ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিচক্ষণ হযরত আলী (রা.) বিচার-৫


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার | আপডেট: ১২:৩৪ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
বিচক্ষণ হযরত আলী (রা.) বিচার-৫

হযরত আলী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন আলী (রা.) এর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। বালকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিও মাহানবীর সঙ্গে কুরাইশদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তিনিই সেই সৌভাগ্যবান সাহাবী আল্লাহর নবী হিজরত করার সময় যাকে মক্কায় তার আমানত আদায়ের জন্য রেখে যান। জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি নবীজির বিছানায় শুয়ে ছিলেন। আর সবাই তার এই নবীপ্রেম দেখে আশ্চর্য হলো।

পরবর্তীতে তিনিও মদীনায় হিজরত করেন। মহানবী (স.) তখন মদীনায়। একবার কিছু খেজুর পেলেন। সামনে উপস্থিত ছিলেন আলী (রাঃ)। তাই মহানবী (সাঃ) আলীকে নিয়ে সেই খেজুর খাওয়া শুরু করলেন। উভয়ে সম্পর্কে চাচাত ভাই হলেও একজন ছিলেন নবী আরেকজন উম্মত। বয়সেও ছিল বিস্তর তফাত। অন্য দিকে একজন ছিলেন শ্বশুর আর অন্যজন জামাতা।

ছোট ভাই ও জামাতা হযরত আলী (রাঃ) খুব লাজুকের মতো খেজুর খাচ্ছিলেন নবীজী (স.) এর পাশে বসে। কোনো দিকে খেয়াল নেই তাঁর। খেয়েই চলেছেন একটি একটি করে। আর বীচি রাখছেন সামনে।

প্রিয় নবী (স.) খেজুর খাচ্ছিলেন আর দেখছিলেন আলী (রাঃ) এর অবস্থা। যেন নিরামিষ খেজুর ভোজন অনুষ্ঠান। তাই নবী (স.) একটু কৌতুক ও হাসিখুশী করতে চাইলেন আলীর সঙ্গে। এ জন্য তিনি নিজের খাওয়া খেজুরের বীচিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রাখতে লাগলেন আলীর সামনে। সমাপ্ত হলো খেজুর ভোজন পর্ব।

নবীজী (স.) এর সামনে বীচি নেই। অথচ আলীর সামনে বীচির স্তূপ। হযরত আলী কিন্তু এদিকে খেয়াল করেননি। তার চোখে ধরা পড়েনি বিষয়টি। শুরু হলো কৌতুক।

প্রিয় নবী (স.): যার সামনে খেজুরের বীচি বেশি, সেই খেয়েছে বেশি।

প্রিয় নবীর একথা শুনে খেয়াল হলো আলীর।

তিনি চেয়ে দেখলেন যে, কোনো বীচি মহানবী (স.) এর সামনে নেই। সব বীচি জমা হয়ে আছে তার সামনে। তিনি বুঝতে পারলেন রহস্য। তবে একনজর দেখে নিয়েই তৎক্ষণাৎ তিনি জবাব দিলেন, যা ছিল বাস্তবভিত্তিক ও সূক্ষ্মজ্ঞানের পরিচায়ক ও রসেভরা মধুময়। কৌতুক হলেও নবীজী (সাঃ) এর আদব রক্ষা করে উম্মতের কিভাবে কথা বলা উচিত, তাও কিন্তু আলী (রাঃ) ভুলে যাননি।

আমরা হলে হয়তো এমন পরিস্থিতিতে বলে ফেলতাম, আপনি বীচি রেখেছেন আমার সামনে, আবার আমাকে বলছেন, আমি বেশি খেয়েছি। বা বলতাম, কেনো আমার সামনে বীচি রেখেছেন? যা নবীজী (স.) এর মর্যাদার পরিপন্থী হয়ে যেতো। হযরত আলী (রাঃ) এসব কোনো জবাব না দিয়ে নবীজী (স.) যেমন সম্বোধনহীন প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, তেমনি তিনিও সম্বোধনহীন পরোক্ষ জবাব দিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও বিনায়বনত কণ্ঠে:

আলী (রা.): যার সামনে বীচি নেই, তিনি বীচিসহই খেজুর খেয়েছেন ।

ভেবে দেখার বিষয়, প্রশ্ন ছিল বেশি খাওয়া নিয়ে আর উত্তর হলো বীচিসহ খাওয়া নিয়ে। হয়তো আলী (রাঃ) বেশি খেয়েছিলেন। তাই তিনি পাশ কাটিয়ে গেলেন।

এ জন্য কে রাখলো বীচি বা নবীজী (স.) এর খাওয়া বীচি কোথায় গেল, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না আলী। অথচ কৌতুকের জবাব কৌতুকসুলভই হলো। ওদিকে নবুওতী মর্যাদার খেলাফও হলো না।

আলী (রাঃ) এমন সুসংহত জবাব দিবেন তাৎক্ষণিকভাবে তা হয়তো নবীজী (স.) ভাবতে পারেননি। তাই বিস্ময়ে তিনি আলীর দিকে চেয়ে, হাসতে লাগলেন স্বভাবসুলভ মুচকি হাসি।

প্রশ্নটা কিন্তু রয়েই গেল-বেশি খেয়েছেন কে?

উপহার হিসাবে পেলেন জুলফিকার

অমৃতবাজার/সবুজ