ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৫ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘দেখি মুকুটটা তো পড়েই আছে রাজাই শুধু নেই’


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার | আপডেট: ১০:২৪ এএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
‘দেখি মুকুটটা তো পড়েই আছে রাজাই শুধু নেই’

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাইমারি স্কুলের জনপ্রিয় শিক্ষক জনাব আব্দুস সাত্তার। গত দু’সপ্তাহ আগে ফোন করে বলছিলেন যে, ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে আমার পিতা আবুল ইসলাম (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য-১৯৭০, গণপরিষদ সদস্য-১৯৭২, প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য-১৯৭৩) কে জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন।

বিগত ৫০ বছর রাজনৈতিক জীবনী কত এমপি, হুইপ, প্রতিমন্ত্রী,পূর্ণমন্ত্রী দেখলাম নির্বাচনী এলাকায় কিন্তু আমার গ্রামে বিদ্যুৎ আসেনি, প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজের সরকারি বিল্ডিং হয়নি, শহীদ মিনার হয়নি, নিজ গ্রামের সবগুলো রাস্তা কাঁচা ছিল, আপনি গত ৫ বছরে সবগুলো কাজ করে দিয়েছেন।

ধানপোতা হাইস্কুলের নতুন বিল্ডিং এর জন্য ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এসেছিলেন উনাকে নিয়ে স্কুলের নতুন বিল্ডিং এর বিষয়ে কথা হচ্ছিল আর যেখানে যাচ্ছি সেখানেই শুধুই আপনার মুখচ্ছবি ভাসছে!

আর তখনই মনে পড়ছে মান্না দে`র সেই বিখ্যাত গানের কথা ‘দেখি মুকুট টাতো পড়েই আছে রাজাই শুধু নেই’। এ কথা বলতে বলতে উচ্চস্বরে হাউমাউ করে অঝোরে কান্না....

মোবাইলে অপরপ্রান্ত থেকে আমি সাত্তার ভাইকে কোন সান্তনা দিতে পারিনি, আমিও নিরবে শুধুই অশ্রু সংবরণ করেছি মাত্র....

ফোন রাখার পরে মনে হল-

মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছি কিন্তু আমার জন্য প্রবীণ-নবীন কাঁদে,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কাঁদে,
ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে কাঁদে....
আমার জন্য মানুষ রোজা-পূজা করে,
পবিত্র কোরআন শরীফ মানদ করে,
মোরগ,মুরগি,ছাগল জানের সদকা দেয়!
এটাই তো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া,সবচেয়ে বড় অর্জন।

অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, সাবেক সংসদ সদস্য, দশম জাতীয় সংসদ, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) এর ফেসবুক থেকে নেয়া।