ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশি দু`পক্ষের সংঘর্ষ


পর্তুগাল সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮:৩১ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৩০ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশি দু`পক্ষের সংঘর্ষ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাংলাদেশি দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ছুরিকাহত একজনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শনিবার পর্তুগাল সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় (মার্তৃম-মনিজ/মুরারিয়া) এই সংঘর্ষ হয়। আহতদের দ্রুততম সময়ে লিসবনের সাও জোসে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি দুই ব্যবসায়ীর মাঝে চলতে থাকা বিরোধের জের ধরে এই হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে । একপর্যায়ে দুই পক্ষের প্রায় চল্লিশজনের মতো হামলায় জড়িয়ে পড়েন। গেল বছরের সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের মাঝে প্রথম মারামারির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে দীর্ঘ সময় এই বিরোধের জেরে গেল শনিবার তাদের দুই পক্ষের মাঝে আবারও সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষের পরপরই সেখানে পুলিশ পৌঁছে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিক সূত্র সেখানে গোলাগুলির শব্দ শোনার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন। পরে সেখানে পৌঁছে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের বেশ কিছু ইউনিট। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লিসবনের সান্তা মারিয়া মাইওর জইন্তার প্রেসিডেন্ট ড. মিগুয়েল কোয়েলো।

এতে করে পর্তুগালের লিসবনে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশিদের মাঝে বেশ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। তারা কঠোরভাবে এমন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে এই হামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্তুগিজ কিছু মিডিয়ায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে লিসবনে বাংলাদেশি দুই পক্ষের মারামারিকে দাবি করা হয় ধর্মীয় রেষারেষি থেকে সৃষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে এবং সেখানে একটি রিসার্চ জরিপ দেখানো হয় অভিবাসীদের মাঝে এমন অনাকাঙ্খিত মারামারি তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও অভিমত প্রকাশ করা হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশি কিছু সংবাদ মাধ্যমে এই হামলায় একজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর ছডিয়ে পড়ে। যে খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের হামলা বলেও চালিয়ে দেয়া হয়। সৃষ্ট হামলার দুই পক্ষের মূল হোতাগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বে থাকলেও এই হামলার সাথে রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন নেই। হামলা সংঘঠিত হয় তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে।

এদিকে হামলা পরবর্তী সময়ে আতঙ্কের মাঝে রয়েছে পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এবং অভিবাসন প্রত্যাশায় এদেশে আসা নতুন বাংলাদেশিরা। এমন হামলার জেরে পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটির সম্মানহানির পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য আগামী দিনে অভিবাসন বিভিন্ন ইস্যুতে কঠোরতা আরোপ করার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং এহেন ঘটনার যেনো পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে কমিউনিটির মানুষেরা।

অমৃতবাজার/নাঈম/আরইউ