ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আপনি বাংলাদেশের লজ্জা, আপনি বাংলাদেশের অপমান


জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
আপনি বাংলাদেশের লজ্জা, আপনি বাংলাদেশের অপমান

ক্লাস থ্রি কি ফোরে থাকতে শিশু একাডেমীতে এসেছিল আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ নামের রাজাকারটি। মুজাহিদ তখন খালেদা জিয়ার নামী মন্ত্রী। সে এসেছিল প্রতিবন্ধী শিশুদের হুইল চেয়ার দিতে। অথচ আমার চাচা, খালু- এসব মুক্তিযোদ্ধার কল্যাণে আমি অনেক আগেই জানি- এই লোকটি রাজাকার। অসংখ্য শিশু ও মানুষের রক্ত লেগে আছে ওই লোকটির হাতে। আমার দায়িত্ব ছিল শিশু একাডেমীতে কোনো মন্ত্রী এমপি এলে আমার তাকে ফুল দিয়ে বরণ করতে হবে। আমার দায়িত্ব ছিল ওই রাজাকারটিকে ফুল দেওয়া! আমি ফুল দেবো, তাও এক রাজাকারকে?

আমি সেই ফুলতো দেইনি, বরণও করিনি। মুজাহিদ নামের রাজাকারটি যেন ফুল না পায় তার অভিনব উপায়ও করে রেখেছিলাম। ফুলের তোড়া লুকিয়ে রেখেছিলাম লাইব্রেরী রুমে। এটা নিয়ে আমাকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। আমার সহপাঠীদের মায়েরা বলেছে- আমি ছোটকাল থেকে রাজনীতি শিখছি!

খালেদা জিয়ার জন্য আক্ষরিক অর্থেই আমার দুঃখ হচ্ছে। অথচ তিনি হতে পারতেন আমাদের শক্ত নির্ভরতার জায়গা, হতে পারতেন আইকন বীরাঙ্গনা, দেশের শক্ত অপজিশন পার্টির নেত্রী। আমিতো জানতাম তিনি বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধে যে আড়াই লক্ষ নারী ধর্ষিত নির্যাতিত হয়েছিল তিনি তাদের আশ্রয়ের জায়গা হতে পারতেন চাইলেই। উল্টো তিনি হয়েছেন ভিলেন। আড়াই থেকে তিন লাখ নির্যাতিতার মুখে ঝাঁটা মেরে তিনি জামায়াত-শিবিরের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত অপমান করে যুদ্ধাপরাধী নিজামি-মুজাহিদ-সাকাদের হাতে তিনি ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তভেজা পতাকা তুলে দিয়েছিলেন, ওদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন!

একটা দেশের জাতির জনক নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে সেটা ঠাণ্ডা মাথাতেও আসেনা। কিন্তু তিনি সেই কর্মটিও করেছিলেন। আমাদের জান কয়লা হয়ে গেছে কেবল বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভূমিকা বুঝতে বুঝতেই। ইতিহাস বইয়ে ‘জেড’ ফোর্সের মেজর জিয়ার যে গুণগান ছিল সেটার একরত্তি ছিলোনা বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা!

খালেদা জিয়া, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আপনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিতে পারে, এতিমরা তাদের টাকা মেরে দেওয়ার দায় থেকেও আপনাকে নিষ্কৃতি দিতে পারে। কিন্তু পুরো বাংলাদেশ আপনাকে কোনোদিন ক্ষমা করবেনা, বাংলাদেশের পতাকা আপনাকে কোনোদিন ক্ষমা করবেনা! আপনি বাংলাদেশের লজ্জা, আপনি বাংলাদেশের অপমান। আমরা একাত্তর সালে দেশের অপমান মেনে নেইনি, ২০১৮ সালেও নেবোনা!

লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে।

অমৃতবাজার/মাসুদ