ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ দূতাবাস কাহিনী


নঈম নিজাম

প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬, রোববার | আপডেট: ১২:১৬ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৬, সোমবার
বাংলাদেশ দূতাবাস কাহিনী

সময়টা ২০০৩ অথবা ২০০৪ সাল। এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক ছিলাম। চীন গিয়েছিলাম অফিসের কাজে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে। ব্যস্ততার কারনে থাইল্যান্ডের ভিসা নিতে পারিনি। এটিএন বাংলা তখন থাইকম-৩ স্যাটেলাইট ব্যবহার করতো।

আমাদের সঙ্গে থাইকমের একজন প্রকৌশলী ছিলেন। আরও ছিলেন, দুইজন ক্যামরাম্যান ও রিপোর্টার মনিউর রহমান। আমার থাইল্যান্ডের ভিসা ছিলো না। থাই প্রকৌশলীকে মাহফুজ ভাই অনুরোধ করলেন, আমার ভিসার ব্যবস্থা করতে।

তিনি শুধু বললেন না, আমরা সঙ্গে বেইজিং থাইল্যান্ডের দূতাবাসে গেলেন। থাই প্রকৌশলী কথা বললেন তার দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে। তারা বললেন, সমস্যা নেই ভিসা দেবো । কিন্তুু বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি চিঠি আনতে হবে। চিঠিতে লেখা থাকবে আপনি বাংলাদেশের নাগরিক।

কারন তৃতীয় দেশ থেকে ভিসা নিতে এটাই নিয়ম। মহাখুশি ভাব নিয়ে গেলাম বাংলাদেশ দূতাবাসে। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আরেকজন কর্মকর্তাকে ডাকলেন। বললেন, দেখেন কি করা যায়। এই কর্মকর্তা বললেন, স্যার এটা দিতে পারবো না।

অবাক ও বিস্ময় নিয়ে মাহফুজুর রহমান ও আমি তাকালাম। তারা আমাদেরকে চিঠি দিলেন না। বুঝতে পারি আমাদের এই দশা হলে বিদেশে সাধারন মানুষের অবস্থা কি। এরপর বিদেশ গেলে বাংলাদেশ দূতাবাস যে সড়কে আমি তার ধারে কাছে হাটি না। খুব সাবধান থাকি পাসপোর্ট নিয়ে।

পাসপোর্ট হারালে দূতাবাসে যাতে যেতে না হয়। আমাদের বন্ধুরা প্রেস মিনিষ্টার হলে তাদেরকে ফোন করি না।
অনেক দিন পর এবার সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল সাহেবের বাসায় গেলাম। মানুষটি একটু ব্যতিক্রম। বললেন,আপনার দূতাবাস অভিজ্ঞতা শুনে আমারই খারাপ লাগছে।

সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফেসবুক থেকে নেয়া।

Loading...