ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘আশীবিষে দংশিত আমি’


ইমাউল হক

প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ০৬ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার
‘আশীবিষে দংশিত আমি’

আশীবিষ দান করতে চাইলেও কেউ নিবে না। সাপুড়ে হোসেন পাগলা মারা গেছে তারই পোষ মানানো ‘টিফেল’ সাপের কামড়ে। সাধারণত সাপের বিষে সাপুড়ে দংশিত হলে কেউ অবাক হয় না। কারণ সাপ নিয়েই তাদের জীবন। সাপুড়ে সাপ ধরে বিষদাঁত উপড়ে দেয়। মানে আশীবিষ নষ্ট করে। যা নিরাপদ।

হোসেন পাগলা তার জীবনের একটি সাপের নাম ‌‘টিফেল’-এর বিষদাঁতের সবগুলো উঠাতে গিয়ে ভুলে একটি থেকে যায়। বুঝতে পারেনি। দিনে ২২ টাকা আয় করে ২১ টাকা ব্যয় করতো সাপের পিছনে। পৃথিবীর পোষা প্রাণী মনে করে ১১ মাস চলছে। ততদিনে ভুলে থেকে যাওয়া বিষদাঁত হোসেন পাগলার রোজগার খেয়ে বড় হয়েছে। এটা বুঝতে পারেনি।

হাটের মধ্যে খেলা দেখাতে গিয়ে ‘টিফেল’-কে গলায় নিয়ে দর্শককে দেখাচ্ছে। সঙ্গে আরও সাপ আছে সেগুলো দেখছেন। টিফেলকে ঐ দিন ফনা তুলতে দেখে হোসেন পাগলা হাসতে থাকে। সে মনে করে যে বিষদাঁত নাই। হঠাৎ করেই ‘টিফেল’ ফনা তুলে হোসেন পাগলার বুকে দংশন করলো।

অন্য সাপ গুলি বিষ তুলে নেওয়ার চেষ্টায় হোসেন পাগলা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন সাপুড়েদের সাগরেদ ‘টিফেল’ এর বি ষদাঁত আছে বলে তাকে বেশি দামে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

তারা হয়তো ‘টিফেল’-এর বিষদাঁত উঠাবে, না হয় টিফেল দ্বারা দংশিত হবে। ফলাফল যা তাই হবে।

আমিও এমনিভাবে বড় আশীবিষে দংশিত। উপযুক্ত পরিমাণ জিংক ইনজেকশন না হলে বিষ থেকে যাচ্ছে আর এই ইনজেকশন এর দাম অনেক যা আমার সাধ্যের বাইরে। এ যেন-

‘মারিয়া ভুজঙ্গ তীর, কলিজা করিলো চৌচির,
কেমন শিকারী তীর মারিলো গো।
বিষ মারিয়া তীরের মুখে মারিলো তীর আমার বুকে,
দেহ থুয়া প্রাণটা লইয়া যায়।’

যশোর জেলা ডিবি’র সাবেক অফিসার ইনচার্জ ইমাউল হক’র ফেসবুক থেকে নেয়া।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান

এ সম্পর্কিত আরও খবর...
Loading...