ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিচক্ষণ হযরত আলী (রা.) বিচার-৪


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৪১ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার
বিচক্ষণ হযরত আলী (রা.) বিচার-৪

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ঘনিষ্ঠ অনুসারী যে চারজন বিশেষ মর্যাদাবান সাহাবী খোলাফায়ে রাশেদীন হয়ে মুসলিম উম্মার কাছে সম্মানিত, হযরত আলী (রাঃ) হলেন তাদের অন্যতম। তিনি মহানবী (স.) এর জামাতা। তিনি যেমন ছিলেন বীর যোদ্ধা তেমনি ছিলেন জ্ঞানী ও বিদ্বান। রাসূল (সাঃ) তাঁকে ‘জ্ঞানের দরজা’ আখ্যায়িত করেন। একবার আরবের কিছু জ্ঞানী লোক অনেক তার দরবারে হাজির হলো চিন্তা করে হযরত আলী (রা.) কে প্রশ্নের মাধ্যমেপরাজিত করার উদ্দেশ্যে। তাদের মধ্যে ছিল একজন দলনেতাসহ দশ জন প্রশ্নকারী।

দলনেতা বললে: হে আমিরুল মুমেনিন! আপনি খুব জ্ঞানের অধিকারী। তাই আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই, যদি আপনি অনুমতি দেন।

হযরত আলী বললেন, প্রশ্ন করবেন, এতে অনুমতির প্রয়োজন নেই, বলুন কী আপনার প্রশ্ন।

দলনেতা বললেন বলুন তো সম্পদ ও জ্ঞানের মধ্যে কোনটি উত্তম এবং কেন?

হযরত আলী (রা.) বললেন: তাহলে শুনুন...

দলনেতা বললো: জনাব, আরও একটা কথা বলতে চাই, যেহেতো আমরা দশজন, তাই আমরা প্রশ্নটির পৃথক পৃথক দশটি জবাব চাই। অর্থাৎ প্রশ্ন একটি, কিন্তু জবাব দশটি।
হযরত আলী (রা.) সাথে সাথেই শুরু করে দিলেন।

১। নবী ও রাসূলগণ জ্ঞানের তাকিদ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে সম্পদের উপর তাগিদ দিয়েছিল ফেরাউন, নমরুদ, কাফির, মুশরিকগণ। তাই জ্ঞানই উত্তম।

২। সম্পদ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়, অপর দিকে জ্ঞানকে পাহারা দিয়ে রাখতে হয় না, বরং জ্ঞানই মানুষকে পাহারা দেয়। তাই জ্ঞানই উত্তম।

৩। সম্পদ মানুষের মধ্যে বৈরিতার সৃষ্টি করে অপর দিকে জ্ঞান পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে। সুতরাং জ্ঞানই উত্তম।

৪। সম্পদ বিতরণে তা হ্রাস পায় কিন্তু জ্ঞান বিতরণে হ্রাস তো পায়ই না বরং বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। তাই জ্ঞানই উত্তম।

৫। জ্ঞানের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে কোনোরূপ কৃপণতা থাকে না বরং জ্ঞানীর মন থাকে উদার। পক্ষান্তরে সম্পদ মানুষকে কৃপণ করে তাই জ্ঞান উত্তম।

৬। সম্পদ হারানোর ভয় থাকে, চুরি হয়ে যেতে পারে। কেড়ে নেয়া যেতে পারে। পক্ষান্তরে জ্ঞান কখনো হারানোর ভয় থাকে না, চুরি করা যায় না, কেড়ে নেয়া যায় না, বরং জ্ঞান মানুষকে নিরাপত্তা দান করে অতএব জ্ঞানই উত্তম।

৭। জ্ঞানের ধ্বংস নেই, ইহা উপার্জনের পর নষ্টও হয় না। পক্ষান্তরে সম্পদ সহজেই ধ্বংস ও নষ্ট হয়ে যায়। তাই জ্ঞানই উত্তম।

৮। জ্ঞান সর্বপ্রকার মাপ-জোকের বাইরে। তাই উহার সীমা পরিসীমা নেই। পক্ষান্তরে সম্পদ সীমাবদ্ধ বিধায় আকার আয়তন ঠিক করা যায় এবং উহা খোয়া যায়। তাই জ্ঞানই উত্তম।

৯। জ্ঞান মানুষের অন্তরকে আলোকিত ও উজ্জ্বল করে। পক্ষান্তরে সম্পদ মানুষকে কুলষিত ও কদর্য করে। তাই জ্ঞানই উত্তম।

১০। জ্ঞান মানুষকে মানবদরদী করে, অথচ অটেল সম্পত্তির মালিক হয়েও মানবদরদী হতে পারে না। বিধায় সম্পদ মূল্যহীন। তাই জ্ঞানই উত্তম।

এতটুকু বলে থামলেন। হযরত আলী (রা.) ইচ্ছা করলে আরো কারণ বলতে পারতেন। দশটি কারণের উল্লেখ থাকায় থেমে গেলেন।

এটাই তার মহাজ্ঞানের পরিচয়। শুধু এঘটনা নয়, বরং এ ধরণের হাজারো জ্ঞানদীপ্ত ঘটনা তার জীবনীতে পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহপাক আমাদেরকে এ ধরণের ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন।

অমৃবাজার/সবুজ