ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অসময়ে-প্রণয়ে


রাসেল আহমেদ

প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:১৬ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
অসময়ে-প্রণয়ে

আশালতাকে বললাম, দাড়িয়ে কেনো? বোসো। কফি মগটা এগিয়ে দাও আধ চামচ চিনি দিয়ে দিই। আশালতা কাধের দুই পাশে এলিয়ে থাকা চাদর শরীরে মুড়িয়ে নিয়ে বললো, কিছু বললে?

অন্যমনস্ক দেখে কফির চিনির কথাটা বললাম না আর। বললাম, নাহ! কিছু বলিনি। সিগারেট খাবে?

কচু পাতার উপরে দুলতে থাকা পানির মত ঠোটের উপরে হাসি দুলিয়ে উত্তর দিলো, আমি বুঝি সিগারেট খাই?

না, তা খাও না। তবে মাঝে মাঝে আমার প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট মুখে নিয়ে না ধরিয়েই সিগারেট খাওয়ার ভঙ্গি করো। মনে হয় আশকারা না পেয়ে ধরাতে পারছো না। এখন তাই একটু আধটু আশকারা দিচ্ছি।

বা রে! ওরকম ভঙ্গি না করলে কি তুমি আমার প্রেমে পড়তে নাকি? ওসব তোমার মিথ্যে আশকারা আমার ভালো করে জানা আছে। সিগারেটটা ধরালেই তুমি অপছন্দ করবে। কি? করবে না?

হা-হা-হা। তা করবো।

কই তুমি না কফিতে আধ চামচ চিনি দিতে চেয়েছিলে?

তুমি শুনেও তো জিজ্ঞেস করলে, কিছু বললে? 
অন্যমনস্ক দেখছিলাম। ভাবলাম, থাক! চিন্তা ভাবনার কাছে চা কফি তুচ্ছ!

সিগারেট বুঝি তুচ্ছ না?

সিগারেট নিয়ে ঝগড়া করো না এখন। খেতে ভালো লাগছে।

আচ্ছা করবো না। তখন ভাবছিলাম, আমরা তো বৃদ্ধ হয়ে গেলাম। তিন চামচ চিনি দিয়ে কফি খাওয়া তুমি ব্ল্যাক কফি ধরলে। আচ্ছা, তোমার ডায়বেটিসের কি খবর এখন? ডাক্তার লাস্ট চেক আপে কি বলেছিলো?

বাদ দাও সে কথা। আগের মত মিস্টি তো আর খাচ্ছি না। মিস্টির দোকানীর বয়স হয়েছে বুঝলে?

আমাকে বললে?

বললাম একটু। হা-হা!

এসব কথা বললেই যেনো তোমার বয়স কমে যায়!

যদি কমতো! বুঝলে আশালতা, তাহলে আবার প্রথম প্রহরে ফিরে যেতে চাইতাম। গুনে গুনে তিন চামচ চিনি খেয়ে বাহাদুরি দেখাতাম।

থাক তোমার বাহাদুরি! শীত লাগছে না তোমার? যা শীত পড়ছে এবার শহরে!

তুমি পাশে থাকলে আবার শীত লাগে নাকি!

হয়েছে হয়েছে। বয়স কমিয়ে নিজেকে শিশু বানিয়ে নিচ্ছ একেবারে!

ভালো কথা বলেছ। তোমার শৈশব আমার ভীষণ প্রিয়। কি চঞ্চল ছিলে তুমি। মেয়েটাও তোমার মত হলো। অরণ্যের কি খবর রে?

তোমার মেয়ের খবর আমার কাছে জানতে চাচ্ছ? বিয়ের পরে থেকে পর হয়ে যেতে শুরু করছে। তোমার খোজ খবর নেয় না বলে আমার মেজাজ গরম হয়!

আহ! কে বললো তোমাকে খোজ খবর নেয় না? রোজ তিন চারবার করে খোজ নিচ্ছে, ওষুধ খাচ্ছি কি না জিজ্ঞেস করছে আর কত করবে, বলো?

ছাই!

রেগে আছো নাকি ওর উপর?

না। তোমার উপর রেগে আছি। মেয়েকে এত ভালোবাসতে গেলে কেনো? বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তোমার অসুখ বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। আমি কি কিছু বুঝি না?

মেয়েকে ভালোবাসবো নাতো কাকে বাসবো। মাই ডিয়ার প্রিন্সেস চার্মিং! আহা কান্না করছো কেনো?

তোমার এবারের ডাক্তারের রিপোর্টটা খুবই বাজে এসেছে। তোমার সেদিকে কোনো ভাবনাই নেই!

কি হবে ভেবে বলো? ভাবতে ভাবতে তোমার সাথে এক জীবন কেটে গেলো।

অমৃতবাজার/মিঠু