ্যের সহিত এমন আরো গল্পের জন্ম দিয়েছেন। শরীফ বিচার পাবে না এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থী সবাই ধরে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তার অমরবাণী দিয়েছেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবো।’ প্রক্টরের এই একবাণী দীর্ঘকাল থেকে শুনে আসছি। ভুক্তভোগী আর বিচার পায় না। যেমনটা পায়নি আমার নিজের বিভাগের ভূক্তভোগী ছাত্রী যে তার নিজ বিভাগের সিনিয়র দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। ঘটনা অন্য রকমও হতে পারতো। মাথায় আঘাতের কারণে শরীফের অবস্থা খালেদ সাইফুল্লার মত হতে পারতো। তখন আমরা সবাই শরীফের জন্য হাহাকার করতাম। আমি নিশ্চিত শরীফের বাবা মা এই ঘটনা শুনে থাকলে সবচেয়ে খারাপ সময়টুকু কাটাচ্ছেন তারা। শরীফের উপর হামলাকারী দুই শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ ও হিমেল নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি এসব করবার জন্য। তাদের বাবা মা ও নিশ্চয়ই ব্যথীত হবেন এই সংবাদ দেখে যে, তাদের সন্তান ইভটিজার ও মারপিটকারী। কুুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকদিনের এই বিচারহীনতার খরাটুকু এবার কাটা উচিৎ। দুর থেকে বর্তমান উপাচার্য স্যারের যতটুকু ভুমিকা দেখছি, তাতে তিনি সবার মনে আশার বীজ সঞ্চার করেছেন। সবাই আশা দেখছে ভালো কিছু হবে এবার। কিন্তু এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির চলমান ধারা বইতে থাকলে নষ্টদের আধিপত্যে বিনষ্ট হবে সকল ভালো কিছুর। ১৪ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং একই সাথে এই দুই শিক্ষার্থীকে তদন্তের পূর্বেই সাময়িক বহিস্কারের দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় উপাচার্য স্যারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, এই ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। কারণ, আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার অভিযাত্রায় এই ধরণের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার অন্যতম নিয়ামক।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় প্রত্নতত্ব বিভাগের ১১তম ব্যাচের এক ছাত্রী ও তার সাথে থাকা নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যান শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হাসান বিদ্যুৎ। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শরিফুলকে মারধর করেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল। এতে শরিফুলের মাথা ফেটে গেলে তিনি মারধর থেকে বাঁচতে দৌড়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে যান এবং সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত শরিফুলকে পার্শ্ববর্তী একটি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

এ ঘটনায় প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর অভিযোগ করে আবার অভিযোগ তুলে নিতে আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা। প্রক্টোরিয়াল বডির অসারতার জন্যই এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

অমৃতবাজার/মাহফুজ/আরবি