ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘সড়কে লাশ আর রক্ত আমরা দেখতে চাই না’


ফারদীনা ইসলাম এ্যানি

প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ০৯:৫৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৮, সোমবার
‘সড়কে লাশ আর রক্ত আমরা দেখতে চাই না’

নতুন আইন দরকার, সচেতনতাও বিশেষভাবে জরুরী সর্বক্ষেত্রে। রাজধানীসহ উন্নত শহরগুলোতে রাস্তায় ফ্লাইওভারসহ, সি সি ক্যামেরা লাগানো উচিত বলে মনে করি। তাহলে অপরাধীদের দ্রুতগতিতে সনাক্ত করে আইনি দণ্ডের সাথে অর্থনৈতিক দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। যেমন-চোর, ডাকাত, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, নারী নির্যাতকারী, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক, পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী বাস, পাচারকারী, খুন, ধর্ষণ, গুম, হত্যা ইত্যাদি।

তাছাড়া ঈদের আগে পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী ও মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে লোড নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে সমাধান করা উচিত বলে মনে করি পর্যায়ক্রমে।

স্কুল, কলেজগুলোতে আলাদা গাড়ি এবং গাড়ির রঙ সারাদেশে এক রকম হলে সহজে স্কুলের, কলেজের গাড়িগুলো সনাক্ত করা যাবে- এটি খুবই প্রয়োজন।

কতোবার ফুটপাত দখলমুক্ত করা যায়? আবারও হকাররা এসে বসে ফুটপাতে, আর পথচারীরা নামে রাস্তায়, ঘটে দুর্ঘটনা (আইন চাই) নিজেরা বদলাবে না?

যশোর পৌরসভার নতুন ড্রেনের ভিতর তরকারির খোসা। তার সামনেই রয়েছে ডাস্টবিন (আইন দরকার) নিজেরা সচেতন কেন হবে? দুদিন পর বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমবে পানি। কারণ আমিই তো ড্রেনের মুখ বন্ধ করলাম।

তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশে রাস্তার দুইধারে সারিবদ্ধ ভাবে গাছ লাগানো হয়, ছায়া অথবা সাপোর্টের জন্য। আর এ কারণেই গাছেই প্রাণ যায় হাজার মানুষের। উন্নত দেশগুলোতে রাস্তার দু’ধারে গাছ আছে তবে প্রায় ২০-৩০ ফুট দূরে। আর রাস্তার সীমানা দিয়ে থাকে ভারিপাতের ঢালাই ও সিট সেখানে যদি দুর্ঘটনা ঘটেও প্রাণ যায় না।

আমাদের দেশের রাস্তা করা হয় ইট, পাথর, পিচ দিয়ে। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতি বছর বৈরি মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো জায়গায় জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে রাস্তায় চলার অনুপযোগী হয়ে যায় তখনি ঘটে দুর্ঘটনা।

আমাদের জানা উচিত রাস্তার যে পিচ (সূর্যের আলো) রৌদ্রে গলে গরম হয়ে পাথরটিকে আটকে ধরে রাখে এবং রাস্তাটিকে আরো মজবুত করে। সেখানে গাছের ছায়া রাস্তাটিকে ঢেকে রাখে এবং বৃষ্টির কারণে রাস্তা স্যাতসেতে হলেই অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাকের চাকায় পাথরগুলো উঠে যায় এতে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, যেখানেই গাছের ছায়া সেখানে রাস্তার বেশি দুরবস্থা, সেখানেই নিরীহ মানুষের প্রাণ বেশি যায়।

তাই বলতে চাই নতুন রাস্তা হলে অবশ্যই ফোর লেনের রাস্তা হওয়া দরকার এবং ২০-৩০ ফুট দুরে গাছ লাগান। কারণ রাস্তার দুধারে সরকারি জমির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। সি সি ক্যামেরা লাগান সরকারি, প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি মালিকানা ভাবে যার যার অবস্থান থেকে।

আমি মনে করি আমাদের সন্তানরা যে আন্দোলনটি করছে এটা অবশ্যই যৌক্তিক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো অবিলম্বে উঠিয়ে দেয়া উচিত।

উল্লেখ্য, সন্তানদের সকল আন্দোলনের দাবিগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছেন।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, যশোর জেলা শাখা।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান