ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সাপ না মারার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর


শিহাবুল ইসলাম, রাজশাহী

প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৭, শনিবার
সাপ না মারার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

শুধু রাজশাহীতেই গত ১১ দিনে মারা পড়েছে ২৫৬টির মতো বিষধর গোখরা সাপ। সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়িতে ডিমসহ গোখরা সাপ পাওয়ার পর সাপগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। ফলের দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন সাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

সাপ নিয়ে আতঙ্কিত মানুষকে ফেসবুকে পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লেখেন, ‘ঝুঁকি মনে হলে বাসায় কার্বলিক এসিড রাখবেন। খুব সমস্যা মনে হলে সাপ ধরে (গ্রামে সাপ ধরার মানুষ পাওয়া যায়) বন বিভাগ বা প্রাণি বিভাগে দিয়ে দিবেন। কিন্তু অযথা মেরে নতুন বিপদ ডেকে আনবেন না দয়া করে।’

‘ভয়ে ভয়ে একটা কথা বলি!’ শিরোনামে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এই সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লেখেন, ‘যতদূর জানি সাপ নিরীহ প্রাণিদের একটা। সাপ শুধুমাত্র আঘাত পেলে ছোবল দেয়। দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন যথেষ্ট পরিমাণ এন্টিভেনম আছে।’

রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাপ নিধনের খবর প্রকাশ হচ্ছে গণমাধ্যমে। এতে অনেকে সাপ মারতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘কয়েকদিন থেকে দেখছি রাজশাহী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে সাপ খুঁজে খুঁজে মারা হচ্ছে। প্রায় সব পত্রিকা সেটা গ্রহণযোগ্যভাবে প্রচার করছে। না বুঝে নতুন করে মানুষ সাপ মারতে উৎসাহিত হচ্ছে।’

সাপের উপকারিতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘এই সব জায়গার কোথাওই সাপেড় কামড়ে সম্প্রতি কেউ মারা গেছেন তাও শোনা যায়নি। কিন্তু তবুও চলছে সাপ মারা। আপনারা জানেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে সাপের অবদান? পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ সাপের প্রধান খাবার। সাপ এগুলো না খেলে আমরা হয়তো টিকতে পারতাম না।’

সাপ নিধনের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘ইঁদুরের গর্তে ঢোকে সাপ ইঁদুর ধরার জন্য। যেসব জায়গায় সাপ ধরে ধরে মারা হচ্ছে সেসব জায়গায় আগেও সাপ ছিলো, বাচ্চা হতো। সেই সাপগুলো ইঁদুর নিধন করতো। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে এই জায়গাগুলো ইঁদুরের দখলে চলে যাবে। আর ইঁদুর যে কি ক্ষতি করতে পারে তা আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি।’

শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রীর এই পোস্ট দেয়ার পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই লেখাটিতে লাইক দেন সাড়ে চার হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী। লেখাটা শেয়ার করেছেন প্রায় দেড়শ জন। বহু মানুষ নিজেদের মতামতও ব্যক্ত করেন। অনেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সমর্থন করলেও কেউ অভিযোগ করেছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম থাকে না। সাপ নিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদেরও কোনো আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

গত ৪ জুলাই থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজশাহী নগরী ছাড়াও জেলার তানোর, দুর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর ও চারঘাট উপজেলায় মারা হয়েছে ২৫৬টি গোখরা। ভেঙে নষ্ট করা হয়েছে ১৮৮টি ডিমও। গৃহস্থবাড়ির শোবার ঘর, গোয়ালঘর, রান্নাঘর এমনকি বারান্দায় মিলেছে এসব। প্রাণি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গলে ডিম পাড়ার জায়গা কমে যাওয়ায় মানুষের ঘরমুখী হচ্ছে বিষধর এই সরীসৃপ প্রাণি।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান

Loading...