ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাসূল (স.) যে ভাবে দোয়া করতে শিখিয়েছেন


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার
রাসূল (স.) যে ভাবে দোয়া করতে শিখিয়েছেন

হজরত ফাযালা ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদিন রাসূল (স.) মসজিদে আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। অতঃপর নামাজ আদায় করল, নামাজ আদায় করার পর এই বলে দোয়া করল, হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। তখন রাসূল (স.) লোকটিকে বললেন, তুমি দোয়ার মধ্যে বেশি তাড়াহুড়া করেছ। যখন তুমি নামাজ আদায় করবে এবং দোয়ার জন্য বসবে তখন প্রথমে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করবে যার যোগ্য তিনি এবং আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে অতঃপর দোয়া করবে।

অতঃপর অপর এক ব্যক্তি এসে নামাজ আদায় করল এবং সে আল্লাহ পাকের প্রশংসা করল ও রাসূলে (স.) এর প্রতি দরূদ পাঠ করল (কিন্তু নিজের জন্য দোয়া করেনি)। নবী (স.) লোকটিকে বললেন, তুমি আল্লাহর কাছে কিছু দোয়া কর অবশ্যই তা কবুল করা হবে (তিরমিযি, আবু দাউদ, নাসায়ী)।

অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একদিন আমি নামাজ আদায় করছিলাম আর নবী (স.) সেখানে উপস্থিত হলেন তার সঙ্গে হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) ছিলেন। যখন আমি নামাজ শেষে দোয়া করতে বসলাম তখন প্রথমে আমি আল্লাহ পাকের প্রশংসা করলাম অতঃপর রাসূলে পাক (স.) এর প্রতি দরূদ শরিফ পাঠ করলাম। তারপর নিজের জন্য দোয়া করতে লাগলাম, তা শুনে রাসূলে পাক (স.) বললেন, তুমি প্রার্থনা কর অবশ্যই তোমাকে প্রার্থিত বস্তু দেয়া হবে। বাক্যটি রাসূলে পাক (স.) আবার বললেন (তিরমিজি শরিফ)।

রাসূল করিম (স.) উল্লিখিত বণনা হতে দোয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

প্রথমত, দোয়া করার আগে মহান আল্লাহ পাকের প্রশংসা ও গুণগান করা সুন্নত হিসেবে গণ্য।

দ্বিতীয়ত, রাসূলে পাক (স.)-এর প্রতি দরূদ শরিফ পাঠ করা সুন্নত হিসেবে গণ্য। এটি দোয়া কবুল হওয়ার উসিলা বা সহায়ক। কারণ হাদিস শরিফে এসেছে দোয়াতে দরূদ শরিফ পাঠ না করলে দোয়া আল্লাহর দরবারে পৌঁছে না বরং ওই দোয়া আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্য স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে থাকে (তিরমিযি)।

অমৃতবাজার/সবুজ