ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আজ পবিত্র শবে মেরাজ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৩ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ১০:৫৫ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
আজ পবিত্র শবে মেরাজ

শনিবার পবিত্র শবে মেরাজ। ৬২০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ রজব রাতে মহানবী (স.) আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে বিশেষ ব্যবস্থায় ঊর্ধ্বকাশে যান। সেখানে হজরত আদম (আ.) সহ উল্লেখযোগ্য নবীদের সঙ্গে মহানবী (স.)-এর সালাম বিনিময় হয়। তারপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন।

মুসলিম জীবনের তিনটি পবিত্ররজনীর মধ্যে লাইলাতুল মেরাজ অন্যতম। অন্য দু’টি হলো লাইলাতুলকদর ও লাইলাতুল বরাত। এর মধ্যে লাইলাতুল মেরাজ ও লাইলাতুলকদরের কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখআছে। মেরাজ রাসূল (স.)-এর অন্যতম মুজেজা বা অলৌকিক ঘটনা। হিজরতের কিছু দিন আগে মেরাজের ঘটনাটি ঘটে নবীজীবনে।তাই মুসলিমজাতিসত্তার জন্য নবী জীবনে মেরাজ এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।

এসম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাহকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। তাঁর চার দিক আমি বরকতময় করেছিলাম তাঁকে আমার কুদরতের নিদর্শন দেখানোর উদ্দেশ্যেই। নিশ্চয়ই তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা’ (সূরা বনি ইসরাইল: ১)।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি (মুহাম্মদ) তাকে (জিব্রাইল (আ:) কে) আরেকবার দেখেছিলেন সিদরাতুলমুনতাহার নিকটে, যার কাছেই রয়েছে বসবাসের জান্নাত। তাঁরদৃষ্টিবিভ্রম হয়নি এবং তিনি সীমালঙ্ঘনও করেননি। নিশ্চয়ইতিনি তাঁর পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলি অবলোকন করেছেন’ (সূরা নজম : ১৪-১৭)।

শবে মেরাজের তাৎপর্য: ইসলামের ইতিহাসে মেরাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যখন সব দিক থেকে রাসূল (স.) মারাত্মক সঙ্কট ও শোকের সম্মুখীন হয়েছিলেন, সেই দুঃসময়ে আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবিবকে তাঁর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ দিয়েছিলেন। পার্থিব জীবনের অভিভাবক চাচা আবু তালেবের মৃত্যু, প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণী উম্মুলমুমেনিন হজরত খাদিজা (রা.) এর ইন্তেকাল, তায়েফের হৃদয়বিদারক ঘটনা, মক্কার কাফেরদের অমানবিক আচরণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনাঙ্কাক্ষিত ঘটনা রাসূলুল্লাহ (স.) এর জীবন বিপন্ন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মেরাজের মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দেয়া হয় রাতের পরই আছে ভোর। ইসলামের বিজয় সমাগত, যারজন্যই তিনি সংগ্রাম করছিলেন।সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে পূর্ণতা লাভের ছবকও দান করেছিলেন। আল্লাহতাকে আলমে বারযাখ, জান্নাত, জাহান্নাম, লওহে কলম, আরশ-কুরসি,অতীত-বর্তমান- ভবিষ্যতের সব কিছুপ্রত্য করান এবং অনন্ত রহস্যের ভাণ্ডার তার সামনে উন্মুক্ত করেদেন। সেই রাতেই আল্লাহর কাছ থেকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হুকুম জারি করা হয়।

শিক্ষা: রাসূল (স.) মেরাজ থেকে ফিরে আসার পর সূরা বনি ইসরাইলের মাধ্যমে ১৪ টিদফা জনগণের সামনে পেশ করেন-

১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কর না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। আর তোমরা কেবল আল্লাহরই বন্দেগি কর (সূরাবনি ইসরাইল-২২)।

২. বাবা- মার সঙ্গে ভালো ব্যবহারকরো। তাদের একজন বা উভয়ে বৃদ্ধ অবস্থায় যদি তোমাদের সামনে উপনীত হয় তাহলে তাদের সঙ্গে উহ শব্দটিও পর্যন্ত কর না। তাদের ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না। বরং তাদের সঙ্গে মর্যাদা সহকারে কথা বলো। আর তাদের সামনে বিনয়ী থেক আর দোয়া করতে থাকো- ‘হে আমার প্রতিপালক, তাদেরকে তেমনিভাবে লালন-পালন করো,যেমনি তারা শৈশবে আমাদেরলালন-পালন করেছেন’ (সূরা বনিইসরাইল ২৩-২৪)।

৩. তোমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চই আল্লাহ তোমাদের মনের খবর জানেন (সূরা বনি ইসরাইল-২৫)।

৪. আত্মীয়স্বজনকে তাদের অধিকার দাও আর মুসাফিরদের হক আদায় কর (সূরা বনি ইসরাইল-২৬)।

৫. অপব্যয় কর না, নিশ্চয়ইঅপব্যয়কারী শয়তানের ভাই, আর শয়তান স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ (সূরা বনি ইসরাইল-২৭)।

৬. হকদারদের হক আদায়ে তুমি যদি অপারগ (অসমর্থ) হও তাহলে তাদের সঙ্গে অত্যন্ত নম্রভাবে কথা বলো (সূরা বনি ইসরাইল-২৮)।

৭. ব্যয়ের ক্ষেত্রে বে-হিসাবি হয়না, আবার কৃপণতাও প্রদর্শন কর না। আল্লাহ যাকে চান রিজিক বাড়িয়েদেন, যাকে চান কমিয়ে দেন (সূরা বনি ইসরাইল: ২৯-৩০)।

৮. দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা কর না। নিশ্চয়ই এটি মহাপাপ (সূরা বনি ইসরাইল: ৩১)।

৯. জেনা-ব্যভিচারের কাছেও যেয়না। নিশ্চই এটি নিকৃষ্ট ও গর্হিতকাজ (সূরা বনি ইসরাইল: ৩২)।

১০. কোনো জীবনকে অন্যায় ভাবে হত্যা কর না। কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে তার উত্তরাধিকারী কে আমি এই অধিকার দিয়েছি (চাইলে রক্তের বিনিময় চাইতে পারে), তবে প্রতিশোধেরব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি নাকরে (সূরা বনি ইসরাইল: ৩৩)।

১১. এতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যেয়না। সম্পদের ব্যাপারে তার বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত অপো করো আরপ্রতিশ্রতি সম্পর্কে সচেতন থাক। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে (সূরা বনি ইসরাইল: ৩৪)।

১২. ওজনে কখনো কম দিয়ো না। দাঁড়িপাল্লা সোজা করে ধরবে- এটিই উত্তম পন্থা (সূরা বনি ইসরাইল: ৩৫)।

১৩. যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সেগুলোর পেছনে লেগ না। নিশ্চয়ই চোখ, কান, অন্তর সব কিছুই জিজ্ঞাসিত হবে (সূরা বনি ইসরাইল: ৩৬)।

১৪. জমিনে দম্ভসহকারে চলো না। এগুলো সবই মন্দ ও ঘৃণিত কাজ (সূরাবনি ইসরাইল : ৩৭-৩৮)।এ

মেরাজ দিন করণীয়:

বিশ্বের মুসলমানরা নফল নামাজ, জিকির-আসগার, কোরআন তেলাওয়াত, দুরুদ পাঠ, মোনাজাত ও শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন। বাংলাদেশেও দিবসটি তেমনিভাবে পালিত হয়। পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

অমৃতবাজার/সবুজ