ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিয়াম পুণ্যময় বরকতের মাস


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১১ মে ২০১৯, শনিবার
সিয়াম পুণ্যময় বরকতের মাস

আজ রোজার দ্বিতীয় দিন। পুণ্যের আধার একটি মাহিনার নাম রমজান। বরকতময় এই মাসের জন্য মুমিনেরা সুতীব্র আশায় ছিলেন, আবেগে ও ভালোবাসায় আমলের আকাঙ্ক্ষা ও বাসনায় ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ওয়া বাল্লিগনা রমজানা’ উচ্চারিত হচ্ছিল মুমিনের মুখে মুখে। আবেগঘন এক ভালোবাসার পঙিক্তমালা। হে আল্লাহ্! আপনি হায়াতে রমজান পর্যন্ত বরকত দান করুন। আমরা যারা বেঁচে আছি, মহান আল্লাহর রহমতে সিয়ামকে পেয়েছি। আল্লাহর অনেক বড় মেহেরবাণী।

রোজায় আল্লাহর অবারিত রহমতে ছেয়ে যায় গোটা দুনিয়া। মানুষ নিজেকে অতীব সুন্দরম করতে একটা নিয়মিত তারবিয়্যাতে, প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। রোজার তারবিয়্যাত তথা প্রশিক্ষণ এমন সূচারুরূপে গ্রহণ করে বান্দা— কোনো কিছুই তাকে রোজার বিধিবিধান পরিপালনে বাধা দেয় না। সে ইচ্ছে করলেই পারে খেয়ে ফেলতে কিন্তু খায় না। লুকিয়ে খেয়ে ফেলতে পারে লুকিয়ে খেতে গেলেও সে আল্লাহর কথা স্মরণ করে, ফিরে আসে। এটা একজন অনুগত মানুষের চিত্রই বটে। এই তারবিয়্যাবোধ আর কোথাও নেই। রহমতের বারিধারায় স্নাত বলেই আল্লাহর এই বান্দারা আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়।

রহমতের দশ দিন শুরু না হতেই সমাজে রহমতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। স্বচক্ষে দেখা যায়। কী পরিমাণ পরিবর্তন হয়েছে রহমতের আবহে গোটা সমাজ। মানুষ সবকিছুতে সংযত, সংযমী হয়। বেচাকেনায়, কথা বলায়, চলাফেরায়— ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রহমতের ধারা প্রবাহিত হয়। রহমতের অনন্য বরকত ছড়িয়ে পড়ে।

রোযার প্রতিদান সরাসরি মহান আল্লাহ দেবেন বলে মানুষের আগ্রহও এর প্রতি অনেক। এক হাদিসে আছে, হযরত সাহল ইবন সাদ রা. বর্ণনা করেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বেহেশতে আটটি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’। রোজাদাররা ব্যতীত ওই দরজা দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করত পারবে না। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

রোজায় প্রতিটি পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। কলহ কম হয়। ঝগড়াও কম হয়। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল হয়। পরিবারের সব সদস্যদের মধ্যেই আলাদা একটা সহনীয় মানসিকতার সৃষ্টি হয়। তাই বিবাদ কমে যায়। পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। একে অপরের প্রতি টানও বহু গুণে বেড়ে যায়। রোজার এই রহমতের ছায়া একান্তই পারিবারিক জীবনের প্রশান্তির পাঠশালা বলা যায়।

রোজার প্রথম দশ দিন রহমতের। রহমত কেবল এই দশ দিনের জন্য থাকে না। সারা জীবনই রহমতের এই আভা মন রাঙিয়ে রাখে। মাগফিরাত সত্যিই যেন গ্রহণ করতে পারি। মুক্তির সনদ পেয়ে আখিরাতের সব কল্যাণ যেন আমাদের হয়ে যায়।

রোজার প্রতিটি ক্ষণ বা মুহূর্তই পুণ্যময়, বরকতময়। পুণ্য ব্যতীত কোনো মুহূর্ত নেই। সাহরি, সালাত, কুরআন তেলাওয়াত, ইফতার, তারাবি, কিয়ামুল লাইলসহ নানা রকম পুণ্যময় আমলেই ডুবে থাকে মুমিন। এ জন্যই মাহে রমজানকেই বলা হয় পুণ্যের আধার।

অমৃতবাজার/অনি