ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মুমিন ব্যক্তির জান্নাতি জীবন কেমন হবে?


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
মুমিন ব্যক্তির জান্নাতি জীবন কেমন হবে?

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারী বান্দাদের আবাসস্থল হবে জান্নাত। সেখানে তাদের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে কুরআন এবং হাদিসে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘সেদিন (কেয়ামতের দিন দুনিয়ায় পাপাচারে লিপ্ত) বন্ধু-বান্ধব একে অপরের শত্রু হবে, তবে যারা মুত্তাকি বা পরহেজগার তারা ব্যতিত। (আল্লাহ মুত্তাকিদের বলবেন) হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের আজ কোনো ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না। যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং যারা ছিল মুসলিম। তোমরা তোমাদের স্ত্রীসহ সানন্দে জান্নাতের প্রবেশ কর। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ কর হবে, সেখানে মন যা চায় এবং যাতে চোখ তৃপ্ত হয়, তার সবই থাকবে। আর সেখানে তোমরা হবে চিরস্থায়ী। আর এটিই জান্নাত। নিজেদের আমলের ফলস্বরূপ তোমাদেরকে এর অধিকারী করা হয়েছে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক ফলমূল, যা থেকে তোমরা খাবে।’ (সুরা যুখরূফ : আয়াত ৬৭-৭৩)

যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকবে তাদের জন্যই মাওলার এ ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের জন্য বিভিন্ন নেয়ামতের ওয়াদা করেন। রেখেছেন অসংখ্য নেয়ামত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে অবস্থানকালীন সময়ের বর্ণনায় তার প্রিয় উম্মতের জন্য সুসংবাদ দিয়েছেন-

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতি লোকেরা জান্নাতের খাবার পাবে এবং সেখানকার পানীয় পান করবে। কিন্তু সেখানে তাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন (পায়খানা-পেশাবের) প্রশ্ন ওঠবে না, তাদের নাকে ময়লা জমবে না এবং তারা পেশাবও করবে না।

ঢেকুরের মাধ্যমে তাদের খাদ্যবস্তু হজ হয়ে যাবে এবং তা (ঢেকুর) থেকে কস্তুরির ন্যায় সুঘ্রাণ বেরোবে। তারা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের মতোই সুবহানাল্লাহ; আলহামদুলিল্লাহ; এ ধরনের সব তাসবিহ ও তাকবির উচ্চারণ করতে থাকবে। (মুসলিম)

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারী ব্যক্তিদের জান্নাতের সুখ-শান্তি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুষ্পষ্ট ভাষায় কুরআনে উল্লেখ করেন- ‘নিশ্চয় মুত্তাকিগণ থাকবেন জান্নাতে এবং ঝর্ণাধারাসমূহে। (আল্লাহ বলবেন) তোমরা তাতে শান্তি ও নিরাপদে প্রবেশ কর। আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ বের করে দেব, তারা সেখানে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে মুখোমুখি বসবে। সেখানে তাদেরকে ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৪৫-৪৮)

অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার নবিকে উদ্দেশ্যে করে ঘোষণা করেন, ‘(হে নবি আপনি) আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু। আবার আমার আজাবই সবচেয়ে যন্ত্রণাদয়ক আজাব।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৪৯-৫০)

জান্নাতে মুত্তাকি ব্যক্তিদের জন্য পোশক-পরিচ্ছদ ও জীবন-সঙ্গী কেমন হবে সে বর্ণনাও আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন। যাতে মানুষ দুনিয়ার চাকচিক্যময় পোশাক ও সুন্দরী নারীদের দেখে অন্যায় পথে চলে না যায়। আল্লাহ বলেন-

‘নিশ্চয় মুত্তাকিগণ থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধরা পরিবেষ্টিত জায়গায়। তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমি কাপড় এবং পরস্পর মুখোমুখি হয়ে বসবে। (সেখানে) এরূপই ঘটবে আর আমি তাদেরকে সুন্দরী রূপসী ডাগর নয়না (হুর) রমনীদেরকে তাদের স্ত্রী বানিয়ে দেব। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সব ধরনের সুস্বাদু ফলমূল পেতে থাকবে। প্রথম মৃত্যুর তারা সেখানে আর মৃত্যু স্বাদ আস্বাদন করবে না। আর আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। মহান প্রভুর ইচ্ছায় এটাই মহান সাফল্য।’ (সুরা দোখান : আয়াত ৫১-৫৮)

এ সব নেয়ামত সাধারণ কোনো কথা নয় বরং সবই কুরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা। যাতে সন্দেহ সংশয়ের কোনো কারণ নেই। সুতরাং আল্লাহ তাআলাকে বেশি বেশি ভয় করার পাশাপাশি প্রিয়নবীর দেখানো পথ ও মতে নিজেদের পরিচালিত করে তার নৈকট্য অর্জন জরুরি।

অমৃতবাজার/শাওন