ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিনম্র শ্রদ্ধায় গ্রিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ১০:৫৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার
বিনম্র শ্রদ্ধায় গ্রিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিনম্র শ্রদ্ধা এবং উৎসাহ ও উদ্দীপনায় প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গ্রিসে পালিত হলো মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে এথেন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা ওমানিয়ার কুমুদ্রু পার্কে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শহিদ মিনারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনের ভাষা শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটি উদ্্যাপনের সূচনা হয়।

দিবসটি পালনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে যার মধ্যে ছিলো ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও ভাষা আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, বাণী পাঠ, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, দূতাবাসে ২১শে ফেব্রুয়ারির মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান, এথেন্সে হালান্দ্রি মিউনিসিপালিটি এর সাথে যৌথভাবে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-এর তাৎপর্যের উপর বিশেষ আলোচনা এবং এথেন্সের বাংলাদেশি স্কুল ও একটি গ্রিক স্কুলের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উপস্থাপন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

"

একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এথে›েস বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দূতাবাসের কাউন্সেলর মো. খালেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে বক্তারা মহান একুশের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একযোগে দেশ গড়ার কাজ করার উপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল চেতনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান। রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের অমূল্য ভূমিকা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে, কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও ঐকান্তিক উদ্যোগের ফসল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ^ব্যাপী শতাধিক দেশ পালন করছে।

গ্রিক ও প্রবাসী বাংলাদেশি প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ দূতাবাস দিনব্যাপী কর্মসূচি বিন্যস্ত করে। কর্মসূচির মধ্যে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও হালান্দ্রি মিউনিসিপালিটি এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের শিশু-কিশোররা তাদের নিজ নিজ দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। এবারের একুশের মূল লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গ্রিক জনগোষ্ঠী বিশেষত কিশোর ও তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যা দূতাবাসের ‘ভবিষ্যত প্রজন্মে বিনিয়োগ’ কর্মসূচির অংশ।  বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হালান্দ্রি মিউনিসিপালিটি এর ভাইস মেয়র, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং বিশ^ব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা মাতৃভাষার দাবী ও পৃথিবীর সকল ভাষাভাষীর জন্য একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।  এরপর, বাংলাদেশ দূতাবাস পরিবার, এথেন্সের দোয়েল একাডেমি, বাংলা-গ্রিক শিক্ষা কেন্দ্র এবং হালান্দ্রি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে উপজীব্য করে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দু’দেশের নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ মাতৃভাষার গুরুত্ব ও সমৃদ্ধশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে তাদের বিভিন্ন উপস্থাপনার মাধ্যমে। অনুষ্ঠান শেষে এগারোটি দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে খাদ্য বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঐক্যের ধারণা তুলে ধরা হয়।

"
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এথে›স শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুমুদ্রু পার্কে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের উদ্যোগে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমবেত কণ্ঠে গাওয়া ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমগ্র কুমুদ্রু পার্কে অনুরণিত হয়। এরপর গ্রিসের বাংলাদেশ কমিউনিটি এবং এথে›েস বসবাসরত বিভিন্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। কুমুদ্রু পার্কে একুশের প্রথম প্রহরে শত শত বাংলাদেশিদের স্বতঃর্স্ফুত অংশগ্রহণ পার্কে বয়ে আনে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ। এছাড়া, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দূতাবাসের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় গ্রিক নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।