ঢাকা, রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

টেকশহর ল্যাপটপ মেলার উদ্বোধন


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:১৪ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
টেকশহর ল্যাপটপ মেলার উদ্বোধন

‘শোক থেকে শক্তি, প্রযুক্তিতে মুক্তি’ স্লোগানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) তিনদিনব্যাপী ‘টেকশহর ডটকম ল্যাপটপ ফেয়ার ২০১৭’ উদ্বোধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। অবশ্য সকাল ১০টা থেকেই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বিআইসিসির মিডিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের জ্যেষ্ঠ পুত্র সাংবাদিক-নির্মাতা বিপুল রায়হান, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এক্সপো মেকারের কৌশলগত পরিকল্পনাকারী মুহম্মদ খান, এইচপির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সালাউদ্দিন মো. আদিল, ডেল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আতিকুর রহমান।

প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কল্পনা নয়। আমরা অনেক এগিয়েছি। নতুন প্রজন্মকে শুধু বলতে চাই তোমাদের অনেক কিছু করার আছে। দেশ তৈরি হয়েছে এখন তোমাদের কাজে মনোযোগ হতে হবে। টেকনোলজি এগিয়েছে, আমরা অন্যদের থেকে পিছিয়ে নেই। আমরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারি আবার কম্পিউটার, ল্যাপটপও ব্যবহার করতে পারি। বাঙ্গালিরা সব কিছুই পারে। যেভাবে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি। তাই তোমরা তোমাদের শক্তি কাজে লাগাও। প্রজন্মের কাছে বলতে চাই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তোমরা কাজের বাস্তবায়ন করো।

বিশেষ অতিথি বিপুল রায়হান বলেন, লাল সবুজের পতাকা আমরা পেয়েছি। পেয়েছি সুন্দর একটি দেশ; এখন প্রয়োজন দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ যত বেশি হবে আমরা এগিয়ে যাবো তত। তবে একটি কথা, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে আন্তর্জাতিক দিবসে পরিণত করতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। কারণ তালিকা করে বুদ্ধিজীবি হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

বেসিস সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, দেশের অসাধারণ দুটি কাজ হয়েছে। সফটওয়ার ও হার্ডওয়ার নিয়ে। এছাড়া হার্ডওয়ার উৎপাদনে উর্বরভূমিতে পরিণত হয়েছে আমাদের দেশ। কিন্তু ব্যাপারটি এত সহজ ছিল না। প্রযুক্তিতে এখন অনেক এগিয়েছি আমরা। বাংলাদেশের দিকে সবাই বিস্ময়কর চোখে তাকায়। কারণ আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেশকে ঘোষণা দিয়েছি তখনও অনেকের তুলনায় পিছিয়ে ছিলাম। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখ করে এই প্রযুক্তিবিদ বলেন স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রযুক্তির যে অগ্রগতি হয়েছে তার সিংহভাগ হয়েছে বিগত সাত বছরে।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, আমরা যখন উইকিডিয়াতে কাজ শুরু করি তখন ১ হাজার জন শহীদের নাম ছিল। এখন এর সংখ্যা আরো বেড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। যেটা গুগল সার্চ করলেই বোঝা যায় কতটুকু এগিয়েছি। ২০০৯ সালে যখন ঘোষণা হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ, তখন থেকে অনেক কাজ করতে হয়েছে; এখন চলছে। তবে আশার কথা আমরা অনেক এগিয়েছি এবং আরো এগিয়ে যাবো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এক্সপো মেকারের আয়োজনে এটি দেশের ১৯তম ল্যাপটপ প্রদর্শনী। এবারের আয়োজনে একটি মেগা-প্যাভিলিয়ন, পাঁচটি স্পন্সর প্যাভিলিয়ন, ১৪টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৭ স্টলে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তির পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। মেলায় বিভিন্ন পণ্যে রয়েছে ছাড় ও নানা ধরনের অফার।

এক্সপো মেকারের কৌশলগত পরিকল্পনাকারী মুহম্মদ খান জানান, পূর্বের মেলাগুলোতে শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্মসহ সকলের অংশগ্রহণ ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। আশা করছি এবারের মেলা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ল্যাপটপের পাশাপাশি মেলায় সর্বশেষ প্রযুক্তি ও ডিজাইনের ডিভাইস নিয়ে হাজির হয়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সর্বশেষ মডেলের ল্যাপটপের পাশাপাশি আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে। সব ধরনের পণ্যেই পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ ছাড় এবং সঙ্গে উপহার।

‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ এর প্রধান নিবার্হী আব্দুল্লাহ কাজল বলেন, বিজয়ের মাসে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের এমন মেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণহত্যার ইতিহাস ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরবে ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’। প্যাভিলিয়নে থাকবে একাত্তরে দেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত বিভিন্ন গণহত্যা এবং সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন ইতিহাস, ছবি। তবে সেখানে তরুণ প্রজন্মকে জানানোর জন্য প্রযুক্তির সহায়তায় সে সব ইতিহাস তুলে ধরার ব্যবস্থা রয়েছে।

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মেলায় গণহত্যা প্যাভিলিয়নে রয়েছে নানা আয়োজন। আর এই আয়োজন চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম বিষয়ক বিশেষায়িত নিউজ পোর্টাল টেকশহরডটকম (techshohor.com)। সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে এসার, আসুস, ডেল, এইচপি, লেনোভো। টিকিট বুথ স্পন্সর আরওজি। নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এডুমেকার। মেলায় একটি মিডিয়া বুথও রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা। তবে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কিংবা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। প্রতিবন্ধীরাও বিনামূল্যে প্রবেশের এই সুযোগ পাবে। মেলায় টিকেটের অর্থ দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন সাংবাদিকের চিকিৎসায় সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রদর্শনীর সব আপডেট ও খবর মেলার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ (facebook.com/laptopfair.bd) এবং টেকশহরডটকম (techshohor.com)-এ পাওয়া যাচ্ছে।

অমৃতবাজার/মাসুদ