ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রমজান উপলক্ষে উম্মতের জন্য বিশেষ কিছু দান


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ২২ মে ২০১৮, মঙ্গলবার
রমজান উপলক্ষে উম্মতের জন্য বিশেষ কিছু দান

মুসলমাদের জন্য রমজান এ মাস অতি পবিত্র ও বরকতের। এ সম্পর্কে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (স.) বলেন, আমার উম্মতের জন্য রমজান উপলক্ষে এমন ৫টি বিষয় দান করা হয়েছে, যাপূর্বে কোনো উম্মতকে দান করা হয়নি। এটা শুধু আমার উম্মতকে দান করা হয়েছে। আর তা হলো,

(১) রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশক আম্বরের বেশী ভালো। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, রোজাদারের প্রতি আল্লাহ এমন খুশি হন যে, তার কোন কিছুই খারাপ লাগে না। এমনকি তার মুখের গন্ধটাও ভালো লাগে। রোজাদারের সবকিছুই আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়। এই সম্মান আল্লাহ রোজাদারের দিলেন।

(২) রোজাদারের জন্য সমস্ত মাখলুক, সমস্ত প্রাণী, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকে। রোজাদারের মাগফিরাত কামনা করে।

এই রোজা দ্বারা সমস্ত মাখলুকের দোয়া অর্জন সম্ভব হয়েছে। এটা কত বড় একটা সম্মান।

(৩) রোজাদারের জন্য আল্লাহ তাআলা প্রতি দিন জান্নাত কে নতুন নতুন রুপে সাজাতে থাকেন। এটা পরিস্কার বোঝা যায় যদি এই রোজাদারদের জান্নাতে পৌছানো না হবে, তাহলে তাদের জন্য জান্নাত কে কেন সাজানো হবে? তার জন্যই যখন সাজানো হচ্ছে, তখন তাদেরকে অবশ্যই সেখানে পৌছানো হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, রোজাদারের রোজা তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার বড় মাধ্যম হিসাবে কাজ করছে।

(৪) এ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসে শয়তানকে বেধে রাকা হয়। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা হয়। যাতে এই রমজানে মানুষ ওয়াস ওয়াসা মুক্ত থেকে মানুষের জীবনকে ভালোভাবে গঠন করতে পারে। ইবাদত বন্দেগী, নেক কাজ, নামাজ কালাম, তাকওয়া অর্জন করে মুত্তাকি হতে পারে। যাতে হতে পারে আল্লাহুর নিকটতম বান্দা।

(৫) রমজান উপলক্ষে রোজাদারদের ক্ষমা করা হয়। বিশেষ ভাবে শেষ দিন তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। মূলত রমজান মাস বান্দাকে ক্ষমা করার একটা ইশতেহারই নিয়ে আসে। এখন এটা যদি আমরা বুঝে না নিতে পারি এর ব্যর্থতা আমাদের। এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, আমরা যদি রমজানের রোজা সঠিক ভাবে আদায় করতে পারি। রমজানের হক পুরাপুরি ভাবে পালন করতে পারি। তাহলে আল্লহ্ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে। সমস্ত মাখলুকের দুয়া পাওয়া যাবে। এই রমজানের উসিলায় জান্নাত পাওয়া যাবে। তাই রমজানের উসিলায় জীবন কে গঠন করা যাবে। আর সব চেয়ে বড় কথা হলো ক্ষমা পাওয়া যাবে। এতো বড় সুযোগ যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কথা আমাদের শুনতে হয় যে, হতভাগারা এতো বড় সুযোগ তোমাদের দিয়েছিলাম , যে সুযোগ অন্য কোনো উম্মতকে দেয়নি। অথচ তোমরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারো নি, তাহলে আমাদের জন্য সেটা হবে বড়ই আফসোসের বিষয়। হবে বড় লজ্জার বিষয়। তাই আমরা চেষ্টা করবো হতভাগাদের কাতারে না গিয়ে ভাগ্যবানদের কাতারে গিয়ে সামিল হতে। আর এর জন্য রাখতে হবে নিখুত ভাবে রোজা।

এই পবিত্র মাসে আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথের দিশারী হওয়া তওফিক দান করুন। আমিন।

অমৃতবাজার/সবুজ