ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অতীতের জনপ্রিয় মোবাইল ফোনগুলো


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | আপডেট: ০৬:২২ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার
অতীতের জনপ্রিয় মোবাইল ফোনগুলো

বর্তমানে আমরা স্মার্টফোনের যুগে বসবাস করছি। বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন থেকে আমরা অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে এসেছি। তবে এমন কিছু মোবাইল ফোন ছিল যেগুলো একটি স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক অতীতের এমন জনপ্রিয় ১৫টি মোবাইল ফোনের কথা।

১. মোটোরোলা স্টার টিএসি
১৯৯৬ সালে বাজারে আসা এই ফোনটি ছিল তার ধরনের প্রথম ফোন। এটি ছিল একটি ২জি ফোন। যাতে ছিল ৪x১৫ ক্যারেক্টার রেজ্যুলেশনের একটি মনোক্রোম গ্রাফিক ডিসপ্লে। এছাড়াও ফোনটিতে আরো ছিল মোনো-রিঙটোন, ভাইব্রেশন অ্যালার্ট এবং ৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি।



২. নোকিয়া ৩৩১০
ফিনল্যান্ড ভিত্তিক কম্পানি নোকিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ফোন ছিল এটি। ২০০০ সালে বাজারে আসা এই হ্যান্ডসেটটি প্রথম মোবাইল ফোনের জগতে কাস্টমাইজেবল এক্সপ্রেস-অন কভার নিয়ে এসেছিল।
এতেই প্রথম জনপ্রিয় স্ন্যাক টু মোবাইল গেমের সঙ্গে পরিচিত হয় বিশ্ব।



৩. নোকিয়া ১১১০
সবসেময়ের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ছিল এটি। স্লিম ডিজাইন, টেকসই বডি এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যটারির জন্য জনপ্রিয় হয়েছিল ফোনটি। ২০০৩ সালে বাজারে আসা এই ফোনটিতেই প্রথম টর্চলাইট যুক্ত করা হয়েছিল। এটি ৫০টি টেক্সট ম্যাসেজ ধারন করতে পারত এবং এতে ছিল সুন্দর সব রিঙটোনের কালেকশন। ফোনটি অনেক উঁচু থেকে পড়ার পরও ভাঙতোনা।



৪. নোকিয়া ৬৬০০
একে বলা যায় প্রাথমিক স্মার্টফোনগুলোর একটি। এতে ছিল সিমবিয়ান ওএস অপারেটিং সিস্টেম এবং একটি ভিজিএ (০.৩ মেগাপিক্সেল) রেজ্যুলেশন রিয়ার-ক্যামেরা এবং ভিডিও কল করার সিস্টেম। ৬ মেগাবাইটের এক্সপান্ডেবল মেমোরি সহ ফোনটিতে ছিল ফাইভ-ওয়ে জয়স্টিক এবং ২.১৬ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে।



৫. নোকিয়া ৯২১০ কমিউনিকেটর
নোকিয়ার প্রকৌশল উৎকর্ষতার প্রতীক এই ফোনটি ছিল একটি বিজনেস ক্লাস স্মার্টফোন। যা খোলা হত ল্যাপটপের মতো এবং একটি মিনি কী-বোর্ডযুক্ত ছিল। ২০০০ সালে বাজারে আসা ফোনটিতে একটি কালার স্ক্রিনও ছিল। হাতে গোনা যে কয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফ্যাক্স প্রেরণ ও গ্রহণ করা  যেত সেসবের একটি ছিল এটি।   এটি দিয়ে ইন্টারনেট এবং ইমেইলও ব্যবহার করা যেত।



৬. মোটো আরএজেডআর ভি৩
স্টাইলিশ এই হ্যান্ডসেটটি বাজারে আসে ২০০৩ সালে। দেখতে খুবই সুন্দর এই ফোনটিতে ছিল অ্যালুমিনিয়াম বডি এবং একটি এক্সটার্নাল গ্লাস স্ক্রিন।



৭. এরিকসন টি২৮
১৯৯৯ সালে বাজারে আসা সেসময়ের সবচেয়ে স্লিম ফোন ছিল এটি। যার ওজন ছিল মাত্র ৮৩ গ্রাম। ডুয়াল-ব্যান্ড জিএসএম এবং ২৫০ কন্ট্যাক্ট স্টোরক্ষমতা সম্পন্ন ছিল ফোনটি। ফোনটিতে টেট্রিস এবং সলিটেয়ার এর মতো ক্ল্যাসিক গেমসও ছিল। এর মনোফোনিক রিঙটোন ছাড়াও ফোনটি দিয়ে ব্যবহারকারীরা নিজেরাও রিঙটোন কম্পোজ করতে পারতেন।



৮. ব্ল্যাকবেরি পার্ল ৮১০০
একটা সময়ে ব্ল্যাকবেরির ফোন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক ও বিজনেস ক্লাস কমিউনিকেশনের মাধ্যম। ২০০৬ সালে বাজারে ব্ল্যাকবেরি ৮১০০ও তেমনই একটি ফোন ছিল। উন্নত কী বোর্ডসহ রঙীন স্ক্রিনযুক্ত এই স্মার্টফোনটিতে প্রিসাইজ নেভিগেশনের একটি ট্র্যাকবলও ছিল। ব্ল্যাকবেরির এই হ্যান্ডসেটটিতেই প্রথম ১.৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। কম্পানিটির বিখ্যাত নিরাপত্তা সিস্টেমও ছিল এতে।



৯. নোকিয়া ৮১১০
১৯৯৬ সালে বাজারে আসার ফোনটির অনন্য একটি ফিচার ছিল ম্যাকানিকাল স্লাইডারের নিচে লুকানো কীবোর্ড। স্লাইডারে ছিল একটি মাইক্রোফোন যা এতে আরো পরিষ্কারভাবে স্বর চলাচলকে আরো সহজ করেছে। এই ফোনটি ১৯৯৯ সালের ব্লকবাস্টার হিট সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ম্যাট্রিক্সেও ব্যবহৃত হয়েছে।



১০. নোকিয়া এন-গেজ
এটি ছিল বিশ্বের প্রথম ফোন যেটি একইসঙ্গে একটি পোর্টেবল গেমিং কনসোলও বটে।



১১. নোকিয়া এন৯৫
২০০৭ সালে বাজারে আসা এই ফোনটি ছিল নোকিয়ার সেরা ফোন। সিমবিয়ান এস৬০ চালিত ফোনটিতে ছিল টু-ওয়ে স্লাইডিং মেকানিজম যা ব্যবহার করে নিউমারিক কী প্যাড বা মিডিয়া প্লেব্যাক বাটনে ঢোকা যেত। এতে আরো ছিল ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার-ক্যামেরা, ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই। সে বছরই প্রথম বাজারে আসে অ্যাপলের আইফোন। আর নোকিয়ার এই ফোনটিকে প্রথম আইফোনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা কর হত।



১২. সনি এরিকসন কে ৭৫০
দুর্দান্ত ক্যামেরা ও অসাধারণ অডিও কোয়ালিটি সম্পন্ন এই ফোনটি বাজারে আসার পরপরই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বাজারে আসা এই ফোনটি ছিল একটি ক্যান্ডিবার স্টাইল ফোন যাতে নেভিগেশনের জন্য কম্পানিটির বিখ্যাত ‘জয়স্টিক’ ব্যবহৃত হত। এর সাইডে থাকা ভলিউম কন্ট্রোল কীগুলো ব্যবহৃত হত ক্যামেরা মোডে জুম ইন এবং জুম আউট করার জন্য।



১৩. অ্যাপল আইফোন
২০০৭ সালে বাজারে আসা মার্কিন কম্পানি অ্যাপলের প্রথম আইফোন মোবাইল ফোনের জগতে এক নয়া দিগন্তের সুচনা করে। এটিই ছিল সর্বপ্রথম পুরোপুরি টাচ ফোন। অন-স্ক্রিন কীবোর্ড, কোয়াডব্যান্ড জিএসএম এবং অ্যাক্সিলারোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং অ্যামবিয়েন্ট লাইট সেন্সর এর মতো ফিচারের পথপ্রদর্শক ছিল ফোনটি। এতে অ্যাপস্টোর না থাকলেও এখনকার স্মার্টফোনের পথপ্রদর্শকও ছিল এটি। বাকীটা ইতিহাস।



১৪. এইচটিসি ড্রিম
প্রথম বাণিজিক্যভাবে অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন ছিল এটি। এইচটিসি ড্রিম এ ছিল একটি হরিজন্টাল স্লাইড-আউট টাচস্ক্রিন যার নিচে ছিল কীবোর্ড। ১৯২ মেগাবাইট র‌্যাম এবং ২৫৬ মেগাবাইট মেমোরিযুক্ত ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১.৬ ডোনাট অপারেটিং সিস্টেমে চালিত হত। স্মার্টফোনটির ব্যাটারি ছিল ১১৫০ এমএএইচ।



১৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট
স্মার্টফোনের সেরা ব্র্যান্ড এখন স্যামসাং। ২০১১ সালে প্রথম এর গ্যালাক্সি নোট সিরিজের ফোন বাজারে আসে। ৫.৩ ইঞ্চির ওই ফোনটিই ফ্যাবলেট ধারণাকে জনপ্রিয় করে। এখনকার স্মার্টফোনগুলোর যে বড় স্ক্রিন বৈশিষ্ট তার পথ প্রদর্শক ছিল ফোনটি।



সূত্র: গ্যাজেটসনাউ

অমৃতবাজার/রেজওয়ান

Loading...