ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে অপরাধ তাওবায় ক্ষমা হয় না


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৯ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
যে অপরাধ তাওবায় ক্ষমা হয় না

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাওবা ও ইসতেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা করেন। তবে এমন কিছু অন্যায় কাজ রয়েছে যে সব অন্যায়ের ক্ষমা তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে হয় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো সৃষ্টির প্রতি অন্যায় করা।

আল্লাহ দুনিয়াতে যত বিধান দিয়েছেন, তা তার নিজের জন্য নয় বরং সবই মানুষের কল্যাণে প্রণয়ন করেছেন। এ সব বিধান দুই ভাগে বিভক্ত। যার মধ্যে কিছু বিধান লঙ্ঘনের অপরাধ তাওবা-ইসতেগফারে আল্লাহ ক্ষমা করেন। আর কিছু বিধান লঙ্ঘনের অপরাধ আল্লাহ ক্ষমা করেন না।

প্রথম প্রকার:

প্রথম প্রকার বিধান মানুষের ব্যক্তিগত কল্যাণ ও উন্নতির সঙ্গে জড়িত। সাধারণত এগুলোকে বলা হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক। এ বিধান লঙ্ঘন করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।

দ্বিতীয় প্রকার:

দ্বিতীয় প্রকারের বিধান মানুষের সামাজিক জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। এগুলোকে বলা হয় হক্কুল ইবাদ বা সৃষ্টির হক বা অধিকার।

যে বিধান লঙ্ঘন করলে ক্ষমা পাওয়া:

প্রথম প্রকার বিধান তথা হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার লঙ্ঘন করলে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাগতিক, মানসিক, আত্মিক ও পারলৌকিক উন্নতির পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো হলো-

> ফরজ সালাত বা নামাজ ত্যাগ করা
> ফরজ সিয়াম বা রোজা পালন না করা
> ফরজ হজ আদায় না করা
> জিকির-আজকারসহ ইত্যাদি নির্দেশিত ইবআদতে অবহেলা করা। আবার
> আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
> মদপানে জড়ানোসহ হারাম কাজে অংশগ্রহণ করা। এ সব অপরাধের তাওবা-ইসতেগফারে আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।

যে বিধান লঙ্ঘন করলে ক্ষমা পাওয়া যায় না:

দ্বিতীয় প্রকার বিধান লঙ্ঘন করলে মানুষ নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আশপাশের মানুষ, সৃষ্টি অন্যান্য প্রাণীও ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আর তাহলো-

> কোনো ব্যক্তিকে বিনা অপরাধে গালি দেয়া
> অন্যের গিবতে লিপ্ত হওয়া
> কারো অর্থ-সম্পদ কেড়ে নেয়া
> ভেজাল দ্রব্য প্রদানকারী
> কারো মান-সম্মানে আঘাত করা
> সমাজে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা
> কাউকে ধোঁকা কিংবা ফাঁকি দেয়া
> কারো কাছ থেকে সুদ খাওয়া কিংবা কাউকে সুদ দেয়ার অপরাধে জড়িত হওয়া
> কাউকে খুন করা
> কোনো নারীকে ধর্ষণ করা
> কোনো পুরুষকে হয়রানি তথা ব্লাকমেইল করা।
>কেউ যদি কাউকে নামাজ ত্যাগে বাধ্য করে কিংবা মদপানসহ যাবতীয় অন্যায় কাজে প্ররোচিত করে তবে তারাও এ অপরাধে অপরাধী হবে। এ সব অন্যায়কারীকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না।

বিশেষ দায়িত্বে অবহেলা:

উপরে উল্লেখিত দ্বিতীয় প্রকারের অপরাধে পাশাপাশি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেয়া বিশেষ দায়িত্ব অবহেলা করে তাতেও আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করবেন না। আর তাহলো-

> স্বামী যদি স্ত্রীর দায়িত্ব পালন না করে
> স্ত্রী যদি স্বামীর দায়িত্ব পালন না করে
> পিতামাতা যদি সন্তানের দায়িত্ব পালন না করে
> সন্তান যদি পিতামাতার দায়িত্ব পালন না করে
> এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে
> কর্মকর্তা তথা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তার অধিনস্তদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে
> অধিনস্থ যদি দায়িত্বশীলের অর্পিত কাজ যথাযথ না করে
> এক সহকর্মী অন্য সহকর্মীর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে
> অসহায়-দরিদ্র মানুষের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে
> বিধবা ও ইয়াতিমদের প্রতি কর্তা ব্যক্তি দায়িত্ব পালন না করে
> পোষা পশু ও প্রাণির প্রতি মনিব দায়িত্বশীল আচরণ না করে

তবে হক্কুল ইবাদত তথা সৃষ্টির হক নষ্টের অপরাধে অপরাধী হতে হবে। আর আল্লাহ তাআলা এ সব অপরাধীকে ক্ষমা করবেন না।

অমৃতবাজার/শাওন