ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাটা জুতা কিনে প্রতারিত ক্রেতারা, ফেসবুকে অভিযোগ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৫৩ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৭, মঙ্গলবার
বাটা জুতা কিনে প্রতারিত ক্রেতারা, ফেসবুকে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক চামড়াজাত পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বাটার বিরুদ্ধে নিন্মমানের কাচাঁমাল দিয়ে তৈরি জুতা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (বিজেম) এর পরিচালক মীর্জা তারিকুল কাদির।

তিনি লেখেন, ‘ইহুদি মালিকানায় বহুজাতিক কোম্পানি বাটা (Bata)। তাঁদের বিক্রয় করা জুতোর অবস্থা দেখুন...। জুতার বয়স দু’মাসও হইনি। এরই মধ্যে বেহাল অবস্থা । কিনেছিলাম এই বছরের ঈদ উল ফিতরের দুই দিন আগে বসুন্ধরা সিটি`র বাটার মেগা শপ থেকে। দাম প্রায় তিন হাজার টাকা। মাত্র কয়েকদিন পরেছে আমার ছেলে। পরের অবস্থা আপনারাই দেখুন- বিচার করুন প্রতারণার। ওদেরকে বর্জন করুন প্লিজ। আমি আর কখনই ওমুখো (বাটার পণ্য কিনতে) হবো না।’
"/
কমেন্ট, লাইক ও শেয়ারের মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হচ্ছে মীর্জা তারিকুল কাদিরের করা অভিযোগটি। মাসুদ রানা নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ভাই আমিও তিন হাজার টাকা দিয়ে কিনে ১৫ দিনও পরি নাই। অবস্থা দেখেন। আমি বাটার ধারে কাছেও হাটবো না।’

ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টিপু লিখেছেন, শুধু বাটা নয়,অনেক জুতা কোম্পানি এখন প্রচারের দিকেই মনযোগী বেশী, কোয়ালিটির দিকে নয়, এদের জুতাপেটা করা দরকার।

কমেন্টেসে নষ্ট হয়ে যাওয়া বাটা জুতার ছবি পোস্ট করে বি বো নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, শুধুমাত্র ৩ দিন ব্যবহার করেছি। দাম ছিলো ২,৫৯০ টাকা।

এদিকে শুধু  বাট নয় অ্যাপেক্স জুতা নিয়েও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। সাজেদা হক নামের একজন সংবাদ কর্মী লিখেছেন, ‘ঠিক। আমি এপেক্স থেকে জুতা কিনেছি ১৩ আগস্ট, ২৫ আগস্ট ওটা ছিড়ে গেছে। রশিদ রেখেছিলাম, দোকানে ছেঁড়া জুতা দিয়ে এসেছি।’
"/
বাটা নিয়ে আব্দুর রহমান খান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘তারেক ভাই, আপনার এ অভিজ্ঞতা অনেক দেরীতে হলো। আমার ১৫ বছর আগেই এ অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাটা এখন আর নিজের কারখানায় জুতা বানায় না, ওরা অন্যদের দিয়ে অনেক কম খরচে বানায়। ওদের অনেক লাভ (৭০০% লভ্যাংশ নেয়)।’ এখানে এ জিয়া হক নামে একজন কমেন্টস করেছেন, ‘গত ঈদের সময় নিউজ হয়েছে, চায়না থেকে সস্তায় জুতা আমদানি করে বাটা।’

পলাশ মমিন নামে একজন লিখেছেন, ‘একটা বেল্ট কিনেছিলাম বনানী শোরুম থেকে। চার দিন পরার পরে সেলাই এর সুতা উঠে আসতে শুরু করে। পরবর্তীতে ওদের কে দেখালাম। ওরা বলে এটা আমাদের না। তখন মানি রিসিপ দেখালাম। তারপর বিশ্বাস করলো না। পরে বললেন ভাই এটা সেলাই করে নিয়েন ঠিক হয়ে যাবে। আমি বলছিলাম পরিবর্তন করে দেন। কিন্তুু দিবে না। তারপর আর কি চলে আসলাম এবং বাটা বর্জন করলাম।’
"/
জানা গেছে, নিন্মমানের কাচাঁমাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাটার জুতা। সেই সাথে মুনফা বাড়াতে বেশির ভাগ জুতাই তৈরি হচ্ছে অন্য কারখানায়। সব মিলে চড়া দাম দিয়ে জুতা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

অমৃতবাজার/আরএ/এমএএন

Loading...