ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যেমন ছিলো নবী করিম (সা:) এর শারীরিক গঠন


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৪০ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার
যেমন ছিলো নবী করিম (সা:) এর শারীরিক গঠন

প্রিয়নবী (সা:) বিশ্বমানতার অনুকরণীয় ও অনুসরণযোগৗ আদর্শ। তাকে নিয়ে রচিত হয়েছে হাজারো ছন্দ, কবিতা ও রচনা। হাদিসে পাকে শুধু তার প্রশংসায় ছন্দ, কবিতা আর গ্রন্থই রচিত হয়নি বরং তার আকার-আকৃতির বর্ণনাও রয়েছে।

নবী করিম (সা:) এর মধ্যে যেমন উত্তম গুণাবলীর সর্বাধিক সমাবেশ ঘটেছিল; তেমনি তার দৈহিক সৌন্দর্য্য ছিল অতুলনীয়।

প্রথমেই রয়েছে প্রিয়নবী (সা:) এর আকৃতিগত গঠন। হাদিসের আলোকে প্রিয়নবীর গঠন সম্পর্কে কয়েকটি হাসিদ তুলে ধরা হলো-

১. বিশ্বনবীর (সা:) উচ্চতা:
হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) খুব দীর্ঘ (লম্বা) ছিলেন না; আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি ধবধবে সাদা আবার বাদামি বর্ণেরও ছিলেন না। তার চুল একেবারে কোকড়ানো ছিল না আবার একদম সোজাও ছিল না।

৪০ বছর বয়সে আল্লাহ তাআলা তাকে নবুয়ত দান করেন। এরপর তিনি মক্কায় ১০ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর কাটান। আল্লাহ তাআলা ৬০ বছর বয়সে তাকে ওফাত দান করেন। মৃত্যুর সময় তার মাথা ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা ছিল না।’ (বুখারি, মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক, ইবনে মাজাহ)

যদিও হাদিসে প্রিয়নবীর (সা:) হায়াতে জিন্দেগি ৬০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত তিনি ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন এবং মক্কায় ১৩ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন।

২. প্রিয়নবীর (সা:) বর্ণ:
হজরত আনাস ইবনে মালেক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) মধ্যমাকৃতির ছিলেন। বেশি লম্বা বা বেশি খাঁটোও ছিলেন না। তার দেহ ছিল খুবই আকর্ষনীয়। তার চুল খুব কোকড়ানো কিংবা একেবারেই সোজাও ছিল না। তিনি ছিলেন গৌরবর্ণের। পথ চলার সময় তিনি সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা, শরহুস সিন্না)

৩. বিশ্বনবীর (সা:) আকৃতি:
হজরত বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) মধ্যমাকৃতির ছিলেন। তার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত। তার ঘন চুলগুলো কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। তার দেহে লাল লুঙ্গি ও লাল চাদর শোভা পেত। আমি তার তুলনায় সুদর্শন কাউকে দেখিনি।’ (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ) হাদিসে উল্লেখিত লাল রং বলতে লাল বর্ণের ডোরাকাটা অনুজ্জ্বল কাপড়কে বুঝানো হয়েছে।

৪. কাঁধের বর্ণনা:
হজরত বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল বিশিষ্ট লাল চাদর ও লাল লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা:) এর চেয়ে সুদর্শন কাউকে দেখিনি। তার কেশগুচ্ছু ছিল কাঁধ বরাবর। তার দু’কাধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা প্রশস্ত ছিল। তিনি অধিক খাটো কিংবা অধিক দীর্ঘাকৃতির ছিলেন না।’ (মুসলিম মুসনাদ আহমাদ)

৫. বিশ্বনবীর (সা:) হাত-পা-তালু ও আঙ্গুলসমূহের বর্ণনা:
হজরত আলি ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহর আনুহু বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী (সা:) বেশি দীর্ঘ এবং বেশি খাটো ছিলেন না। তার উভয় হাত ও পায়ের তালু এবং আঙুলসমূহ ছিল মাংসল।

তার মাথা ছিল কিছুটা বড় এবং হাত ও পায়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা প্রলম্বিত ছিল। (তিনি) যখন পথ চলতেন মনে হতো যেন কোনা উঁচু স্থান থেকে নিচে অবতরণ করছেন।

বর্ণনাকারী বলেন, তার আগে কিংবা পরে আমি তার মতো (অনুপম আকর্ষনীয়) আর কাউকে দেখিনি।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরেকে হামেক, ইবনে হিব্বান)

৬. প্রিয়নবির মুখ-চোখ ও গোড়ালির বর্ণনা:
হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) এর মুখ ছিল প্রশস্ত। চোখের শুভ্রতার মাঝে কিছু লালিমা ছিল। পায়ের গোড়ালি স্বল্প মাংসল ছিল।

শুভা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমি সিমাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহিকে বললাম, ‘জলিউল ফাহমি’ কী? তিনি বললেন, বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট।

আমি আবার বললাম, আশকালুল আইন কী? তিনি বললেন, ডাগর চোখ বিশিষ্ট। আমি বললমা, মানহুসুল আক্বিব কী? তিনি বললেন, চিকন গোড়ালী বিশিষ্ট।

৭. তার তুলনা:
হজরত জাবির ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি একবার পূর্ণিমার রাতের স্নিগ্ধ আলোতে রাসুলুল্লাহ (সা:) কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তার দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিকতর চমৎকার।’ (মুসতাদরেকে হাকেম, মিশকাত)

অন্য বর্ণনায় হজরত আবু ইসহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘একবার বারা ইবনে আজেবকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, রাসুলুল্লাহ (সা:) এর চেহারা কি তরবারির ন্যায় ছিল। তিনি বললেন, না বরং তিনি ছিলেন চাঁদের মতো।’ (বুখারি, মুসনাদে আহমদ, দারেমি, ইবনে হিব্বান)

৮. প্রিয়নবীর (সা:) শুভ্রতার বর্ণনা:
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের ন্যায় এবং তার চুলগুলো ছিল কিছুটা কোকড়ানো।’ (জামেউস সগির, সিলসিলা)

৯. প্রিয়নবির সাদৃশ্যতা:
হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, আমার কাছে নবীগণকে পেশ করা হয়। মুসা আলাইহিস সালামের মধ্যে বিভিণ্ন লোকের সাদৃশ্য বিদ্যমান ছিল। তিনি যেন শানুয়াহ গোত্রের লোক। আমি ঈসা ইবনে মরিয়মকে উরওয়া ইবনে মাসঊদের সাদৃশ্যপূর্ণ দেখতে পাই।

অতঃপর আমি হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দেখতে পাই এবং তাঁকে পাই তোমাদের সঙ্গীর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তোমাদের সঙ্গী বলে তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন। আর জিবরিলকে হজরত দাহিয়াতুল কালবি এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ দেখতে পাই। (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিব্বান, মিশকাত)

অমৃতবাজার/শাওন