ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শুভ্রার মত শুভ্রতা ছড়ানো সিনেমা স্বপ্নজাল!


তানভীর মেহেদেী

প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ০৫:১৪ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
শুভ্রার মত শুভ্রতা ছড়ানো সিনেমা স্বপ্নজাল!

সিনেমার নাম ‘স্বপ্নজাল’। তবে তারচেয়ে বড় ব্যাপার সিনেমার ডিরেক্টর ‘গিয়াস উদ্দীন সেলিম’, যিনি এর আগে বাংলা সিনেমার ডেফিনেশন চেঞ্জ করে দেয়া টাইপের সিনেমা ‘মনপুরা’ বানাইছিলেন। মনপুরার ৯ বছর পর তিনি নতুন সিনেমা বানাইছেন। একটা সুপারহিট সিনেমা বানানোর পর এত এত দিন সময় নিয়ে একটা সিনেমা বানাইছেন তিনি। কি বানাইলেন! এইটা দেখার জন্যই এত আগ্রহ।

স্বপ্নজাল সিনেমায় স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন পরীমনি মানে শুভ্রা। আর পুরো সময়টাজুড়ে সেই স্বপ্নের জাল বুনেছেন ইয়াশ রোহান মানে অপু। দুই ধর্মের দুইজন মানুষ শুভ্রা আর অপুর প্রেম কাহিনীর সিনেমা স্বপ্নজাল। আবার হয়ত প্রেমের চেয়েও বেশি কিছু কিংবা অন্য কোনো গল্প! সিনেমায় কখনো ধর্মের চেয়ে মানুষ বড় হয়েছে আবার কখনো মানুষের চেয়ে বড় ধর্ম।

ডেসপারেট লাভের সাথে প্যারালালি সমাজ কি ভাববে, এই দুইটা খুব যত্ন নিয়ে দেখানো হয়েছে বলে সিনেমাটা প্রচুর ন্যাচারাল হয়েছে।

সিনেমাটা যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে। গল্প বয়ে চলেছে নদীর গল্প। নদীর যেমন শেষ হয় না তেমন এই গল্পেরও কোনো শেষ হয়ত হবে না। জাল বুনে যাওয়া স্বপ্ন চলবে যুগ যুগ ধরে।

স্বপ্নজাল দেখা শুরু করার আগে মনপুরার কথা বারবার মনে হবে। সিনেমা শেষ হওয়ার পরও হয়ত মনপুরার সাথে কম্পেয়ার করার একটা চেষ্টা মনের মধ্যে আসবে। তবে সিনেমাটা চলার সময় একবারের জন্যও মনপুরার কথা মনে আসে নাই।

গিয়াস উদ্দীন সেলিম আমাকে পুরোপুরি স্বপ্নজাল দেখাতে পেরেছেন কোনো প্রকার প্রভাব ছাড়া।

পরীমনিকে দেখে কখনো মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গল্পের নায়িকার মত কিংবা রবীন্দ্রাথের কবিতার উপমার মত। এটারও একটা কারণ থাকতে পারে। কোনো এক টক শোতে পরীমনি বলেছিলেন, তার প্রথম প্রেম রবীন্দ্রনাথ। শুধু এই অন্যরকম পরীমনিকে দেখার জন্য এই সিনেমা বারবার দেখা যায়।

অপুর কথা একটু বলি, কলকাতার আর্টফিল্ম দেখে তাদের মত নায়ক না থাকার আফসোস করা একজন হিসেবে আজ থেকে বলতে হবে, আমাদের একজন ইয়াশ রোহান আছেন। যিনি প্রেমের ছবিতে পুরোপুরি প্রেমিকের মত করে কথা বলতে পারেন। ডেবু ফিল্মেই এত ন্যাচারাল একটিং করতে পারেন।

ফজলুর রহমান বাবু ভাই কোথায় গিয়ে থামবেন সেটা ভাবতেও আমার গর্ব হয়। একজন মানুষ এত ডেডিকেটেড কেমনে হয় ভাই? লাস্ট অনেকগুলা ভালো বাংলা সিনেমায় তাকে দেখে মনে হচ্ছে, বাবু ভাই ওয়ান ম্যান আর্মি টাইপ হয়ে যাচ্ছেন দিনে দিনে। আই থিংক, স্ক্রিনে তাকে একটানা দুই তিন ঘন্টা ধরে সহ্য করা যাবে।

মিশা সওদাগর হ্যাভিং অ্যা প্রিটি ডিসেন্ট লুক হিয়ার। তারে দেইখা ভাল্লাগছে। ডিফরেন্ট লুকের ইরেশ জাকেরও জোশ!

স্ক্রিপ্টটা খুব সময় নিয়ে কেয়ার করে লেখা। এমন এমন সিচুয়েশনে কিছু হাসির এলিমেন্ট বের করে আনা হয়েছে যেটা দর্শককে স্ক্রিনে আটকে রাখবে।

তবে সিনেমাটার মাঝখানের পর কিছুটা স্লো মনে হবে।

স্বপ্নজাল এক্সপেক্টেশনের বাইরের গল্প। আমি যেমন যেমন ভাবতেছি পর্দায় তেমন তেমন হচ্ছে না। মনপুরা মানুষ বেশি নিয়েছিলো কারণ সেটা হয়ত খুব ইজি একটা গল্প ছিলো। সবাইকে টাচ করার মত। এটা ডিফরেন্ট গল্প।

মনপুরা আর স্বপ্নজাল পুরোপুরি আলাদা সিনেমা। ভাত খেতে খেতে মনপুরা দেখা যায়, তাতে হয়ত ফোকাস নষ্ট হবে না তবে স্বপ্নজাল দেখতে হবে গালে হাত দিয়ে বসে। এরপর ‘আসলে কী হইতেছে ভাই?’ টাইপের একটা কিওরিসিটি নিয়ে।

স্বপ্নজাল ডায়ালগ বেইজড সিনেমা। প্রচুর ডায়ালগ আছে মনে রাখার মত। তবে এই সিনেমায় প্রচণ্ডরকম গানের অভাব ছিলো। এমন একটা নিটোল প্রেমের সিনেমায় আরও চমৎকার কিছু গান থাকতে পারতো। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আরও স্ট্রং হতে পারতো। আরও ভ্যারিয়েশনাল মিউজিকে দর্শকের টেনশন আরও বাড়ানো যেত।

সিনেমার খুব সাধারণ একটা ডায়ালগ... ‘ভালোবাসা মরে নাকি?’ এটা শুনেও আমার মনে হয়েছে আমি ডিফরেন্ট কিছু শুনলাম। এটাই সেলিম সাহেবের ক্রেডিট। এটাই স্বপ্নজাল!

তবে সিনেমার প্রতি পুরোপুরি ভালোবাসাটা চলে আসে দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে পরীমনির সেই কথাগুলো শুনেই। মনে হয়, কি সুন্দর! কি স্নিগ্ধ। কি শুভ্র!

"আমার মনটা তোমার কাছে রেখে গেলাম,
মনটাকে মোর বসতে দিও,
মুড়ি-মুড়কি খেতে দিও,
জলের গ্লাস দেয়ার ছলে,
একটু শুধু ছুঁয়ে দিও!"

ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত

অমৃতবাজার/তানভীর/সাজ্জাদ