ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯ | ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নানা আয়োজনে বড়দিন উদযাপন


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | আপডেট: ০২:২৮ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার
নানা আয়োজনে বড়দিন উদযাপন

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে মঙ্গলবার পালিত হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট এ দিনে ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে জন্মগ্রহন করেছিলেন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে যিশুর এ ধরায় আগমন ঘটেছিল। বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন।

দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর গির্জা ও হোটেলগুলো সাজানো হয়। গোশালা স্থাপন এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলোতে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন ছিল।

বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক মহামতি যিশু খ্রিস্ট ছিলেন মুক্তির দূত, আলোর দিশারী। পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে তিনি খ্রিস্ট ধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন।

বাংলাদেশের কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী। একটি সঙ্গীত দল বড়দিনের গান পরিবেশন করে। বঙ্গভবনের দরবার হলে কেকও কাটেন রাষ্ট্রপতি।

রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথেলিক গির্জায় বড়দিনে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। গির্জার মূল ফটকের বাইরে প্রতিবারের মতো এবারও বসে মেলা। স্টলগুলোতে বড়দিন ও ইংরেজি নতুন বছরের কার্ড, নানা রঙের মোমবাতি, সান্তা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি, যিশু-মাতা মেরি যোসেফের মূর্তিসহ নানা আকর্ষণীয় দ্রব্যাদি বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর গির্জাগুলোর পাশাপাশি পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁও লা মেরিডিয়ান, রেডিসন ও ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন হোটেলে সুসজ্জিত ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন করা হয় এবং কেক কাটা হয়। দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় আসর বসে। গির্জায় গির্জায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা।
 
গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রিসহ নানা আয়োজনে গির্জাগুলোকে সাজানো হয়। নগরীর পাথরঘাটা গির্জায় সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে নগরীর গির্জাগুলোয় নেয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ছিল। বাংলাদেশ বেতার, সরকারি ও বেসরকারি টিভি এবং রেডিওতে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে খ্রিস্ট ধর্মের বিশ্বাস হল- ঈশ্বরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একজন নারীর প্রয়োজন ছিল। সেই নারীই কুমারী মেরি। যাকে মা মেরি নামে ডাকে খ্রিস্টানরা। ‘ঈশ্বরের আগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায়’ মা মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন। ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস। বাংলায় এর অর্থ হল ‘যিশু’। শিশুটি কোনো সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনান। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে বিপথগামীরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে। খ্রিস্ট ধর্ম প্রবর্তক যিশুকে মুসলমানরাও বিশ্বাস করে। তবে মুসলিম ধর্মমতে, যিশুই হযরত ঈসা (আ.)। আর তার কুমারী মা’র নাম বিবি মরিয়ম। ঈসা (আ.) মাটির দুনিয়ায় মৃত্যুবরণ করেননি। নিরাপত্তার কারণে আল্লাহ তাকে আকাশে তুলে নিয়ে গেছেন। শেষ জমানায় দজ্জালের ধোঁকা থেকে মানবতাকে রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ (স.) এর অনুসারী হয়ে পৃথিবীতে তার পুনরাগমন ঘটবে।
 
অমৃতবাজার/ইকরামুল