ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

খৃষ্টান বাদশাহর প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছিলেন হযরত ওমর (রা.)!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০৫ মে ২০১৮, শনিবার
খৃষ্টান বাদশাহর প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছিলেন হযরত ওমর (রা.)!

খলিফা হযরত ওমর (রা.) শাসন আমলে এক খৃষ্টান বাদশাহ ৪টি প্রশ্ন লিখে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং হযরত ওমর (রা.) কছে আসমানী কিতাবের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর চেয়েছিলেন। সেই চিঠির ৪টি প্রশ্ন পরবর্তিতে ঐতিহাসিক প্রশ্ন হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত হয়ে আছে।

প্রথম প্রশ্নঃ একই মায়ের পেট হতে দু’টি বাচ্চা একই সময় জন্ম গ্রহণ করেছে এবং একই দিনে ইন্তেকাল করেছে তবে, তাদের একজন অপরজন থেকে ১০০ বছরের বড় ছিল। তারা দুইজন কে? কিভাবে এটা হয়েছে?

দ্বিতীয় প্রশ্নঃ পৃথিবীর কোন্ স্থানে সূর্যের আলো শুধুমাত্র ১ বার পড়েছে। কেয়ামত পর্যন্ত আর কখনো সূর্যের আলো সেখানে পড়বে না?

তৃতীয় প্রশ্নঃ সে কয়েদী কে, যার কয়েদ খানায় শ্বাস নেওয়ার অনুমতি নেই আর সে শ্বাস নেওয়া ছাড়াই জীবিত থাকে?

চতুর্থ প্রশ্নঃ সেটি কোন্ কবর, যার বাসিন্দা জীবিত ছিল এবং কবরো জীবিত ছিল, আর সে কবর তার বাসিন্দাকে নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে এবং কবর থেকে তার বাসিন্দাজীবিত বের হয়ে দীর্ঘকাল পৃথিবীতে জীবিত ছিল?

হযরত ওমর (রা.) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে ডাকলেন এবং বলেন উত্তরগুলো লিখে দিতে বললেন।

প্রথম উত্তরঃ দুই ভাই ছিলেন হযরত ওযায়ের (আ.) এবং ওযায়েয (আ.) তারা একই দিনে জন্ম এবং একই দিনে ইন্তেকাল করা সত্বেও ওযায়েয (আ.) ওযায়ের (আ.) থেকে ১০০ বছরের বড় হওয়ার কারণ হল, মানুষকে আল্লাহ তায়ালা মৃত্যুর পর আবার কিভাবে জীবিত করবেন? হযরত ওযায়ের (আ.) তা দেখতে চেয়ে ছিলেন। ফলে, আল্লাহ তাকে ১০০ বছর যাবত মৃত্যু অবস্থায় রাখেন এরপর তাকে জীবিত করেন। যার কারণে দুই ভাইয়ের বয়সের মাঝে ১০০ বছর ব্যবধান হয়ে যায়।

দ্বিতীয় উত্তরঃ হযর মুসা (আ.) এর মু’জিযার কারণে বাহরে কুলযুম তথা লোহিত সাগরের উপর রাস্তা হয়ে যায় আর সেখানে সূর্যের আলো পৃথিবীর ইতিহাসে একবার পড়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত আর পড়বে না।

তৃতীয় উত্তরঃ যে কয়েদী শ্বাস নেওয়া ছাড়া জীবিত থাকে, সে কয়েদী হল মায়ের পেটের বাচ্চা, যে নিজ মায়ের পেটে কয়েদ (বন্দী) থাকে।

চতুর্থ উত্তরঃ যে কবরের বাসিন্দা জীবিত এবং কবরো জীবিত ছিলো, সে কবরের বাসিন্দা হলেন, হযরত ইউনুস (আ.) আর কবর হল, ইউনুস (আ.) যে মাছের পেটে ছিলেন- সে মাছ। আর মাছটি, ইউনুস (আ.) কে নিয়ে ঘোরাফেরা করেছে। মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসার পর, ইউনুস (আ.) অনেক দিন জীবিত ছিলেন। এরপর ইন্তেকাল করেন।

অমৃতবাজার/সবুজ