ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া ও ফজিলত


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া ও ফজিলত

পবিত্র মাহে রমজান মাস শেষ হতে চলছে। আল্লাহ তাআলা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোত মুমিন বান্দার জন্য রেখেছেন ফজিলত পূর্ণ রাত। যাকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’।

এ রাতে আল্লাহ তাআলা কুরআন নাজিল করেছেন। আর এ রাতের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
- আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি লাইলাতুল কদরে।
- (হে রাসুল!) আপনি কি লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে জানেন?
- লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
- তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে এতে (এ রাতে) প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরিল আলাইহিস সালাম) অবর্তীণ হন ।
- শান্তিময় সেই রাত; যা ফজর উদয় পর্যন্ত অব্যহত থাকে। (সুরা কদর)

এ রাতের ইবাদতের ব্যাপারে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রী-পরিবারসহ সারা জেগে থেকে ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করতেন। তিনি রমজানের শেষ দশকের ইবাদতের মতো এতো বেশি পরিশ্রম অন্য সময় করতেন না।

আল্লাহ তাআলা এ রাতকে বরকতময় রাত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে- ‘নিশ্চয় আমি ইহা (কুরআন)কে এক বরকতময় রাতে নাজিল করেছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ৩)

এ রাতের বরকতের ফজিলত বর্ণনায় প্রিয়নবী ঘোষণা করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশা এ (লাইলাতুল কদরে) রাতে ইবাদত-বন্দেগি করে, তার আগের সব ছোট গোনাহ মাফ হয়ে যায়।’

কুরআন ও হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী এ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য একান্ত জরুরি। এ রাতের সন্ধান করতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।’

তাই শুধুমাত্র রমজানের ২৭ তারিখ লাইলাতুল কদর উদযাপন না করে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান করা উচিত।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অন্য হাদিসে বর্ণনা করেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান কর।’

হাদিসের ঘোষণার প্রেক্ষিতে মুসলিম উম্মাহর উচিত, রমজানের শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা।

এ রাতের বিশেষ দোয়া
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে জানতে চান। হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর; তাহলে তখন আমি কোন দোয়াটি পাঠ করব?

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বল-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন কারিম, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু। আপনি ক্ষমা করাকে ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (তিরমিজি)

এক কথায় পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতের সব ইবাদতই আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। আর এ রাসের সব ইবাদতই ফজিলতপূর্ণ। এ রাতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরূদ, তাওবা-ইসতেগফারের গুরুত্ব অনেক বেশি।

তাই আল্লাহর ক্ষমা ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভে লাইলাতুল কদরের উদ্দেশ্যে রমজানের বেজোড় রাতগুলো জেগে উল্লেখিত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করার জরুরি।

বিশেষ করে, এ বেজোড় রাতগুলোতে বিগত জীবনের কাজা নামাজের কথা স্মরণ করে, ৫ ওয়াক্ত নামাজের কাজা আদায় করাও জরুরি।

অমৃতবাজার/শাওন