ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিচক্ষণ হযরত আলী (রা) বিচার পর্ব- ২


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৮, বুধবার
বিচক্ষণ হযরত আলী (রা) বিচার পর্ব- ২

হযরত আলী (রা.) ছিলেন মহান গুণের অধিকারী। মুসলিম জাতির মর্যাদা ও গৌরব সমুন্নত করতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। হযরত ওমর (রা.) সময় একটি ঘটনা। এক ব্যক্তি ওমর (রা.) দরবারে উপস্থিত হয়ে নির্ভীক চিত্তে খলিফাকে উদ্দেশ্য করে বললো, নিশ্চয় আমি ফিতনাকে ভালোবাসি, হককে অপছন্দ করি এবং যা দেখিনি, তার সাক্ষ্য প্রদান করি।

এত বড় সাহস খলিফা ওমরের দরবারে। মহানবী (সা.) সময় মুসলিম উম্মার মধ্যে আল্লাহর নির্দেশ পালনে কঠোরতম ব্যক্তি বলেছেন তিনি। তার সামনে থেকে কি এই ব্যক্তি রেহাই পেতে পারে? সে নিজেই তিনটি অন্যায়ের স্বীকৃতি প্রদান করছে।

প্রথম কথা: যে ফিতনাকে ভালোবাসে, যে ভালোবাসার কোনো প্রশ্নই ওঠতে পারে না।

দ্বিতীয় কথা: যে হক অপছন্দ করে, অথচ হককে পছন্দ করাই স্বাভাবিক।

তৃতীয় কথা, যে না দেখে সাক্ষ্য প্রদান করে, যা গুরুতর অন্যায়।

তাই খলিফা ওমর (রা.) তখনই তাকে বন্দী করে পাঠালেন কারাগারে। লোকটি তার বক্তব্যে কোনো ব্যাখ্যা দিলোনা। আবার খলিফা এই ব্যপারে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন বিধায় কোনো রকম সাক্ষ্য প্রমাণের প্রয়োজন মনে করা হলো না। চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো সংবাদটা। মহান খলিফা ওমর, যিনি সত্য প্রতিষ্ঠায় আর অন্যায় মিথ্যা দূরীকরণে বজ্রকঠোর তার সামনে এমন নির্ভয় স্বীকারোক্তি করে লোকটা শুধু অন্যায়ই করেনি, এর জন্য শুধু জেল নয়, আরো কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। জনগণ তার সে কঠিন শাস্তির দিন গুনছে।

মহাজ্ঞানী ও সূক্ষ্মদর্শী হযরত আলী (রা.) এই ঘটনা শুনতে পেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলেন লোকটির কথার মর্ম। তিনি চলে গেলেন ওমরের দরবারে। শুরু করলেন কথাবার্তা।

হযরত আলী: হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি অন্যায়ভাবে লোকটিকে বন্দী করেছেন।

খলিফা: কেন? তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার, সে কঠিন তিনটি অপরাধ করেছে।

হযরত আলী: লোকটি বলেছে, আমি ফিতনাকে ভালোবাসি। এর দ্বারা সে বুঝাতে চাচ্ছে যে, সে সম্পদ ও সন্তানকে ভালোবাসে। কেন না, আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের সম্পদরাজি ও সন্তানাদি হচ্ছে ফিতনা।

লোকটি আরো বলেছে যে, সে হককে অপছন্দ করে। এ কথার দ্বারা সে বুঝাচ্ছে যে, সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে। যা অবশ্যই হক ও চিরসত্য। কেন না, আল্লাহ বলেছেন, মৃত্যু যন্ত্রণা অবশ্যই আসবে।

তৃতীয় কথা, লোকটি বলেছে, আমি যা দেখিনি, তা সাক্ষ্য দেই। একথার অর্থ হলো, সে এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ আছেন এবং এক, অথচ সে তাকে দেখেনি।

হযরত আলী (রা.)-এর এই কথা শুনে খলিফা ওমর (রা.) লোকটির কথার মর্ম বুঝতে পারলেন এবং তখনি চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘হায়! যদি না হতো আলী, তাহলে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতো ওমর।’ এরপর কি আর লোকটি হাজতে থাকতে পারে? সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়া হলো। লোকমুখে চারদিকে প্রচারিত হতে লাগলো হযরত আলী (রা.)-এর তত্ত্বজ্ঞান আর অসাধারণ বিচার ক্ষমতা।

অমৃতবাজার/সবুজ