ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে সাহাবীকে অগ্নিকুণ্ডও পোড়াতে পারেনি!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার
যে সাহাবীকে অগ্নিকুণ্ডও পোড়াতে পারেনি!

হযরত রাসুলুল্লাহ (স.) এর অসংখ্য অগণিত সাহাবি ছিল। পূণ্যাত্মার মানুষ ছিলেন তারা। আখলাক চরিত্রে সর্ব উৎকর্ষ। শুদ্ধতার ইতিহাসে যেসব মনীষার নাম আজতক দেদীপ্যমান তাদের অন্যতম রাসুলুল্লাহ সাহাবীগণ। আলোকরা ইতিহাসের মহানায়কদের সাথে যারা জীবনের পথ রাঙ্গিয়েছেন তাদের একজন হলেন আবু মুসলিম খাওলানী (রা.)। তার আসল নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাওব (রা.)।

অনেকে তাকে সাহাবী বলেছেন। আল্লামা তকি উসমানী দা. বা. তার সফরনামায় তাকে সাহাবী বলেননি। আবু মুসলিম রহ. ছিলেন দৃঢ়চেতনা মনোভাবের অধিকারী। জিহাদের নেশায় যুবে থাকতেন। নবীজির সহবত তুলতে পারেননি। বাড়ি ছিল ইয়ামেনে। রাসুলুল্লাহ (স.) শেষ যজানায় ইযামানে আওয়াদ আনাসির নামে এক ভণ্ড নবীর অবির্ভাব ঘটে। সে ভণ্ডনবী আবু মুসলিম (রা.) ডেকে পাঠান। তাকে জিজ্ঞেস করে তুমি আমাকে নবী মাননা?

আবু মুসলিমের সোজা উত্তর মুহাম্মাদ (স.) ছাড়া অন্য কাউকে নবী মানিনা। একথা বলেই চুপ হলেন না। আরো দুইকথা শুনিয়ে দিলেন ভণ্ডনবী। মুহাম্মাদ ছাড়া যে নবী দাবি করবে তার সঙ্গে আমার ফয়সালা হবে তরবারির মাধ্যমে।

একথা শুনে আসওয়াদ আনাসী গরম তেলেস বেগুন ছাড়ার মতোই ছ্যুঁত করে উঠলো। লোকবল দিয়ে আবু মুসলিম (রা.) বেঁধে পেললো। তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটি বিশাল অগ্নিকুণ্ড তৈরি করলো। আবু মুসলিম (রা.) কে বেধে তাতে নিক্ষেপ করা হলো। কিন্তু কুদরতের কারিশমা বুঝা বড়ো দায়। নবী প্রেমিক আল্লাহর অলি আবু মুসলিম খাওলানী (রা.) দীর্ঘ সময় আগুনে থাকার পরও আগুন তার লোম স্পর্শ করেনি। সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আগুন থেকে বের হয়ে আসেন।

এমন আজিব আর অবিশ্বাস অবস্থা দেখে ভণ্ডনবী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভয়ে আধামরা হয়ে যায়। এমন কা-কীর্তি দেখে ভণ্ড নবীর অনুসারীরেদ মাঝে সত্যনবী অসত্যনবী বিষয়ে প্রশ্ন উঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে আবু মুসলিম কে দেশত্যাগে বাধ্য করে। খাওলানী ইয়ামন ছেড়ে মদীনর পথ ধরে। বুবে পরতে পরতে নবী মুহাম্মাদ (স.) এর সাক্ষাত অভিলাষে উচ্ছ্বাস ঢেউ। যতোই মদীনার নিকটবর্তী হয আবেগ ভালোবাসা আর প্রেমের শুধু বাড়ে। চোখে মুখে আসে নবী প্রেমে অধীরতা। নবীজি আমাকে কাছে ডাকবে নাকি বে-আদব মনে করে দূরে ঠেলে দিবে আরো কতো কিছু মন আকাশে উড়াউড়ি করে। কিন্তু ইতিহাস বলে অন্যকথা। আবু মুসলিম যখন মদীনায় প্রবেশ ঠিক সেই মুহূর্ত নবুয়াতির সূর্যালোক মুহাম্মাদ (স.) দুনিয়ার অবিলতা ত্যাগ দরবারে রফিকে আলাতে হাজিরা দিচ্ছেন।

বিজ্ঞ খাওলানী মদীনার আকাশ বাতাস দেখে আন্তাজ করেছেন রাসুল মদীনাতে নেই। বিরহের ব্যথা বুকেই নিয়ে চেপে রাখলেন। পৃথিবীকে দেখালেন না। বিরহদে দগ্ধ হয়ে চলেছে খাওলানীর ভিতরদেশ। ঘোড়াটা বাঁধলেন মসজিদে নববীর আঙিনায়। ঢুকলেন মসজিদে। নামাজে দাঁড়ালেন। মসজিদের অন্যপাশ থেকে ওমর ইবনুল দেখলেন। অসময়ে মসজিদে কে? ওমর ইবনুল মৌন প্রশ্ন। নামায শেষে পরিচয় জাতনেত চাইলেন। আবু মুসলিম বললেন- আমি ইয়ামান থেকে এসেছি।

ওমর আরো জানতে চাইলেন। ভণ্ডনবী আসওয়াদ আনাসী আমাদের এক ভাইকে জীবন্ত আগুনে নিক্ষেপ করেছে। তার কিছুই হয়নি। ওমরের প্রশ্ন পরবর্তীতে আসওয়অদ আনাসী তার সঙ্গে কীরূপ ব্যবহার করেছে? আবু মুসলিম খাওলানী উত্তর করলেন, হ্যাঁ, তার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাওব (রা.)।

এতোক্ষণে ওমরের গভীর ঈমানী দৃষ্টির জালে আটক গেছে আবু মুসলিম খাওলানী। ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেন- আমি আপনাকে কসম করে বলছি আপনি কী সেই লোক না? জি!, হ্যাঁ। খাওলানির ছোট্ট উত্তর। একথা শুনে শোকরিয়ার বিহবলতায় খাওলানীকে জড়িয়ে ধরেন। এবং হাতে কপালে চুমু খান। তাতে ধরে খলিফাতুর রসুল আবু বকরে দরবারে হাজির হন। সিদ্দিকে আকবর তাকে নিজের পাশে বসালেন। আবু ববক বলেন, শোকরিয়া রাব্বুল ইজ্জত যিনি আমার মৃত্যুর আগেই ওই লোকের সাক্ষাত করিযে দিয়েছেন। আল্লাহ মুহাম্মাদরি যে বান্দার সাথে ইবরাহিমী আচরণ করেছেন।

অমৃতবাজার/সবুজ