ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জুমার নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
জুমার নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে

আল্লাহ তায়ালা ঈমানদার বান্দাদের বলেন, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা দ্রুত আল্লাহর স্মরণে ছুটে চলো এবং বেচাকেনা বন্ধ করে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্দি করতে পারো। (সুরা জুমা : আয়াত ৯)

কুরআনে এ আয়াতের মাধ্যমে জুমা আদায় করা মানুষের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মুসলিমকে অবশ্যই জুমার নামাজ গুরুত্বসহ পড়া উচিত। হাদিসে প্রত্যেকে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য জুমা আবশ্যক।

হজরত হাফসা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ওয়াজিব তথা অপরিহার্য কর্তব্য। (নাসাঈ) জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়া মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহর বিধানের লঙ্খন। কেননা জুমা নামাজ পড়া আল্লাহর নির্দেশ। যারা এ নামাজ ছেড়ে দেয়, তাদের প্রসঙ্গে হাদিসের ভয়বাহ অপরাধ ও শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি অবহেলা ও অলসতা করে পর পর তিন জুমা নামাজ পড়া ছেড়ে দেবে, মহান আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। (আবু দাউদ)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনও ওজর এবং অনিষ্টের ভয় ছাড়া জুমা নামাজে অংশ গ্রহণ করে না, ওই ব্যক্তির নাম মুনাফিকের এমন দপ্তরে লেখা হয়, যেখান থেকে তার নাম কখনও মোছা বা রদবদল করা হয় না।

কোনও ব্যক্তি যদি জুমার নামাজ পড়তে এসে এক রাকাত পান, তবে তিনি ইমামের সালাম ফেরানোর পর বাকি এক রাকাত পড়ে নিলেই জুমা আদায় হবে। অনুরুপভাবে কেউ দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর আগে ইমামের সঙ্গে নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর ২ রাকাত আদায় করলে জুমা নামাজ আদায় হবে। কিন্তু যদি কেউ নামাজের দ্বিতীয় রাকআতে রুকুর পর জামাতে অংশগ্রহণ করেন, তবে তার এ অংশগ্রহণ জুমা হিসিবে বিবেচিত হবে না। বরং ইমামের সালাম ফেরানোর পর তাকে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে। জামাতে অংশগ্রহণের সময় জোহরের ৪ রাকাত নামাজ আদায়ের নিয়তে শামিল হবে এবং তা আদায় করে নেবে।

হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার এক রাকাত পেয়ে যান, সে ব্যক্তি যেনো আরও এক রাকাত পড়ে নেন। কিন্তু যিনি (দ্বিতীয় রাকআতের) রুকু‚ না পান, তিনি যেনো জোহরের চার রাকাত পড়ে নেন। (তাবারানি, বায়হাকি, মুসান্নেফে ইবনে আবি শায়বা)

আর যদি কোনও ব্যক্তি জুমার নামাজ না পান, বা মসজিদে গিয়ে দেখেন জুমা নামাজ শেষ হয়ে গেছে, তবে ওই ব্যক্তি জোহরের ৪ রাকাত নামাজ পড়ে নেবেন। কারণ জামাত ছাড়া একা জুমা নামাজ পড়া যায় না।

যারা জুমা নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাবেন, তারা অবশ্য মনোযোগ দিয়ে খোতবা শুনবেন। কোনও ধরনের কথা না বলে ইমামের খোতবায় গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা জুমার খোতবা শোনা মুসল্লির জন্য ওয়াজিব। মনে রাখতে হবে, কেউ কথা বললে তাকে, ‘চুপ কর’ কথাও বলা যাবে না। কারণ হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইমামের খোতবা দেয়া অবস্থায় যদি তুমি তোমার সাথীকে বলো, চুপ করো। তাহলে তুমি অনর্থক কথা বললে।

অন্য বর্ণনা এসছে, এ কথাটা বেশি আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কোনও রকম অনর্থক কাজ করলো, তার জন্য ওই জুমায় আর কিছু রইল না। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জুমা গুরুত্বসহ আদায় করা এবং জুমার খোতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

অমৃতবাজার/আরইউ